রাজ্যে করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে তুমুল ধন্ধ, কোন ভ্যাকসিন আসবে ! ;

নিজস্ব প্রতিবেদন:করোনা সংক্রমণের হার কিছুটা স্বস্তি ফেরালেও ফের নয়া করোনা স্ট্রেন আতঙ্ক বাড়িয়েছে। ব্রিটেনে প্রথম এই স্ট্রেনের খোঁজ মেলার পর থেকেই ভারত সাবধানতা অবলম্বন করতে শুরু করে দেয়। কিন্তু তারমধ্যেই ভারতে প্রবেশ করে এর নয়া স্ট্রেন। ধীরে ধীরে এটি বহুজনের শরীরে দেখা মেলে। জানা গিয়েছে, নতুন এই স্ট্রেনের সংক্রমণ ক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক বেশি। এই করোনা স্ট্রেন অনেক বেশি শক্তিশালী।
তবে খুশির খবর, শুক্রবারই রাজ্যে আসছে করোনা ভ্যাকসিন। দেশবাসী অপেক্ষায় এখন করোনা ভ্যাকসিন হাতে পাওয়ার। রাজ্যকে চিঠি দিয়ে ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু, কোন ভ্যাকসিন প্রথমে আসছে? তা নিয়ে ধন্ধে রয়েছে অনেকেই। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড ও ভারত বায়োটেকের কোভ্যাকসিন দুটোই ছাড়পত্র পেয়েছে। কিন্তু এরমধ্যে কোনটা আসছে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। পাশাপাশি কত পরিমাণে ভ্যাকসিন আসবে, সেই বিষয়েও কিছু জানানো হয়নি। জানা গিয়েছে, বাগবাজারে স্বাস্থ্য দফতরের স্টোরে এই করোনা ভ্যাকসিন রাখা হবে। পরে, সেখান থেকে প্রতিটি জেলায় ভ্যাকসিন পাঠানো হবে। সূত্রের খবর, যেদিন করোনা ভ্যাকসিন আসছে, সেদিনই সারা দেশের সঙ্গে রাজ্যজুড়ে হবে করোনা ভ্যাকসিনের ড্রাই রান। এর আগেও গত শনিবার রাজ্যের তিন জায়গায় এই ভ্যাকসিনের ড্রাই রান হয়েছে। এবার সেই একই মহড়া হবে রাজ্যের প্রতিটি জেলায়।

ভারতে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহারের জন্য চূড়ান্ত অনুমতি দেওয়া হয়েছে কোভিশিল্ড এবং কোভ্যাক্সিনকে। কথা মতো আগামী ১৩ জানুয়ারি শুক্রবার থেকে ভারতে করোনা টিকা প্রদান শুরু হতে চাইছে কেন্দ্র। সেই বিষয়ে আলোচনার জন্য সমস্ত রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, প্রতি জেলায় তিনটি করে কেন্দ্রে হবে ড্রাই রান। জেলার টিকাকরণের মহড়া মেডিক্যাল কলেজগুলি ছাড়াও আরও দুটি কেন্দ্রে চলবে। জানা গিয়েছে, শুক্রবার কলকাতার সব মেডিক্যাল কলেজে হবে ড্রাই রান। কলকাতা পুরসভার ২৩১ নম্বর ওয়ার্ডের ক্লিনিকেও হবে মহড়া। দেশের সকল রাজ্য ও কেন্দ্রশাশিত অঞ্চলেও শুক্রবার হবে ভ্যাকসিনের ড্রাই রান। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন বলেন, সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাশিত অঞ্চলে ড্রাই রান হবে। ভ্যাকসিন প্রদানের জন্য ১.৭ লক্ষ ভ্যাকসিনেটর ও ৩ লক্ষ টিম প্রস্তুত রয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেই ভ্যাকসিন দান কর্মসূচি শুরু হবে। কর্মসূচির সাথে সাথে শুক্রবার কলকাতার সব মেডিক্যাল কলেজে করোনা ভ্যাকসিনের ড্রাই রান হবে বলে স্বাস্থ্যদফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে। এছাড়াও কলকাতা পুরসভার ২৩১ নম্বর ওয়ার্ডের ক্লিনিকেও হবে মহড়া। প্রতি জেলায় তিনটি করে কেন্দ্রে হবে ড্রাই রান। জেলার মেডিক্যাল কলেজগুলি ছাড়াও আরও দুটি কেন্দ্রে চলবে টিকাকরণের মহড়া। যদিও ভ্যাকসিন এসে গেলেও এখনও ৪ রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগে কেন্দ্র। যার মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গও। এছাড়াও মহারাষ্ট্র, কেরল ও ছত্তিশড়ের করোনা পরিস্থিতি নিয়েও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক বেশ চিন্তিত। এই ৪ রাজ্যের প্রশাসনকে কঠোর করোনা বিধি-ননিষেধ মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

ড্রাই রান কিভাবে করা হবে, তা আগেই বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীদের। পাশাপাশি, জেলায় জেলায় যে সব ভ্যাকসিন স্টোর রয়েছে, তার সরঞ্জামও পরীক্ষা করে দেখা হয়ে গিয়েছে। প্রথম দফায় স্বাস্থ্যকর্মী ও করোনা যোদ্ধাদের ভ্যাকাসনি দেওয়া হবে। প্রথম পর্যায়ে কাদের এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে কাদের ভ্যাকসিন সেই নিয়ে বিস্তারিত জানান হর্ষবর্ধন। হর্ষবর্ধন জানান, কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিন দুটোই সমান কার্যকর।দ্রুত দেশজুড়ে করোনা ভ্যাকসিন দেওয়ার মতো পরিকাঠামো তৈরি বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব। বহু দিন থেকেই সাধারণ মানুষ এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, কবে আসবে ভ্যাকসিন? দ্বিতীয় দফায় টিকাকরণের মহড়ায় মূলত কোন বিষয়টির উপর নজর রাখবে কেন্দ্র? তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। জানা গিয়েছে, শুক্রবারের মহড়ায় কেন্দ্রের ‘কোউইন’ (CoWin) অ্যাপ ডাউনলোড করার কথা উঠেছে। প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীদের গুগল প্লে স্টোর থেকে এই অ্যাপটি ডাউনলোড করার পদ্ধতি দেখানো হবে।এই অ্যাপ সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এনেছে কেন্দ্র। বলা হয়েছে, যাঁরা করোনার টিকা নিতে আগ্রহী, তাঁরা এই অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করে আবেদন জানাতে পারবেন। যদিও অ্যাপটি এখনও সচল হয়নি। এরসাথে সুরক্ষা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন উঠছে। কেন্দ্র সতর্ক আগেই তা নিয়ে করেছে। শুক্রবার অ্যাপটি সচল করার প্রক্রিয়া হতে পারে।

দফার মহড়ায় জানা যাবে, টিকা দিতে ঠিক কতটা সময় লাগছে, কাজ চলাকালীন টিকাপ্রাপ্তদের বিস্তারিত তথ্য কীভাবে, কতটা সময়ের মধ্যে নথিভুক্ত করা যাচ্ছে, এসব নজরে রাখা। জানা গিয়েছে, এই প্রশ্নের যাবতীয় উত্তর শুক্রবারের পর দিতে হবে দিল্লিতে স্বাস্থযমন্ত্রকের কাছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে ফের সমীক্ষা করা হবে। তারপরই তৈরি হবে টিকাকরণের অন্তিম রূপরেখা। রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা মাথায় রেখে মেডিক্যাল কলেজগুলিকে টিকার মহড়ায় অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেক কেন্দ্রে ২০ থেকে ২২ জন স্বাস্থ্যকর্মী অংশ নিতে পারবেন।




%d bloggers like this: