ধীরে ধীরে বিদায়ের পথে মারণ রোগ করোনা! গত তিন সপ্তাহে করোনাতে মৃত্যু ‘শূন্য’

নিজস্ব প্রতিবেদন: দেশ থেকে হয়তো ধীরে ধীরে বিদায়ের পথে হাঁটছে মারণ রোগ করোনা। অন্তত দেশের করোনা রিপোর্ট তাই স্পষ্ট করছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণ জানালেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মারণ ভাইরাসে কোনও প্রাণহানি হয়নি। জানা গিয়েছে, গত তিন সপ্তাহে ৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কারোর মৃত্যু হয়নি। পাশাপাশি আক্রান্তের হারও অনেক কমেছে। সোমবার বাংলায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১১৯ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। গোটা এক বছরে করোনার জেরে তছনছ হয়েগিয়েছে দেশের মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপন। ফের সেসকল সময় কাটিয়ে ছন্দে ফিরেছে মানুষ। দেশের আর্থিক দিকেও বেশ প্রভাব পড়েছিল এই এক বছরে। তবে কেন্দ্রের তাগিদে সে পরিস্থিতিও অনেকটা সঠিক পথে হেঁটেছে। তাই বলা যায়, করোনার কবল থেকে মুক্ত হয়েছে দেশবাসী।

দেশের অন্যান্য রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গেও করোনার প্রকোপ বেশ কমেছে। জানা গিয়েছে, রাজ্যে করোনায় সুস্থতার হার ৯৭.৪০ শতাংশ। করোনা প্রকোপ কমতে দেখে আগেই কেরালায় দশম-দ্বাদশের পড়ুয়াদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে স্কুল। যদিও তারপরই জানা যায়, মালাপ্পুরম জেলায় দু’টি স্কুলের দশম শ্রেণির ১৯২ জন পড়ুয়া করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। একইসঙ্গে মারণ ভাইরাস করোনার কবলে পড়েছেন ৭২ জন স্কুল কর্মীও। যে ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কিন্তু সবদিক বিবেচনা করে পশ্চিমবঙ্গেও স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, করোনা হার এখন বেশি কেরালায়। কেরালায় স্কুল খুলতেই আক্রান্ত হয়েছে দশমের ২০০ জন পড়ুয়া। যা বেশ উদ্বেগজনক।

উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে দেশে করোনা টিকা বিতরণ শুরু হয়ে গিয়েছে। গত ১৬ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে করোনার টিকাকরণ কর্মসূচি। ১৮ দিনে প্রায় ৪১ লক্ষ মানুষকে করোনা টিকা দিয়ে রেকর্ড করেছে ভারত, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। ভারতে বিশেষত প্রদান করা হচ্ছে সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার কোভিশিল্ড ও ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন-এই দুই টিকা। প্রথম পর্যায়ে এই করোনা টিকা দেওয়া হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মী ও করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে থাকা প্রথম সারির যোদ্ধারা। দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তি ও যাঁদের কো-মর্বিডিটি রয়েছে, তাঁদের প্রতিষেধক দেওয়া হবে। শোনা যাচ্ছে এবার প্রধানমন্ত্রী ও পঞ্চাশোর্ধ্ব মুখ্যমন্ত্রী ও রাজনীতিবিদরা এই টিকা নেবেন। পাশাপাশি দিল্লি এবং চিনে পাকিস্তানের হাই কমিশনের কূটনীতিকদের টিকা নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, বলা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই টিকাকরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য যোগাযোগ করা হয় কূটনীতিকদের সঙ্গে। ইতিমধ্যে সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েছেন ৫০ জন।

করোনা পরিস্থিতি পরিচালনায় ভারতের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী। নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, “যখন করোনাভাইরাস ছড়াল, তখন বহু বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, অতিমারিতে সবচেয়ে বেশি মূল্য চোকাতে হবে ভারতকে। কেউ কেউ বলেছিলেন, ৭০০-৮০০ মিলিয়ন মানুষ আক্রান্ত হবেন। কেউ আবার বলেছিলেন, দুই মিলিয়নের বেশি মানুষের মৃত্যু হবে ভারতে। তবে দেশবাসীর সহযোগিতায় সেই আশঙ্কা বাস্তবে রূপায়িত হতে দিইনি”।করোনা টিকাকরণের প্রসঙ্গ টেনে মোদীর মতে, ‘বিশ্বের সর্ববৃহৎ টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু করেছে ভারত।’ মাত্র ১২ দিনে ২৩ লাখেরও বেশি স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকাদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মতো বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ভারতের টিকা পাঠানো হয়েছে। তারপর একে একে অন্যান্য প্রতিবেশী দেশে পাঠানো হয়েছে এই টিকা। যার মধ্যে রয়েছে মঙ্গোলিয়া, ওমান, বাহরিনের মতো আরও ২১টি দেশ৷ এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল বার্বাডোজ, আর ডমিনিকার নাম। ‘ভ্যাকসিন মৈত্রী’র অংশ হিসেবেই মোদী ওই দুই দেশে ভ্যাকসিন পাঠাল। ইতিমধ্যে ওই দুই দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে সেরাম ইন্সস্টিউট অব ইন্ডিয়ার দুটি ভ্যাকসিন কনসাইনমেন্ট।




%d bloggers like this: