‘কালো টাকা সাদা করতে বিজেপি’তে যোগ’ দলত্যাগীদের প্রতি ক্ষোভ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

কলকাতা: কালো টাকা সাদা করতেই বিজেপি’তে যোগদান করছেন’ দলত্যাগী নেতাদের নিয়ে এরকমই কটাক্ষ্য করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবী,’ কালো টাকা সাদা করতেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন কয়েকজন। তার সঙ্গে তাঁদের গচ্ছিত টাকা রাখারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিজেপি’কে তাই এদিন ভারতীয় জাঙ্ক পার্টি নামে ডাকলেন মমতা।

এদিন নদিয়ার রানাঘাট মহকুমার হাবিবপুরের ছাতিমতলার জনসভায় বিজেপিকে নিশানা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।তিনি অভিযোগ করেন যে, সিবিআই ও ইডি’র ভয় দেখিয়ে বিজেপি শিবির অন্যান্য দলের নেতাদের নিজেদের দলে টানছে। এতদিন ধরে তাঁরা তৃণমূলকে ‘ওয়াশিং মেশিন’ বলে যে কটাক্ষ করছিল, সেই রেশ ধরেই বিজেপিকে ‘ডাস্টবিন’ বলে সম্বোধন করলেন মমতা। আরও বলেন, কেউ টাকা আত্মসাৎ করে বিজেপিতে যোগ দিলেই তাঁদের সব দোষ মাফ হয়ে যায়। এরকমই চলছে আজকাল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘সারাদেশ জুড়ে একনায়কতন্ত্র চলছে। এদের কাউকে সিবিআই দেখিয়ে, কাউকে ইডি দেখিয়ে দলে টানছে তাঁরা। অবশ্য তাঁদের কোনও দোষ নেই। এরকম এমনি এমনি একটা কাগজ তৈরি করছে। যে কাগজ কোর্টে গিয়ে হারবে। যার কোনও গুরুত্ব নেই। আগামি দিনে আপনারা দেখে নেবেন, মিলিয়ে নেবেন কথাগুলো। শুধুমাত্র মানুষকে জব্দ করার জন্যই এইসব চলছে।’

বিধানসভা নির্বাচন যত কাছে এগিয়ে আসছে, ততটাই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়ার হিড়িক বেড়েছে। এমনকী যে নেতাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতেন বিজেপির নেতারা, যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে একসময়, তাঁদেরও গেরুয়া শিবিরে সাদরে বরণ করে নেওয়া হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারী গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার পর বিজেপির অ্যাকাউন্ট থেকে নারদার ভিডিয়ো গায়েব হয়ে যায়। সেই রেশ ধরেই মমতা বলেন, ‘যে কয়েকজন গিয়েছেন, কেন গিয়েছেন বলুন তো? তাঁরা অনেক টাকা করেছে। তাঁদের কাউকে ইডির ভয় দেখিয়েছে, কাউকে সিবিআইয়ের ভয় দেখানো হয়েছে।

এইসব ভয় দেখানো হচ্ছে, আর বলছে, যদি টাকা রাখতে চাও, তাহলে বিজেপিতে যাও, যদি কালো টাকা সাদা করতে চাও, তবে বিজেপিতে যাও, যদি দু’নম্বরি করতে চাও, তবে বিজেপিতে যাও, যদি টাকা মারতে চাও, তাহলে বিজেপিতে যাও।

বিজেপি একেবারেই এক জাঙ্ক পার্টি তৈরি হয়ে গিয়েছে। এটা হল ভারতীয় জাঙ্ক পার্টি যেখানে যে যা পাচ্ছে সমস্ত ডাস্টবিনের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। সেই ডাস্টবিন থেকে বিজেপি কোনো কিছু করলে সাত খুন মাফ হয়ে যাচ্ছে। আর অন্যরা করলে বন্ধ ঝাঁপ। সবাই চোর।’ এমনটাই বক্তব্য দিতে দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

সবার নজর এখন বিধানসভা ভোটের দিকে। যত দিন এগোচ্ছে, উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজ্য।




%d bloggers like this: