সিপিএমের থেকেও খারাপ অবস্থা হবে তৃণমূলের, কুণাল ঘোষের দিকে আঙুল তুললেন শোভন

নিজস্ব প্রতিবেদক: এবার তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষকে পকেটমার বললেন বিজেপি নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায়। দলের সদর দফতরের এক সাংবাদিক বৈঠকে একথা বলেন তিনি। সাংবাদিক বৈঠকে এদিন আরও বলেন কলকাতা জোনের ৫১টি আসনেই বিজেপি জিতবে। এর সঙ্গে জানান, তৃণমূলের পতন ঘটবে শীঘ্রই।
কিছুদিন আগেই শোভনের বিরুদ্ধে চিটফান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সরব হয়েছেন কুণাল। তিনি দাবি করেছেন, আইকোরের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন শোভন চট্টোপাধ্য্যায়। তাঁকে গ্রেফতারের জন্যেও সরব হয়েছেন তিনি। আরও বলেছেন, গ্রেফতারি এড়াতেই শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আপনারা জানেন তো বাসে পকেটমার ধরা পড়লে সে যেমন অন্য লোককে দেখিয়ে পকেটমার বলে দাবি করতে থাকে। এক্ষেত্রেও কিন্তু ঘটনা ঠিক একই রকম। এখানে কুণাল ঘোষ অভিযুক্ত। এমনকি দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন তিনি। সারদার মিডিয়ার সিইও হিসেবে মোটা টাকা মাইনেও নিতেন। এরকম এক পকেটমারকে মুখপাত্র করেছে তৃণমূল।’ তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ‘চিটফান্ড কেলেঙ্কারির পর কেটে গিয়েছে সাত বছর।

আর আমি বিজেপিতে যোগদানের পরেও ১৪ মাস কেটেছে। এখন কুণালের মনে পড়ছে এইসব কথা?’
তিনি এদিন বলেন, ‘২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে যে ২টি জেলা সিপিএমের বিরুদ্ধে মাথাচাড়া দিয়েছিল সেটি হল দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর। সেইসময় দক্ষিণ ২৪ পরগনার দায়িত্বে ছিলাম আমি। আর পূর্ব মেদিনীপুরে ছিলেন শিশিরবাবু। আমি দল ছেড়ে দিয়েছি। এদিকে অধিকারীদের সঙ্গেও দলের সম্পর্ক খুব খারাপ। এরপর বিধানসভা নির্বাচনের শেষে সিপিএমের থেকেও খারাপ অবস্থা হবে তৃণমূলের।’

এদিকে বিজেপিতে যোগদানের পর থেকেই শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ফোনে পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেন অনেকেই। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা কর্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। তার জন্য সাংবাদিক সম্মেলনে ক্ষমাও চান শোভন। এই বিষয়ে বলেন, ‘যেই হিসেবে শালীনতার মাত্রা ছাড়িয়ে ফোনে নজরদারি চালানো হচ্ছিল তা ভাবা যায় না। কোনো ব্যক্তিকে সুবিধে পাইয়ে দিতে টেলিফোনকে ব্যবহার করা হয়েছে।’

এছাড়াও শোভনবাবু জানান যে, তাঁকে যখন কলকাতা জোনের দায়িত্ব দেওয়া হয় তখন তিনি রাজ্যের বাইরে ছিলেন। সেদিন অনেক রাতের দিকে কলকাতায় ফেরেন। রাস্তায় থাকার সময়েই জানতে পারেন তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর নামের পাশে যে নম্বরটি দেওয়া ছিল সেটি বন্ধ করা ছিল সাময়িক ভাবে।

এর সঙ্গে শোভন চট্টোপাধ্যায় জানান যে, এবার থেকে সোম, বুধ ও শুক্রবার তিনি পার্টি অফিসে আসবেন। সেখানে সংগঠন নিয়ে দলের নেতা,কর্মীরা তার সঙ্গে আলোচনা করতে পারবেন।




%d bloggers like this: