অশোকনগরে তেলের বানিজ্যিক উৎপাদন করতে কেন্দ্রকে বিনামূল্যে জমি দেবে রাজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদন: কোনোরকম মূল্য ছাড়া কেন্দ্রকে জমি দেবে রাজ্য। রাজ্যে এবার শিল্প হবে। উত্তর চব্বিশ পরগনার অশোকনগরে মজুত তেলের বাণিজ্যিক উৎপাদন নিয়ে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে এমনই কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘আমরা চাই রাজ্যে শিল্প আসুক।‘ আরও ঘোষণা করলেন ‘অশোকনগরে তৈল ভাণ্ডার খননের জন্য যে পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করতে হবে তা আমরা কেন্দ্রকে বিনামূল্যে দেব। কেন্দ্রের সঙ্গে যৌথভাবে এই প্রকল্পের কাজ করতে পেরে খুশি রাজ্য সরকার।’

তথ্যসূত্রে জানা গিয়েছে, তেল ও গ্যাস উৎপাদন করার জন্য ১০০টি কুয়ো খনন করা প্রয়োজন এখন। যার জন্য রাজ্য সরকারের কাছ থেকে আপাতত সাড়ে তিন একরের মতো জমি পেয়েছে ওএনজিসি এবং তাতে খরচ হয়েছে প্রায় ৩৪০০ কোটি টাকা। কিন্তু, এই মুহূর্তে উৎপাদনের দিকে দেখলে দরকার আরও ২০ একর জমি।

যারমধ্যে জমি চেয়ে অশোকনগর পুরসভার কাছে আবেদন জানিয়েছে ওএনজিসি। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রকল্প এলাকার কাছেই রাজ্য সরকারের উদ্বাস্তু পুনর্বাসন দফতরের জমি রয়েছে। সম্ভবত ওই জমিই ওএনজিসি–কে দেবে রাজ্য সরকার। এর সঙ্গে সঙ্গে ওই জমিতে চাষ আবাদ করা স্থানীয় লোকজন ও অন্য ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলেও খবর।
এদিন নবান্নে এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অশোকনগরে তেলের ভাণ্ডার রয়েছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখার জন্য আমিই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে চিঠি দিয়েছিলাম। ওরা এখন এখানে এসেছে, তাই শিল্প হচ্ছে। শিল্প গড়ার জন্য জমি প্রয়োজন। ওরা সেই জমির দামও দিতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা সেই দাম নেব না। এখানে শিল্প হবে, এতেই আমরা খুশি।’ এর সঙ্গে সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আশাবাদী, দেউচা পাচামিতে কয়লা খনন প্রকল্প হচ্ছে আর তার সঙ্গে অশোকনগরেও তৈল ভাণ্ডার পাওয়া গিয়েছে। এই দুই প্রকল্পে প্রচুর কর্মসংস্থান তৈরি হবে একদিন। গোটা রাজ্যের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এতে উপকৃত হবে। এছাড়া রাজ্যের অর্থনীতিতেও অনেক বড়ো বদল আনবে এই সব প্রকল্প।




%d bloggers like this: