India's digital live news portal provide you Today bengali news, Current breaking, bangla news story, (বাংলা খবর) and kolkata news in one place.

মোদী সফরের পরেই উত্তেজনা, মাদ্রাসা পড়ুয়াদের ঢাল করে বাংলাদেশে হেফাজতের তান্ডব

কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের পরপরই গত কয়েকদিন ধরেই উত্তপ্ত বাংলাদেশ ৷ পাক মদদমপুষ্ট কট্টরপন্থী মুসলিম মৌলবাদী সংগঠন হেফাজতে ইসলাম সেখানে দফায় দফায় প্রতিবাদ মিছিল করেছে ৷ ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে মন্দির সহ সরকারী স্থাপনায় ৷ তাদের তান্ডবে বিভিন্ন জেলায় যানবাহন সহ সরকারী – বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছে ৷

হেফাজতের তান্ডব থেকে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন একাধিক পুলিশ সদস্য ৷ যদিও সরকার বলছে , হেফাজতের এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে তারা কঠোর অবস্থানে যাবে ৷

গত শুক্রবারই স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী ৷ প্রথম থেকেই মোদীর বিরোধীতা জানিয়ে হুশিয়ারী দিয়ে আসছিলো বেশকিছু কট্টরপন্থী মৌলবাদী সংগঠন ৷ মোদীর ঢাকায় অবস্থানের দিনই জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম থেকে গো ব্যাক মোদী শ্লোগান দিয়ে রাস্তায় নেমে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করতে থাকে তারা ৷ সেখানে পুলিশ বাধা দিলে উল্টে পুলিশকেই ইট-পাথর ছুড়তে থাকে ৷ তাতে বেশ কজন পুলিশের সদস্য গুরুতর আহত হন ৷

হেফাজতের উপর পুলিশি হামলার দাবি তুলে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে রবিবার বনধ এর ডাক দেয় কট্টরপন্থী ওই সংগঠনটি ৷ সেদিন সকাল থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামে হেফাজত ৷ লাঠি এবং অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে রীতিমত যুদ্ধের ভঙ্গিতে প্রধান সড়ক অবরোধ করে ৷ সেখানেও পুলিশের উপর দফায় দফায় হামলা করে মৌলবাদী এই গোষ্ঠী ৷
শোস্যাল মিডিয়ায় আবার সেই ভাংচুরের ভিডিও লাইভ করে প্রচার করে তারা ৷ তবে মিছিলের প্রথম সারিতেই ছিলো ‘ধর্মগুরু হুজুর’ আর ‘মাদ্রাসা পড়ুয়া’ এতিম ছাত্ররা ৷ সেই মিছিলে সাধারন জনগনের অংশগ্রহন একেবারেই ছিলোনা ৷

চট্টগ্রামে বিক্ষোভকারীদের মিছিলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ । পুলিশের গুলিতে ৪ জন মারা যান বলে জানা গিয়েছিল । এর প্রতিবাদে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে গোটা এলাকা । ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশন ভাঙচুর করে তাতে আগুন লাগিয়ে দেয় মৌলবাদীরা । ১০ জন তাতে আহত হন। ইঞ্জিন-সহ সবকটি কামরায় ভাঙচুর চালানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। একাধিক সরকারি অফিস, সঙ্গীত অ্যাকাডেমি, হিন্দুদের মন্দিরে হামলা চালানো হয়. অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুর চালানো হয়। ঢাকায় প্রচুর বাসে আগুন লাগানো হয়েছে। রাজশাহী, নারায়ণগঞ্জে পুলিশের উপর পাথরবৃষ্টি করে বিক্ষোভকারীরা।

বিশেষ সূত্রের দাবী, বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের দায়ে জামাত ইসলামি নামের একটি কট্টরপন্থী মৌলবাদী রাজনৈতিক দলকে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারনে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল হিসাবে ঘোষনা করা হয় ৷ এরপর দীর্ঘদিন দলটি গোপনে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে ৷ হেফাজতে ইসলাম নামের ওই সংগঠনের পিছু থেকেই মদদ দিচ্ছে এই পাকপন্থী জামায়াতে ইসলামি ৷ ইসলামি ধুয়ো তুলে তারা দেশে সাম্প্রদায়িক অরাজকতা তৈরীর সুযোগে মসনদ দখলের নীল নকশা এঁটে চলেছে ৷ এরা ‘মোদী’ ধুয়ো তুলে মূলত বাংলাদেশে ক্ষমতা দখলের মুখ্য অস্ত্র হিসেবে ব্যাবহার করছে ৷

তবে সরকারী পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে , হেফাজত উশৃঙ্খলতা বন্ধ না করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাবে সরকার ৷ বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে বাংলাদেশে তিনদিন ধরে ”কতিপয় গোষ্ঠী ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়িয়ে সরকারি সম্পত্তি ও মানুষের জানমালের ক্ষতি করছে” এবং তা এখনি বন্ধ করুন । অন্যথায়, সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে।”

You might also like