করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ফের স্তব্ধ করতে পারে স্বপ্ননগরী, আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

0 1

নিজস্ব প্রতিবেদন: দেশে করোনার প্রকোপ কিছুটা কমেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। দেশের দৈনিক আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেশ কম। যা ফের স্বস্তি ফিরিয়েছে দেশবাসীর। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক হয়েছে দেশবাসীর থমকে পড়া জীবন যাপন। ফের উৎসবে মেতে উঠেছেন দেশবাসী। আর এর মধ্যেই আবার নতুবা করে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাণিজ্যিক শহর মুম্বইতে এই পরিণতির আশঙ্কাপ্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু ইদানিং মানুষ যে সতর্কতা অবলম্বন করা ছেড়ে দিয়েছে, তা বড়সড় বিপদ আনতে পারে, তা বলা যায়। সব জেনেও লোকাল ট্রেনে যাত্রার সময় বহু মানুষের মুখের মাস্ক ঝুলছে থুতনিতে। আর এই অসতর্কতার মাশুল দিতে হতে পারে মুম্বইবাসিদের, আর তা ছড়িয়ে পড়তে পারে অন্যান্য নগরীতেও।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ফের স্তব্ধ করতে পারে স্বপ্ননগরী। মুম্বইয়ের মেয়র কিশোরী পেডনেকর (Kishori Pednekar), এমনই আশঙ্কার কথা জানালেন। তিনি জানান, করোনার ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি রুখতে আগাম লকডাউন জারি করা হতে পারে। তবে তা কতখানি কড়া করতে হবে, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে সাধারণ মানুষের উপর। মুম্বইয়ের মেয়র আরও বলেন, “বহু ক্ষেত্রে করোনাবিধি মানছেন না অনেকে, যা চিন্তার বিষয়। যদি সাধারণ মানুষ সচেতন না হন এবং করোনাবিধি মেনে না চলেন সেক্ষেত্রে ফের লকডাইন ঘোষণা করা হতে পারে মুম্বইয়ে।” যদিও দেখা যাচ্ছে, সবমিলিয়ে দেশে কমছে করোনা সংক্রমণ। পাশাপাশি শুরু হয়েছে করোনা প্রতিরোধক টিকা বিতরণ। কিন্তু, মুম্বই তথা মহারাষ্ট্রে বাড়তে শুরু করেছে করোনা সংক্রমণ, আর এই বাড়তে থাকা করোনা সংক্রমণের হার চিন্তা বাড়াচ্ছে প্রশাসনের। সম্প্রতি মহারাষ্ট্র সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এমনকী, এরূপ ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

সে রাজ্যের উপ মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার জানান, বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দেখে সাধারণ মানুষ করোনা সম্পর্কিত স্বাস্থ্যবিধি অনেকক্ষেত্রে মেনে চলছে না। মাস্ক নেই, সোশ্যাল ডিস্টেন্স মানছেন না- যা সংক্রমণ বাড়ার একটি অন্যতম কারণ। তাঁর এই মন্তব্যের পর মুম্বইয়ের মেয়রের এরূপ সতর্কবাণী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সোমবার মুম্বইয়ে নতুন করে ৪৯৩ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত বাণিজ্যনগরীতে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ১৪ হাজার ৫৬৯ জন। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১১ হাজার ৪২০ জনের। এদিকে জানা যাচ্ছে, শুধুমাত্র গত রবিবার, একদিনেই মুম্বইয়ে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৬৪৫ জন, যা বিগত পাঁচদিনে সর্বাধিক। রবিবার সব মিলিয়ে মহারাষ্ট্রে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেনআক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৯২ জন, যা বিগত এক মাসের মধ্যে সর্বাধিক। সোমবার মুম্বই ছাড়াও নাগপুর এবং অমরাবতীতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪০০ জন, বলে জানা গিয়েছে।

সূত্রের খবর, দেশে ১৬ জানুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের ৮৫ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ২৩ লাখ ৬১ হাজার প্রথম সারির করোনা যোদ্ধা এবং ৬১ লাখ ৫৭ হাজার স্বাস্থ্য কর্মী করোনা টিকা পেয়েছেন। এছাড়াও কেন্দ্র বিভিন্ন দেশকে করোনা টিকার ১.৬ কোটি ডোজ সরবরাহ করেছে ভারত। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের জানিয়েছে, প্রথম সারির পর মোটামোটি মার্চ মাসের মধ্যে ৫০ ঊর্ধ্বদের টিকা দেওয়া শুরু হবে। দেশের এই করোনা টিকা ২৩ টি অন্য দেশে পৌঁছে যাচ্ছে, যার মধ্যে প্রথম দেশ বাংলাদেশ। অন্যদিকে গুজরাটে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কমানোর লক্ষ্যে চলতি মাস পর্যন্ত সে রাজ্যের চার শহরে নাইট কার্ফু জারি করল সেখানে সরকার। এই শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে আমেদাবাদ, সুরাট, ভাদোদরা ও রাজকোট, এখানে নাইট কার্ফু জারি থাকবে বলে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগেও এই সব শহরে চলছিল নাইট কার্ফু, আগের নির্দেশ অনুযায়ী ওই চার শহরে নাইট কার্ফুর সময়সীমা আজই শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ফের গুজরাটের স্বরাষ্ট্র দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পঙ্কজ কুমার জানিয়েছেন, ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মধ্যরাত থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কার্ফু জারি থাকবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: