দেশে শুরু হল করোনা ভ্যাকসিনের ড্ৰাই রান, অন্যদিকে দেশে বাড়ল দৈনিক মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদন: করোনায় বাড়ল ফের দেশে মৃত্যুর সংখ্যা। যদিও করোনা সংক্রমণের হার আগের থেকে অনেক কমেছে। একদিকে দৈনিক সংক্রমণ কমেছে, অন্যদিকে বেড়েছে দৈনিক সুস্থতার সংখ্যা। দেশে দৈনিক মৃত্যুতে মহারাষ্ট্র রয়েছে প্রথম স্থানে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে মৃত্যু হয়েছে ৭২ জনের। এরপর রয়েছে কেরল, সেখানে মৃত্যুর সংখ্যা ২৫। এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৮ জনের। করণের প্রকোপ আগের থেকে কিছুটা কমলেও দেশের করোনা আক্রান্তের সংখ্যা নেহাত কম নয়। দেশে এখনও পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্ত হয়েছে ১ কোটি ৪ লক্ষ ১৩ হাজার ৪১৭ জন। মৃত্যু হয়েছে ১ লক্ষ ৫০ হাজার ৫৭০ জনের।

এরমধ্যে করোনার নয়া স্ট্রেন এসে পৌঁছছে দেশে। এই স্ট্রেন আগের থেকে আরও বেশি শক্তিশালী। জানা গিয়েছে এর সংক্রমণ ক্ষমতাও বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় গোটা দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২৩৪ জনের। গতকাল দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২২২। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ হাজার ১৩৯ জন। গতকাল দেশে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৩৪৬। তবে সুস্থের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এরই মধ্যে করোনাকে জয় করে সুস্থ হয়েছেন ১ কোটি ৩৭ হাজার ৩৯৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় যে সুস্থের সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৫৩৯। গতকাল দেশে দৈনিক সুস্থতার সংখ্যা ১৯ হাজার ৫৮৭ ছিল। বর্তমানে দেশে মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সাথে সুস্থতার হার ৯৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

এও জানা গিয়েছে, দিল্লিতে করোনার ইউকে স্ট্রেনে সংক্রমিত হয়েছে আরও ৪ জন। রাজধানীতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩। আজ থেকে দেশে করোনা টিকা প্রয়োগ শুরু হয়েছে, পাশাপাশি আজ দুয়েকটি রাজ্য বাদে দেশের সর্বত্র শুরু হচ্ছে ভ্যাকসিনের ড্রাই রান। উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা ও অরুণাচল বাদে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে দেশের ৭৩৬টা জেলায় আজ করোনা ভ্যাকসিনের ড্রাই রান হবে বলে সূত্রের খবর। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন জানিয়েছেন, প্রথম দফায় এই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে স্বাস্থ্যকর্মী ও করোনা যোদ্ধাদের। করোনা ভ্যাকসিনের এই ড্রাই রানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, মূলতঃ জেলায় টিকা দেওয়ার পরিকাঠামো, টিকা সংরক্ষণ ও পরিবহণের ক্ষেত্রে কোল্ড চেন ব্যবস্থা ঠিক ভাবে কাজ করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার জন্য।

বৃহস্পতিবার নয়া দিল্লিতে ‘কোভিশিল্ড’ ভ্যাকসিনের প্রথম ব্যাচ এসেছে। পুণের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট এআই ৮৫০ বিমানে চেপে নয়াদিল্লি পৌঁছয় এই ভ্যাকসিনের কনসাইনমেন্ট। তারপরই দ্রুত সেই ভ্যাকসিন রাজীব গাঁধী সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। হাসপাতালে পৌঁছে ভ্যাকসিন বড় বা প্রধান স্টোরেজ ফেসিলিটি গঠন করা হয়েছে। জানা গিয়েছে ভ্যাকসিনগুলি ৬০০টি হিমঘরে পাঠানো হবে। এই কোভিশিন্ড অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছে। প্রতি জেলায় ৩ কেন্দ্রে এই ড্ৰাই রান হবে। তবে এটি আদোও কোন ভ্যাকসিন? অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড না ভারত বায়োটেকের কোভ্যাকসিন – তা নিয়ে ধন্ধে রয়েছে অনেকেই।




%d bloggers like this: