শবনমের ফাঁসি হয়নি , যাচাই করবে কোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদন: দোরগোড়ায় এসেও রুখে গেল প্রথম মহিলা কয়েদির ফাঁসি। নাটকীয় মোড় এল বহুল আলোচিত প্রথম মহিলা কয়েদির ফাঁসির মামলায়। সব শেষের মুখেও ক্ষীণ আশার আলো দেখতে পেল শবনম। উত্তরপ্রদেশের মহিলা জেলে ফাঁসির সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু তারপর কার্যকর হল না শবনমের মৃত্যুদণ্ড (Shabnam Hanging Case)। এমনকী এরপর কবে ফাঁসিহবে, সে সম্পর্কেও কোনও তথ্য মিলল না। জেল তরফে জানানো হয়েছে, এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। সাত খুন করেও আইনি ফিতের ফাঁসেই শবনমের জীবনের মেয়াদ আরও কয়েকদিন বাড়ল। যা নিয়ে ফের চর্চা শুরু হয়েছে।

যদিও আদালতের পক্ষ থেকে শবনমের ফাঁসি খানিক বিলম্ব হলেও, ফাঁসির আশায় বসে অনেকেই। উক্ত এই কেস নিয়ে কমছে না কারোর আগ্রহ। মৃত্যুদণ্ড হলে স্বাধীন ভারতে শবনমই প্রথম, আর খারিজ হলে স্বাধীন ভারতে ফাঁসিকাঠে পৌছনো প্রথম মহিলা শবনমই হতে চলেছেন। এদিকে মায়ের সাত খুন মাফ করে মৃত্যুদণ্ড রদ করতে আর্জি ছেলের। অন্যদিকে, শবনমের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ফাঁসির চেয়েও কঠিন মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানাচ্ছেন। প্রেমের জোয়ারে ভেসে একের পর এক খুন! নৃশংস ওই হত্যার কথা ভুলতে পারছেন তাঁর পরিবার।

শবনম ক্ষমা প্রার্থনার আর্জি জানিয়েছিলেন, কিন্তু জানা গিয়েছে রাজভবন থেকে এখনও কোনও উত্তর আসেনি। অন্যদিকে, সরকারি উকিল আমরোহার সাত সাতটি খুনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত শবনমের ডেথ ওয়ারেন্ট জারির জন্য জেলা জজ আদালতে আপিল করেছেন। শবনমের মামলার সমস্ত রিপোর্টও জমা করা হয়েছে। সমস্ত রিপোর্ট খতিয়ে দেখেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যাপারে পরবর্তী নির্দেশ দেবে কোর্ট বলে সূত্রের খবর। শবনমের কোনও আপিল যদি বিচারাধীন থাকে তাহলে তার তদন্ত হবে ও শবনমের মৃত্যু শমন জারি করা যাবে না। মৃত্যুদণ্ড পালনের অন্তিম নির্দেশ সমস্ত আপিলের জবাব আসার পরই জারি হবে। শবনমের ফাঁসির সাজা কার্যকর হবে ডেথ ওয়ারেন্ট ইস্যু করার ১০ দিনের মধ্যেই।

ছেলে সাত খুন মাফ চাইলেও ভাইঝির প্রতি কোনও সমবেদনাই নেই কাকিমার। কবে নিজের কৃতকর্মের জন্য সাজা পাবেন শবনম, তারই জন্য দিন গুনছেন তাঁর পরিজনেরা। তাঁর ফাঁসি কবে হবে, তারই প্রশ্ন উঠে আসছে বারংবার। শবনমের শিক্ষক পিতার সঙ্গে তাঁর ভাই একই বাড়িতেই থাকতেন। এরূপ নৃশংস মৃত্যুর ঘটনা এখনও ভুলতে পারেননি ঘটনার পরেরদিনের বীভৎস দৃশ্য। শবনমের কাকা সন্তর আলি বলেন, কতটা নির্মম নিষ্ঠুর হলে নিজের রক্তের সম্পর্কের মানুষগুলোর গলা এভাবে কেউ কাটতে পারে। ফাঁসিকাঠে যতদিন না ওই মেয়েকে লটকানো হচ্ছে ততদিন শান্তি পাবে না পরিবারের কেউ, বলেন স্ত্রী। কাকিমার দাবি, বরং সৌদি আরবের মত নৃশংস পদ্ধতিতে ওর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে উপযুক্ত দণ্ড হত শবনমের।

এই প্রথমবার স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে কোনও মহিলা অপরাধীর ফাঁসির সাজা কার্যকর হতে চলেছে। ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী বিরল থেকে বিরলতম নৃশংসতার ঘটনায় প্রাণদণ্ডের সাজা শোনায় আদালত। শবনম বিরলতম নৃশংসতার সংজ্ঞাতেই দোষী সাব্যস্ত। একই মামলায় অভিযুক্ত প্রেমিক সেলিমের কেস বিচারাধীন থাকায় মনে করা হচ্ছিল পিছিয়ে যেতে পারে শবনমের ফাঁসি। যদিও জানা যায়, একদিন আগেই তিনি ১২ বছরের নাবালক ছেলের কাছে আক্ষেপ করেছিলেন। তিনি বলেন, মামলার তদন্ত সিবিআই করলে ফলাফল অন্যরকম কিছু হত।




%d bloggers like this: