‘কোভিডে আক্রান্ত হয়না শিশুরা’, রেক্টরের এমন নির্দেশে কোভিড-বিধি তুচ্ছ করে খোলা হল স্কুল

শ্রীশা চৌধুরী, কলকাতা: করোনা মহামারীর প্রকোপে বন্ধ হয়েছিল সমস্ত সরকারি বেসরকারি স্কুল, কলেজ, সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তা এখনও খোলার নির্দেশ দেয়নি রাজ্য সরকার৷ কারণ করোনা প্রকোপ এখনও কাটেনি। ভাবা হচ্ছে ফেব্রুয়ারি মাসে স্কুল কলেজ আদৌ খোলা হবে কিনা। তারই মধ্যে রীতিমতো ক্লাস শুরু হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠল হাওড়ার শিবপুরের শিশুতীর্থ বিদ্যালয়মণ্ডলী নামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে। এও অভিযোগ উঠেছে যে কোভিড বিধি মানা হচ্ছে না ওই বিদ্যালয়ে। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় ওই এলাকায়। এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, “স্কুল খুলে ১১ টা থেকে ২টো পর্যন্ত ক্লাস হচ্ছে। তারা এও অভিযোগ করেন যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে স্কুলে ঢুকে কেউ মাস্ক পড়তে পারবে না কারণ মাস্ক পরলে দেহে অক্সিজেনের অভাব ঘটবে ও শিক্ষিকা বা পড়ুয়া কেউ কারর কথা বুঝতে পারবে না। মাস্ক পড়ছেন না শিক্ষিকারাও। বুধবার স্কুলে গিয়ে এই ঘটনার প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়।

এমনকি, গোটা স্কুলে কোথাও জীবাণুনাশের ব্যবস্থাও দেখা যায় নি। স্কুলের দুই শিক্ষিকা স্বাগতা চক্রবর্তী ও সর্বাণী দত্ত বলেন, ‘‘কর্তৃপক্ষ স্কুল চালু করে দিয়েছেন, তাই আমাদের আসতে হচ্ছে। রেক্টর যেমন নির্দেশ দিয়েছেন, সেটাই পালন করছি। তিনি স্কুলের মধ্যে মাস্ক না পরার নির্দেশ দিয়েছেন।’’ ডেপুটি রেক্টর বীথিকা মিত্রের ও একই বক্তব্য। তিনি বলেন, ‘‘শিশুরা দীর্ঘদিন বাড়িতে থেকে বিরক্ত হয়ে গিয়েছে। ওদের তাই স্কুলে এনে খেলাচ্ছলে পড়ানো হচ্ছে। আর রেক্টর বলেছেন মাস্ক না পরতে। সেটাই আমরা মেনে চলছি।’’

স্কুলের রেক্টর সুখরঞ্জন মুখোপাধ্যায় বলেন যে, স্কুল খোলেনি। ক্লাস হচ্ছে কোচিং ক্লাস হিসাবে কারণ পড়ুয়ারা অনেকদিন পড়াশোনার মধ্যে নেই ও তারা বাড়িতে থেকে দুষ্টমি করছে। তাই তাদের খেলার ছলে পড়ানো হচ্ছে। “‘স্কুল খোলেনি। কোচিং ক্লাস হিসেবে চলছিল। এলাকার বাসিন্দারা না চাওয়ায় সেটাও আগামী কাল থেকে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছি। অনেক দিন পড়ুয়ারা পড়াশোনার মধ্যে নেই, তাই ক্লাস শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিলাম। এটা ঠিকই যে স্কুলে মাস্ক না পরার নির্দেশ দিয়েছি। কারণ মাস্ক পরলে শিক্ষিকা বা পড়ুয়া কেউই কারও কথা বুঝতে পারবে না।” এখন প্রশ্ন যদি কেউ এই নির্দেশ মানতে গিয়ে কেউ কোভিডে আক্রান্ত হলে তার দায় কে নেবে? তার উত্তরে সুখরঞ্জনবাবু বলেন যে তিনি জানতেন শিশুরা কোভিডে আক্রান্ত হয় না। “আমি জানতাম শিশুরা কোভিডে আক্রান্ত হয় না। যদি এটা আমার অজ্ঞতা হয়, তা হলে আমারই ভুল হয়েছে।’’




%d bloggers like this: