অসুস্থতার কথা মাথায় রেখে বিশেষ শর্তে জামিন দেওয়া হল ভারভারা রাও-কে

নিজস্ব প্রতিবেদন: স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেই ভীমা কোরেগাঁও মামলায় কবি ও সমাজকর্মী ভারভারা রাওকে জামিন দিল বম্বে হাইকোর্ট। ৬ মাসের জন্য জামিন ৮১ বছর বয়সি ভারভারার জামিনের আর্জি মঞ্জুর করেছে আদালত। তবে বিচারপতি এস এস শিণ্ডে ও বিচারপতি মণীশ পিতালের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, জামিনে মুক্ত থাকাকালীন মুম্বই ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে পারবেন না ভারভারা এবং যখনই প্রয়োজন হবে, তাঁকে তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে। সাথে নানাবতী হাসপাতাল থেকে ভারভারাকে ছেড়ে দেওয়ার কোথাও বলেছে আদালত। ২০১৮ সালে ভীমা কোরেগাঁও মামলায় গ্রেফতার হওয়া ভারভারা এতদিন জেলে বন্দি ছিলেন। তারপর তাঁর করোনা হয় এবং তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। অসুস্থতার জন্যই তাঁকে জামিন দিলেন আদালত।

আড়াই বছর তিনি জেলেই কাটিয়েছেন। জেলে কাটানোর সময় বারবার তিনি জামিনের জন্য আবেদন করলেও জামিন মেলেনি। অবশেষে শারীরিক অসুস্থতার জন্য সোমবার ৬ মাসের জন্য জামিন পেলেন সমাজকর্মী ভারভারা রাও। চিকিৎসার স্বার্থে তাঁর জামিন বম্বে হাই কোর্ট মঞ্জুর করেছে। আজ বম্বে হাইকোর্ট বলেছে, “আমাদের মনে হয়েছে, এক্ষেত্রে অবশ্যই জামিনের আবেদন মঞ্জুর করা উচিত। না হলে আমরা মানবাধিকারের রক্ষাকর্তা হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব এড়িয়ে যাব। সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে জীবনের অধিকারের মধ্যে স্বাস্থ্যের অধিকারের কথা বলা রয়েছে। ভারভারা রাওয়ের শারীরিক অবস্থা বিশেষ ভাল নয়। তাই তাঁকে জেলে ফেরত পাঠানো ঝুঁকির বিষয় হয়ে যাবে।” জেলে থাকাকালীন ভারভারা রাও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দু’বার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতেও হয়। বর্তমানে মুম্বইয়ের নানাবতী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভারভারা রাও-এর চিকিৎসার স্বার্থেই এদিন রাওয়ের জামিন মঞ্জুর করল হাই কোর্ট। তবে কয়েকটি শর্ত রেখেছে আদালত।

আদালত জানিয়েছে, “ভারভারা রাওকে তাঁর বাসস্থানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। যখনই প্রয়োজন হবে, শুনানির জন্য হাজিরা দিতে হবে তাঁকে। তিনি যাতে জামিনে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ নিয়ে অন্য কিছু করতে না পারেন, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি সশরীরে আদালত বা থানায় হাজিরা থেকে রেহাইয়ের আবেদন জানাতে পারেন। আদালত সেই আবেদন বিবেচনা করবে। স্থানীয় থানায় হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কলের মাধ্যমে তিনি উপস্থিতির প্রমাণ দিতে পারেন। ৬ মাস পরে তালোজা জেলে ফিরতে হবে তাঁকে। তবে তিনি জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন জানাতে পারেন।” উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে হত্যার ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে এবং মাওবাদীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে প্রবীণ অধ্যাপক এবং কবি ভারাভারা রাওকে ২০১৮ সালের ২৮ আগস্ট গ্রেপ্তার করা হয়। সে বছরের ১ জানুয়ারি ভীমা কোরেগাঁওতে দলিত বিজয় দিবস অনুষ্ঠানে ব্যাপক গন্ডগোলের পিছনে ভারভারা ছাড়াও আরও ৪ জন সমাজকর্মী জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ।

এলগার পরিষদ ও মাওবাদীদের সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগে ভারভারা সহ ১০ জন সমাজকর্মীকে গ্রেফতার করে পুণে পুলিশ। গত বছরের জানুয়ারিতে এই মামলা এনআইএ-র হাতে যায়। উক্ত মামলা এখনও চলছে। ১৩ জুলাই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা জানিয়ে ভারাভারা রাও-এর পরিবার জানান, চিকিৎসকদের আশঙ্কা ব্রেন ড্যামেজ হয়ে গিয়েছে তাঁর। তাঁরা আরও জানান, জেলবন্দি অবস্থায় তাঁর কোনওরকম ক্ষতি হলে সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রকেই দায়ী করা হবে। শেষ পর্যন্ত মুম্বই-এর একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ভারভারা রাওকে। এরপরেই চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর ব্রেন ড্যামেজ হয়ে গিয়েছে। কোভিড আক্রান্ত হওয়ার পর আরও তিনি অসুস্থ হয়ে যান, তাঁর মূত্রনালীতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। রাও-এর আইনজীবী জানান, ডায়পারেই ইউরিন এবং স্টুল পাস হচ্ছে। জেলের মধ্যে প্রায় ৭৫ দিন ধরে তাঁর ক্যাথিটার খোলা হয়নি। তারপরও আদালত কবির জামিনের আবেদন স্পষ্ট নাকচ করে দেয়।




%d bloggers like this: