দিল্লী যাচ্ছেন শতাব্দি রায়, তৃণমূলের অন্দরে জোর জল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদন:‘দিল্লি যাচ্ছি, পরিচিতদের সঙ্গে দেখা হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়’, ইঙ্গিতপূর্ণ জবাব দিলেন শতাব্দী ৷ শতাব্দী রায় দিল্লী যাচ্ছেন। আর এই প্রসঙ্গে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলেতিনি জানান, ‘দিল্লি যাচ্ছি কাজে, সেখানে পরিচিতদের সঙ্গে দেখা হতেই পারে। কারোর সঙ্গে দেখা হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছুই নয়।’ এদিন অমিত শাহের সঙ্গে দেখা হওয়ার প্রসঙ্গ নিয়ে এই কথাই বললেন তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়। এর আগে তিনি বলেছিলেন, এলাকায় যেভাবে তিনি যেতে চাইছেন, সেভাবে যেতে পারছেন না। তার মনে হচ্ছে এক্ষেত্রে নেতৃত্বকে জানিয়েও কোনও লাভ হবে না।

গতকালের ফেসবুক পোস্টের পর এবার তাঁর তৃণমূল ত্যাগের কথা নিয়ে মুখ খুললেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। আজ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আজই দিল্লি যাচ্ছি। তবে অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি।

শতাব্দী রায় এদিন বলেন যে, ‘সাংসদ হওয়ার পর থেকে আমি অধিকাংশ সময়টাই এলাকার মানুষের সঙ্গে কাটিয়েছি। কিন্তু বিগত ২ বছর ধরে মানুষের কাছে পৌঁছতে চাইলেও তিনি যেতে পারছেন না। বেশ কিছু মাস ধরে আমি প্রায় এলাকায় যাইনি। যেতে পারছি না। এখানকার মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছে। তাই তাদের প্রশ্নের জবাব দেওয়া অবশ্যই আমার দায়িত্ব। তারাই আমাকে প্রশ্ন করছে, আমি কি রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি!’

তিনি আরও জানান, ‘আমি আজ কাজে দিল্লি যাচ্ছি। সেখানে আমার বন্ধু, আত্মীয়-স্বজনরা রয়েছেন। তাদের সঙ্গে দেখা হবে। এছাড়াও স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক রয়েছে। তিন বারের সাংসদকে দিল্লি যাওয়ার কারণ বলতে হবে? ওখানেই তো এখন আমার ঘরবাড়ি পরিজন’।

তবে বিজেপিতে যোগদানের ব্যাপারে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিন শতাব্দী রায় আরও বলেন যে, ‘বিজেপিতে যোগদান করবো এমন কিছু বলিনি। আমি আমার ভোটারদের কাছে দায়বদ্ধ।’

দলের প্রতি ক্ষোভের কারণ না জানানোর কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করে তিনি জানালেন, ‘দলনেত্রীকে ক্ষোভের কথা জানাইনি কারণ, অনেক সময় মনে হয় জানানো যায় না। অনেক সময় মনে হয় ক্ষোভ জানিয়ে লাভ নেই। অনেক সময় মনে হয় কাকে জানাবো। কেনই বা জানাবো’।

তবে কেন তাঁর এই সিদ্ধান্ত সে কথা সরাসরি জানাননি শতাব্দী। তারাপীঠ উন্নয়ন পর্ষদের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা পাঠানোর কারণ হিসাবে তিনি যে কথা বলেছেন এতে অনুমান করা যায়। এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘এর আগে আমি দু’বার তারাপীঠ উন্নয়ন পর্যদ থেকে পদত্যাগ করতে চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সেই পদত্যাগ পত্র গৃহীত হয়নি। তাই যেখানে আমার সিদ্ধান্তের কোনও গুরুত্ব নেই সেখানে থাকতে চাই না’।

তৃণমূলের অন্দরে শতাব্দীর এই প্রতিক্রিয়া নিয়ে বেশ ঝামেলার সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের মুখপাত্র সৌগত রায় বলেন, ‘অমিত শাহের সঙ্গে শতাব্দীর হঠাৎ দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ সময় নিয়ে তবেই তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ সম্ভব। আমি শতাব্দীকে ফোনে পাচ্ছি না। ওর সঙ্গে কথা বলে জানাবো, দলের সঙ্গে কথা না বলে যেন কোনও হঠকারী সিদ্ধান্ত না নেয় সে।’




%d bloggers like this: