কোবরা কম্যান্ডো বাহিনীতে এবার যুক্ত হতে পারে মহিলা জওয়ানেরা, খতিয়ে দেখছে সিআরপিএফ

নিজস্ব প্রতিবেদন: জঙ্গল যুদ্ধে এবার মহিলা জাওয়ানরাও যুক্ত হতে চলেছে। বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কোবরা কম্যান্ডো বাহিনীতে এবার সিআরপিএফ মহিলা জওয়ানদের যুক্ত করতে পারে। সিআরপি ডিজি আনন্দ প্রকাশ মাহেশ্বরী এক সংবাদ সংস্থাকে জানান, মহিলাদের এবার থেকে কোবরা বাহিনীতে যুক্ত করার ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। কয়েক কোম্পানি আবার উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে মোতায়েন রয়েছে কোবরা ফোর্স, এই কোবরা ফোর্স মূলত মাওবাদী অধ্যুষিত রাজ্যগুলিতে কাজ করে। দিনরাত প্রধানত বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন দমনে কাজ করছে তারা। এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে সিআরপিএফ-এর ডিজি জানান, ইউএভি, ট্র্যাকার এবং এসাল্ট রাইফেল নেওয়া হয়েছে। সিআরপিএফ বাহিনী আরও শক্তিশালী হবে। এছাড়াও কে৯ টিমকে শক্তিশালী করার জন্য একটি কুকুরের প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বেঙ্গালুরুতে রয়েছে।

এই কোবরার পুরো নাম ‘কম্যান্ডো ব্যাটেলিয়ন ফর রেজলিউট অ্যাকশন’। ১০টি কোবরা ইউনিটে ১২,০০০-এর বেশি জওয়ান সংখ্যা রয়েছে। এই বাহিনী তৈরী করা হয়েছিল ২০০৯ সালে সিআরপিএফ বন জঙ্গলে ইনটেলিজেন্স বেসড অপারেশনের জন্য। এই বাহিনীতে এবার মহিলাদের যোগ নেওয়া হবে, এবং তা যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে। কোবরা বাহিনীতে যে জওয়ানরা কাজ করেন, তাঁদের সকলকেই অত্যন্ত কঠোর মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষায় পাশ করতে হয়। মহিলাদের সেই পরীক্ষায় পাশ করতে হবে। তাদের জন্য কোনও আলাদা ছাড় নেই। সকল মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতার সাথে তারা এই কাজ করবেন। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনটাই জানিয়েছেন কোবরা ব্যাটেলিয়নের চিফ এ.পি.মাহেশ্বরী।

বর্তমানে ভিআইপি নিরাপত্তা শাখার দায়িত্ব ক্রমশ বাড়ছে। তাই তাঁদের কম্যান্ডোদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা সেরাদের সারিতে নিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান সিআরপি প্রধান মাহেশ্বরী। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় একটি ভিন্ন একটি এজেন্সি স্পেশাল প্রটেকশন গ্রূপ বা SPG যুক্ত রয়েছে, সেই কম্যান্ডোদের অসামান্য দক্ষতাই এ ক্ষেত্রে তাঁদের মাপকাঠি। এই মুহূর্তে ৬২ জন ভিআইপির নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে সিআরপি। এসকল ভিআইপিদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা, কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গাঁধী, তাঁর দুই ছেলে মেয়ে রাহুল গাঁধী এবং প্রিয়ঙ্কা গাঁধী ভঢরা। পাশাপাশি সিআরপির দায়িত্বে রয়েছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের নিরাপত্তাও।

গত বছর ২০২০- তে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ)-এর হাতে জম্মু-কাশ্মীরে ২১৫ জন সন্ত্রাসবাদী নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে কুখ্যাত জঙ্গি রিয়াজ নাইকো-র নামও। ১৯৮৬ সালে প্রথম নারীদের জন্য দরজা উন্মুক্ত করেছিল সিআরপিএফ। ছয়টি ইউনিট নিয়ে ‘মহিলা’ দের জন্য বরাদ্দ থাকলেও এতদিন তাঁদের কোনও স্পেশ্যাল অপারেশনে ব্যবহার করা হয়নি। ১৯৮৬ সাল থেকে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সে মহিলা কর্মীরা মুখোমুখি সংঘর্ষের কাজে যুক্ত রয়েছেন। সে সময়ে এদের প্রথম মহিলা ব্যাটেলিয়ন তৈরি হয়। এখনও পর্যন্ত এদের ৬টি এমন ইউনিট রয়েছে। বর্তমানে সিআরপিএফের কর্মী সংখ্যা ৩.২৫ লাখের মত।mদেশের অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার কাজে সিআরপি জওয়ানরা যুক্ত রয়েছেন। এটি দেশের সব থেকে বড় আধা সেনা বাহিনী। উল্লেখ্য, এবার ভারতের প্রথম যুদ্ধবিমানের পাইলট হিসেবে প্রজাতন্ত্র দিবসে অংশগ্রহণ করছেন লেফটেন্যান্ট ভাবনা কান্থ। এবার অবনী চতুর্বেদী ও মোহনা সিংয়ের সঙ্গে প্রথম যুদ্ধবিমান চালিয়েছিলেন ভাবনা কান্থ। স্পেশাল কম্ব্যাট মিশনের জন্য নির্বাচিত হয়ে ২০১৯ সালে ইতিহাস গড়েছিলেন ভাবনা।




%d bloggers like this: