ইলেকশন আসলে পাহাড় কা গুন্ডা লে আতা হে’: বিজেপিকে ধরাশায়ী করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়

রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জি, পশ্চিম বর্ধমান : ‘ইলেকশন আসলে পাহাড় কা গুন্ডা লে আতা হে’৷ ভোটের আগে অনেক কিছু বলবে। ওদের কাছে প্রচুর টাকা রয়েছে। একদিন ভোটের জন্য ৫ হাজার টাকা দেবে। বাকি ৩৬৪ দিন কীভাবে চলবে? কোনওদিন খেতেও দেবে না। রাস্তায় বেরতেও দেবে না। রানিগন্জের জনসভায় এভাবেই বিজেপিকে ধরাশায়ী করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ৷

এদিন ফের বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ‘বহিরাগত গুন্ডা’ বলে তোপ দেগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ওনারা এসে বাংলায় ভাগ করতে চাইছে। এরা বাংলায় এনআরসি করতে চায়।

রানিগঞ্জের সভা থেকে ফের হুঙ্কার ছুঁড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাংলাকে কোনওভাবেই গুজরাট হতে দেব না।” মঞ্চ থেকে সবর্ধম সমন্ময়ের ডাক দেন তিনি। ধর্ম-বর্ন নির্বিশেষে একসঙ্গে বাংলায় বাস করার আহ্বান করেন। প্রতিশ্রুতি দেন কর্মসংস্থানের। সকলের পাশে থাকার। মনে করিয়ে দেন, মমতা সরকার কীভাবে বিপদে-আপদে সব পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে থাকে।

মঙ্গলবার বিকালে আসানসোলের রানিগঞ্জের সিয়ারশোল রাজবাড়ি ময়দানে পশ্চিম বর্ধমান জেলার প্রশাসনের সভায় সেখান থেকে আরো চড়া মেজাজে শুরু করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। আসানসোল রানিগঞ্জে কয়লা মাফিয়া প্রসঙ্গ থেকে শুরু করে একইভাবে রেলের বেসরকারিকরণ থেকে ইসিএলের কয়লাখনি বন্ধ, বিএসএনএল বন্ধ, ব্যাঙ্কের সদর দপ্তর বাংলা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে।

তিনি দেশের রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থাগুলিকে বিক্রি, বন্ধ ও বেসরকারিকরণ করার প্রতিবাদ জানিয়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলা সহ বাংলার সব স্তরের নেতাদের লাগাতার আন্দোলন করার ডাক দিয়েছেন। এমনকি তিনি নিজেও আন্দোলন করতে রাস্তায় নামবেন বলে জানিয়েছেন। এদিন রানিগঞ্জের সভা দুপুর ১ টার সময় শুরু হবে বলে ঠিক ছিলো। কিন্তু এদিন কেন্দ্রের তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করার জন্য বিভিন্ন সংগঠন ভারত বনধের ডাক দিয়েছিলো। তা ছিল বিকেল তিনটে পর্যন্ত। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশে সভার সময় দু’ঘন্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়। তাই এদিন মুখ্যমন্ত্রী সভায় আসেন তিনটের পরে। পুরো ভাষণে তিনি আগাগোড়াই আক্রমনাত্বক ছিলেন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় নিজেই সভার সময় পেছোনোর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আজকের দিনটা আলাদা। দেশের কৃষকরা নিজেদের জমি বাঁচাতে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছেন। তারা কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে এদিন তিনটে পর্যন্ত বনধ ডেকেছেন। আমরা সরকারে আসার পরে বনধ বা ধর্মঘট করিনি।

যে আন্দোলন করবে, তাকে আমরা সমর্থন করবো কিন্তু কৃষক ও চাষীরা যে দাবিতে এ দিন ভারত বনধ ডেকেছেন তাদের সঙ্গে সহমত পোষণ করে, এটাকে আমরা সমর্থন করেছি।

তৃনমুল কংগ্রেস কৃষকদের এই আন্দোলনে ছিলো, আছে থাকবে। কৃষক আমাদের গর্ব। শ্রমিক আমাদের সম্পদ। আমরা সবসময় তাদের সঙ্গে আছি।তারা যে আন্দোলন করবে, তাকে আমরা সমর্থন করবো। কৃষি জমির খাজনা ও মিউটেশন ফি আমরা মকুব করেছি। সেগুলো নেওয়া হয় না। রাজ্য সরকার “দুয়ারে সরকার” কর্মসূচী আরম্ভ করেছি।

এদিনের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় আসানসোল রানিগঞ্জে পুর্নবাসন প্রকল্পে তৈরী আবাসন ধস কবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের বাসিন্দাদের হাতে চাবি তুলে দেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই প্রকল্পে ৩০ হাজার আবাসন তৈরী করা হবে। আসানসোল দূর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ বা এডিডিএ, রাজ্য সরকারের হাউজিং বিভাগ ও জেলা প্রশাসন তা করছে। ফেজে ফেজে তা করা হবে। প্রথম ফেজে অন্ডাল, জামুড়িয়া ও বারাবনিতে ৯২৩২ জনকে দেওয়া হবে। এদিন ৩৫৮৪ জন পেলো। বাকিরা শীঘ্রই পেয়ে যাবে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। শুধু আবাসন তৈরী করলে তো হবে না। সেখানে জল ও লাইটেরও ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, করোনার জন্য গত কয়েক মাস তো সব বন্ধ ছিলো। তার মধ্যেও জেলা প্রশাসন মাইগ্রেন্ট লেবার এনে আবাসন তৈরীর কাজ করেছে। তার জন্য জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ।

কেও দুপয়সার সাংবাদিক বলে অপমান করলেও মমতা আছেন সাংবাদিকদের পাশেই ৷ তাই রানীগঞ্জ এর জনসভায় মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের প্রতি শ্রদ্ধা উজাড় করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রেস, মিডিয়ার একটা ইজ্জত আছে। যেটা সত্য সেটা বলবেন। প্রেস, মিডিয়া আমাকে অনেক সাহায্য করে থাকে। কার কোথায় কী প্রয়োজন তা সব সময় তুলে ধরে সংবাদমাধ্যম। তা জানতে পেরে সে সব আমরা ডিএম, এসপি–দের বলি।’‌ এভাবেই কারও নাম না করে দলনেত্রী স্পষ্ট করে দিলেন, সাংসদের বিতর্কিত বক্তব্যকে তিনি কোনওভাবেই সমর্থন করেন না।




%d bloggers like this: