২৬ জানুয়ারি শিক্ষা নিয়ে এবার অহিংসার পথে হেঁটে ‘চাক্কা জ্য়াম’ কর্মসূচি কৃষকদের

নিজস্ব প্রতিবেদন, কেন্দ্রের ৩ কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে দিল্লিতে এখনও প্রতিবাদ-আন্দোলন জারি রয়েছে। আজ বেলা ১২টা থেকে দুপুর ৩টে পর্যন্ত যে চাক্কা জ্যাম চলার কথা ছিল, এবার রাজধানীতে রাস্তা অবরুদ্ধ করে চাক্কা জ্যামের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন কৃষক সংগঠন। এ প্রসঙ্গে কৃষক নেতা রাকেশ টিকাইত জানান, “আমাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে কিছু লোক এই চাক্কা জ্যামকে কেন্দ্র করে হিংসা ছড়াতে পারে। সেই কারণেই উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে রাস্তা অবরুদ্ধ করা হচ্ছে না”। তবে দিল্লিতে না হলেও আজ দেশজুড়ে পালিত হয় চাক্কা জ্যাম কর্মসূচি। বেলা ১২টা থেকে দুপুর ৩টে পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে চাক্কা জ্যাম। অন্যদিকে কংগ্রেস কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে কৃষক সংগঠনের এই কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়েছে। একাংশের মতে, প্রজাতন্ত্র দিবসের দিনে লালকেল্লাকাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কৃষকরা।অন্যদিকে, আগের সতকতা অবলম্বন করে চাক্কা জ্যাম কর্মসূচি উপলক্ষে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা লালকেল্লা চত্বর। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, যাতে কোথাও অস্থিরতার সৃষ্টি না হয়, তাই দিল্লি-এনসিআর এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার আধা সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পঞ্জাবের কর্নালে কৃষকরা বেলা ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় সড়কের ওপর বলতাড়া টোল জ্যাম করে দেন কৃষকরা। জম্মু-পাঠানকোট হাইওয়েতে জম্মুর কৃষকরা জ্যাম করেন। দিল্লি পুলিশ, আধা সেনা ও রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের প্রায় ৫০ হাজার জওয়ান জিল্লি-এনসিআর এদিন এলাকায় মোতায়েন থাকেন। পাশাপাশি রাজধানীর ১২টি মেট্রো স্টেশনে বিশেষ নিরাপত্তার বন্দোবস্ত রয়েছে। কৃষক সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ৩ ঘণ্টার এই কর্মসূচি চলবে, তা চলাকালীন কোনও জরুরি পরিষেবায় বাধা দেওয়া হবে না। সেই জরুরি পরিষেবার মধ্যে আছে দমকল, অ্যাম্বুলেন্স, স্কুল বাস। এই কর্মসূচির ফলে সাধারণ মানুষের কোনও সমস্যা হবে না, বলে জানায় কৃষক সংগঠনগুলি। কৃষকরা বলেন, কেন্দ্রের ৩ কৃষি আইনের জন্য কৃষকদের কী পরিস্থিতি তা মানুষের বোঝা প্রয়োজন। দিল্লি সহ পার্শ্ববর্তী বহু অঞ্চলে এই চাক্কা জ্যাম হয়। তবে সেই তালিকায় নেই উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ। আন্দোলনের প্রথম থেকেই কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবি করেছেন তাঁরা। তবে পরিস্থিতি তেমন উত্তেজনামূলক হয়নি বলে খবর, কোনও জায়গা থেকে বড় কোনও অশান্তির খবর আসেনি। ড্রোন উড়িয়ে গাজিয়াবাদের লোনি সীমানার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, কৃষকদের চাক্কা জ্যাম কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শনিবার মধ্য দিল্লির শহিদী পার্কের কাছে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন বেশ কয়েকজন কৃষক। যার জেরে ৫০ জনকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের নেতা রাকেশ তিকাইত আগেই জানান,”৬ ফেব্রুয়ারি তিন ঘণ্টার চাক্কা জ্যাম হবে। তবে দিল্লিতে এই কর্মসূচি পালিত হবে না”। এই কর্মসূচি প্রসঙ্গে রাকেশ আরও বলেন, “এই কর্মসূচিতে যাঁরা রাস্তায় আটকে পড়বেন, তাঁদের খাবার ও জল দেওয়া হবে। সকলকে বলব, সরকার আমাদের সঙ্গে কী করছে।” দিল্লির প্রতিটি মেট্রো স্টেশনগুলিতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী। সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রয়োজনে আগেই মজুত রাখা হয়েছে জলকামান। সাথে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অশান্তি না হয় তা নিয়ে বাড়তি সতর্ক ছিলেন প্রতিবাদী কৃষকরাও। তবে দেশের সমস্ত প্রান্তের অশান্তির আঁচ এড়ানো সম্ভব হয়নি। দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, শহিদী পার্ক থেকে যেসকল বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়েছে, তাদের চাক্কা জ্যাম কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরই ছেড়ে দেওয়া হবে।

টানা বেলা ১২টা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই কর্মসূচির খবর সামনে এসেছে। কিন্তু, ২৬ জানুয়ারির ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আর অশান্তির মধ্যে নয়, অহিংসার পথে হেঁটে আন্দোলনকে সফল করতে উদ্দুগ নেন অতিরিক্ত সতর্ক কৃষকরা। কৃষকরা আর প্রজাতন্ত্র দিবসের ঘটনার পুনরাবৃত্তি চান না। পাশাপাশি পুলিশ সকল পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে তৈরি রয়েছে। আগে থেকে প্রশাসন সকল প্রকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিশেষ করে দিল্লি, হরিয়ানায় নিয়েছে। সমগ্র নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয় রাজধানী দিল্লিকে। তবে আজ এই চাক্কা জ্যাম কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এখনও পর্যন্ত কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পূর্বনির্ধারিত এই কর্মসূচির কথা মাথায় রেখে জম্মু-পাঠানকোট হাইওয়ে অবরুদ্ধ করেন প্রতিবাদী কৃষকরা। দেখা যায়, পঞ্জাবেও একইরকমভাবে জাতীয় সড়কের উপর বলতাড়া টোল জ্য়াম করেন কৃষকরা। রাজস্থান-হরিয়ানার কাছে শাহজাহানপুর সীমান্তের কাছে জাতীয় সড়কেও চলছে অবরোধ দেখান কৃষকরা। সবমিলিয়ে দেশের একাধিক জায়গায় মোটামোটি নিয়ন্ত্রিত ভাবেই পালিত হয় কৃষকদের ‘চাক্কা জ্য়াম’ কর্মসূচি।




%d bloggers like this: