হাতির তান্ডবে এলাকায় আতংক, ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

শান্তনু রায়, পঃ মেদিনীপুর: নতুন বছরের শুরুতেও হাতির তান্ডবে অতিষ্ঠ কেশিয়াড়ির ব্লকের নছিপুর পঞ্চায়েত এলাকা।গত দুই দিন ধরে এলাকা দাপিয়ে বেড়াল একপাল হাতি।

বুধবারের পর বৃহস্পতিবার রাতেও নছিপুর পঞ্চায়েত এলাকার গোপীনাথপুর, করঞ্জিমুড়া, কোটপুরা-সহ আশপাশের এলাকার ফসল নষ্টের পাশাপাশি ভেঙেছে বেশ কয়েকটি কাঁচা বাড়ি। বুধবার রাতে বাড়ির তেমন ক্ষতি না করলেও আনাজের খেত নষ্ট করেছিল হাতির দলটি।

বৃহস্পতিবার রাতে বন দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী চোদ্দটি মাটির বাড়ি ভেঙেছে হাতিগুলি। খেয়েছে বাড়িতে মজুত থাকা ধান, চাল।নষ্ট করেছে বাড়ির আসবাবপত্র থেকে হাঁড়ি, কড়াই। রাতে প্রায় চল্লিশটি হাতির দল এলাকায় ঢোকে।

ভয়ে অনেকেই মাটির বাড়ি ছেড়ে পাকা বাড়িতে আশ্রয় নেয় এলাকায় চাষ করা কলাই, মূলা, আখের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন দফতর জানাচ্ছে, রাতে হাতিগুলি এলাকায় মূলত খাবারের খোঁজে চলে আসছে। বাসিন্দাদের তাড়া খেয়ে ফের ভোরের দিকে সুবর্ণরেখা নদী পেরিয়ে চলে যায়।

বন দফতর জানাচ্ছে, নয়াগ্রামের দিকে থেকে হাতিগুলি এলাকায় ঢুকছে। দুদিন পরপর ক্ষতি করায় বন দফতরের উদাসীনতার বিরুদ্ধে ফুঁসছেন এলাকাবাসীরা। রাত জেগে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকার মানুষজন ।

কোটপুরা এলাকার বাসিন্দা মদন মাহালি, সুনীতা সাউ বলেন,” রাতে আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে। ঘরে ভেঙে দিয়েছে। ঘরের ধান, চাল খেয়ে নষ্ট করছে।” বন দফতরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকায়। তবে বন দফতর জানাচ্ছে, রাতে হাতিগুলি এলাকায় ঢুকছে। দলটিতে বেশ কয়েকটি বাচ্চা হাতিও আছে।

বন দফতর জানাচ্ছে, নিয়মমতো ক্ষতিপূরণ পাবেন হাতির হানায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও চাষিরা। শুক্রবার বন দফতরের পখ্য এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ জায়গার সঠিক তদন্ত করা হচ্ছে ।

বেলদা রেঞ্জ এলাকার বন কর্মী মিন্টু চক্রবর্তী জানান,” হাতিগুলিকে আটকানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।” ফের শুক্রবার রাতেও হাতির দলটি এলাকায় ঢুকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসীরা।




%d bloggers like this: