দেশবাসীর কাছে দ্রুত আসতে চলেছে ভ্যাকসিন, বৈঠকে বসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন: আজ থাকে শুরু হল রাজ্যে করোনা ভ্যাকসিনের ড্ৰাই রান। আর তারপরই দেশের জনসাধারণের কাছে এই ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়ার কথা জানাল প্রধানমন্ত্রী। যদিও ইতিমধ্যে ভারতে চলে এসেছে করোনার নয়া স্ট্রেন। যা নতুন করে চিন্তায় ফেলেছে চিকিৎসকদের। কারণ এই ভাইরাস আগের থেকে আরও বেশি শক্তিশালী। তবে বিশেষজ্ঞরা আশস্ত করেছেন, এই ভ্যাকসিন নয়া স্ট্রেনের সঙ্গেও লড়াই করতে সক্ষম। করোনা ভ্যাকসিনের ড্রাইরানের বিকেলেই দেশবাসীর জন্য খুশির খবরের ইঙ্গিত। দেশের সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ১১ জানুয়ারি বিকেল চারটেয় বৈঠকে বসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই বৈঠকে দেশের সকল জনসাধারণের কাছে ভ্যাকসিন কিভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে সে নিয়েই হতে চলেছে আলোচনা।

আগেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, প্রথম দফায় স্বাস্থ্যকর্মী ও করোনা যোদ্ধাদের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। আগামী জুলাই মাসের মধ্যে দেশের ২৭ কোটি জনগণকে করোনার ভ্যাকসিন দিতে সক্ষম হবে কেন্দ্রীয় সরকার, এমনই আশা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক আসার এল দেখতে পারে। কয়েকদিনের মধ্যে দেশবাসীর কাছে পৌঁছে যাবে ভ্যাকসিন। দেশে করোনা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় দফার ড্রাই রান শুরু হয়েছে। এই উপলক্ষ্যে চেন্নাইয়ে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে হর্ষ বর্ধন বলেছেন, “অল্প সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন তৈরিতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। আশা রাখছি আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই দেশবাসীকে ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজও আমরা শুরু করে দিতে পারব।”

কয়েকদিন আগেই ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার (DCGI)-র পক্ষ থেকে দেশে তৈরি দুই ভ্যাকসিন কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিনকে গণ টিকাকরণের জন্য ছাড় দেওয়া হয়েছে। ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সিরাম ইনস্টিটিউট তৈরি করেছে কোভিশিল্ড। আর আইসিএমআর-এর সাথে কোভ্যাক্সিন তৈরি করেছেন ভারত বায়োটেক। গত শনিবার রাজ্যের তিন জায়গায় ড্রাই রান হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীদের কীভাবে ড্রাই রান করা হবে বোঝিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মীদের চূড়ান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়। পাশাপাশি জেলায় জেলায় যে সব ভ্যাকসিন স্টোর রয়েছে, তার সরঞ্জামও পরীক্ষা করে দেখা হয়। পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের অন্যান্য সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে ৭৩৬টা জেলায় করোনা ভ্যাকসিনের ড্রাই রান শুরু হয়েছে।

বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পর করোনার নতুন স্ট্রেন-আতঙ্কের মধ্যেই বিশেষ সুরক্ষার সাথে ব্রিটেন-ভারত উড়ান শুরু। লন্ডন থেকে দিল্লি ২৫৬ জন যাত্রীকে নিয়ে পৌঁছল এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান। দেশে নয়া এই স্ট্রেনে আক্রান্তর সংখ্যা বেড়ে ৮২। বিশেষ পর্যবেক্ষণের সাথে এই উড়ান চালু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে সাথে হচ্ছে করোনা টেস্টও। বিমানে করোনার ইউকে-স্ট্রেন আতঙ্ক ছড়াতেই গত ডিসেম্বর ইংল্যান্ডগামী ও সেদেশ থেকে আসা সকল উড়ান প্রবেশ নিষেধ করে ভারত। ফের চালু হতে গত পরশু ভারত থেকে একটি ফ্লাইট লন্ডনে পৌঁছয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী ঘোষণা করেছিলেন, ৮ তারিখ থেকে ভারত-ইংল্যান্ড বিমান পরিষেবা শুরু হবে। কেন্দ্র ঘোষণা করে, প্রতি বিমান সংস্থা সপ্তাহে সর্বাধিক ১৫টি ভারত-ব্রিটেন উড়ান চালাতে পারবে। তবে ২৩ জানুয়ারির পর থেকে প্রতি সপ্তাহে ৩০টি উড়ান চলাচল করতে পারবে।




%d bloggers like this: