মতুয়ারা কি নাগরিকত্ব পাবে ? CAA কি বিজেপির জন্য বড় চাপ হতে চলেছে ?

শ্রীশা চৌধুরী,নিজস্ব প্রতিবেদক : এবার শাহের সমালোচনা শান্তনু ঠাকুরের মুখে, তবে কি দল বদল বিজেপি’তে ৷ তবে কি এবার বেসুরো সুর বাজতে শুরু করল বিজেপি শিবিরে ৷ ক্রিকেট মাঠের দলবদলের খেলা এখন রাজনৈতিক মাঠে ৷ যেখানে ঘাসফুল শিবিরের জনপ্রিয় নেতা থেকে নীচু তলার কর্মী, দলে একটু সুর অন্য হলেই গেরুয়া স্রোতগামী ৷ যেখানে ঝাঁকে ঝাঁকে তৃণমূল ত্যাগ করে পদ্ম দলে ভিড় বাড়ানোর মধ্যেই এবার রাজনৈতিক ময়দানে ঘটল উল্টো ছবি ৷ এবার বেসুরো গাইতে শুরু করলেন বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর ৷ তাঁর মুখে শোনা গেল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা ৷

এদিন তিনি জানতে চাইলেন মতুয়াদের নাগরিকত্ব কবে মিলবে? এই নিয়ে কী ভাবছে কেন্দ্র, এবার স্পষ্ট করুক। আজ এরকমই দাবি তুললেন বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তুনু ঠাকুর। ফের একুশের ভোটের আগে নতুন চাপের কৌশল শুরু হল কি? নতুন জল্পনা রাজনৈতিক ময়দানে ৷
২০২১ ভোটের আগেই কী রাজ্যে কার্যকর হবে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন? কবে নাগরিকত্ব পাবেন উদ্বাস্তু মতুয়ারা? এই প্রশ্নের উত্তরে এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশজুড়ে করোনা ভ্যাকসিন বিতরণের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরই হবে CAA নিয়ে বৈঠক ৷
এর আগে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে কেন্দ্র কী ভাবছে রাজ্যে এসে স্পষ্ট করেছেন অমিত শাহ। অন্যদিকে মোদীর সেনাপতি রাজ্যে আসার আগে থেকেই CAA ইস্যুতে মুখ খুলতে শুরু করেন বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। এদিন শাহের মন্তব্য করার সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই অভিমানে কথা জানালেন মতুয়াদের ঠাকুর বা়ড়ির সদস্য। বনগাঁর বিজেপি সাংসদ বলেন, ‘অমিত শাহ যা বলেছেন আমার সম্প্রদায়ের জন্য সেটা একদম ঠিক নয়। তাঁর আরেকটু পরিষ্কার করে বলা উচিত ছিল, আগামী পদক্ষেপ কী হবে ৷’

তবে এখানেই শেষ নয়, শান্তনু ঠাকুর এও বললেন, ‘এই নীতির বাস্তবায়ন না হলেই খারাপ প্রভাব পড়বে সব জায়গায়। আমি কোনও রাজনীতি করছি না। আমি চাই, আমার সমাজের মানুষ ভারতের নাগরিক হবে। বঞ্চিত হলেও তাদের তো একটা বক্তব্য আছে ৷ সেটাই যেন প্রতিষ্ঠিত হয়।’

প্রসঙ্গত, নাগরিকত্ব আইন নিয়ে গেরুয়া শিবিরের মধ্যে সাংসদের ক্ষোভের পিছনে অন্য সম্ভাবনাও দেখছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞেরা ৷ ফের প্রশ্ন উঠছে, তবে কী এবার পদ্ম শিবিরেও সুর কাটতে শুরু করেছে ৷ তবে দলে থেকে অন্য সুর শোনা গেল শান্তনুর গলায় ৷ এই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বনগাঁর বিজেপি সাংসদ বলেন, ‘আমার কাছে দল বড় নয়, সমাজ বড়। আমার সমাজের মানুষের চাহিদার জন্য আমি ভোটে দাঁড়িয়েছিলাম। তাই পরিস্থিতি যা বলবে আমায় সেটাই করতে হবে ৷’

কী করতে চাইছেন শান্তনু ঠাকুর? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গে আসার আগেই শান্তনুর সঙ্গে দেখা করেন বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। আবার অন্যদিকে মতুয়া সম্প্রদায়কে এগিয়ে রেখে ময়দানে নেমে পড়েছে তৃণমূলও। এদিন শান্তনুকে সরাসরি তৃণমূলের মঞ্চে আহ্বান জানিয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। বনগাঁয় সভা করে মতুয়াদের গুরু হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মদিনে ছুটি ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রীও। তবে কী মতুয়া রাজনীতিতে অন্য কোনও চোরা স্রোত ঢুকতে চলেছে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অবশ্য অন্য যোগ দেখছেন।
পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৪০টি বিধানসভা আসনে মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রভাব রয়েছে ৷ ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বনগাঁ, রানাঘাটে মতুয়া প্রভাবিত আসনে জিতেছে বিজেপি ৷ এবার ২০২১-এর বিধানসভার আগে কোনও পরিস্থিতিতে সেটা হাতছাড়া করতে রাজি নয় বিজেপি ৷

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকের দাবি, শান্তুনুকে দিয়ে দাবি তুলে পরোক্ষভাবে রাজ্যে CAA-র জমি শক্ত করতে চাইছে বিজেপি ৷ অনেকেই মনে করছেন ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গে এসে CAA-র দিনক্ষণ ঘোষণা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।




%d bloggers like this: