ভারতের করোনা টিকা দেওয়া হবে এবার পাকিস্তানের কূটনীতিকদের

নিজস্ব প্রতিবেদন: করোনাকে রুখতে দেশে ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে কতনা টিকা বিতরণ। ১৮ দিনে প্রায় ৪১ লক্ষ মানুষকে করোনা টিকা দিয়ে রেকর্ড করেছে ভারত, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। এবার সেই টাকা দেওয়া হবে পাকিস্তানের কূটনীতিকদের। এবার তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, কূটনীতিক ছাড়াও পাক হাইকমিশনের কর্মীদেরও এই ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই টিকে প্রথম অগ্রাধিকার ছিল মহামারির মোকাবিলায় সরাসরি জড়িত চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য কর্মী ও পুলিশ কর্মীদের মতো প্রায় তিন কোটি ফ্রন্টলাইনাররা। এরপরে টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে ৫০ বছরের কম বয়সী অথচ, কো-মরবিডিটি বা সহ-অসুস্থতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের। কারণ এই বয়সী মানুষদের কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রাণঘাতি হয়ে উঠতে পারে। তবে এরমধ্যে আবার শোনা যাচ্ছে, কুটিকাকরণ কর্মসূচি সঠিকভাবে রূপায়নের লক্ষ্যে কেন্দ্রের তরফে চালু করা হয় ‘কো-উইন’ অ্যাপ। কিন্তু এবার সেই অ্যাপে গোলযোগ দেখা গিয়েছে। এরফলে একাধিক রাজ্যে থমকাচ্ছে টিকাকরণ প্রক্রিয়া। সার্ভারজনিত সমস্যার জেরে বেকায়দায় পড়ছেন বহু ব্যবহারকারীরা।

দিল্লি এবং চিনে পাকিস্তানের হাই কমিশনের কূটনীতিকদের টিকা নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, বলা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই টিকাকরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য যোগাযোগ করা হয় কূটনীতিকদের সঙ্গে। ইতিমধ্যে সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েছেন ৫০ জন। তাঁরা সকলে হাজির হয়েছিলেন হায়দরাবাদের সার্দান সিটিতে। তাঁরা সেখানে এসে কীভাবে টিকা তৈরি হচ্ছে তা দেখেন। জানা গিয়েছে, তাঁরা ভারত বায়োটেক এবং বায়োলজিকাল দুই নামে দুই সংস্থায় যান।সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া মায়ানমার, মরিশাস সহ একাধিক দেশে ভ্যাকসিন পাঠিয়েছে। এর আগে টিকা পাঠানো হয় নেপাল, বাংলাদেশেও। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ভারত মলদ্বীপ, ভুটান, মায়ানমারে ভ্যাকসিন পাঠিয়ে চলেছে। গত মাস থেকেই কূটনীতিকদের জন্য টিকাকরণ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই তালিকায় রয়েছে ভারতে অবস্থিত কনস্যুলেট, বিশেষ সংস্থা, বিদেশি সংস্থা। ডিসিজিআই করোনা অতিমারী মোকাবিলায় ভারতে দুটি ভ্যাকসিনকে জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমতি দিয়েছে। আর সেই টিকার তালিকায় আছে কোভিশিল্ড এবং কোভ্যাক্সিন। দেশজুড়ে টিকাকরণ শুরু হওয়ার পর একাধিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত সারা দেশে ৩৭ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীদের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সহ আরও ২১ টি দেশে এই ভ্যাকসিন পৌঁছে দিচ্ছে ভারত। ব্রাজিলের মতো দেশেও এই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।

করোনার পোর্টাল নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলেন, “খুবই ধীর গতিতে খুলছে পোর্টাল।যার ফলে গোটা টিকাকরণ প্রক্রিয়াই বড়সড় ধাক্কা খাচ্ছে। প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ গ্রহীতার কাছেই টিকাকরণ সংক্রান্ত মেসেজ পাঠানো সম্ভব হয়নি। ফলস্বরূপ সময়ে টিকা দেওয়া যাচ্ছে না।” বুধবার গোটা রাজ্যের ৩৫০টি সেন্টারে ৩৫ হাজার মানুষকে করোনা টিকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পোর্টালের সঙ্কটের জেরে প্রত্যেককে স্থান, তারিখ সম্পর্কে জানানোই সম্ভব হয়নি। ফলে গতকাল গোটা রাজ্যব্যাপী ১২ হাজার ৭২৫ জনকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে এখনও পর্যন্ত গোটা রাজ্যে ৩ লক্ষ ৪৩৭ জনকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৬৪ শতাংশ বলে জানা যাচ্ছে। তবে এই সংখ্যাটা আরও বেশি ধরা হয়েছিল, মোটামোটি এখনও পর্যন্ত গোটা রাজ্যে ৪ লক্ষ ৬৩ হাজার ৯৭২ জনের টিকাকরণ সম্পূর্ণ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

উল্লেখ্য, করোনার জেরে দেশে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা কমলেও দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা বেড়েছে। সেইসঙ্গে বেড়েছে দৈনিক সুস্থতার সংখ্যাও। জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। তবে এর পাশাপাশি সুস্থের সংখ্যাটাও দেশে বেড়েছে। দৈনিক মৃত্যুতে প্রথম স্থানে রয়েছে দেশের মধ্যে মহারাষ্ট্র। একদিনে সেখানে মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনের। শেষ পাওয়া খবর অনুসারে, দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১ লক্ষ ৫৪ হাজার ৭০৩ জন ও আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৭ লক্ষ ৯০ হাজার ১৮৩। করোনাকে জয় করে সুস্থ হয়েছেন ১ কোটি ৪ লক্ষ ৮০ হাজার ৪৫৫ জন মানুষ। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় মৃত্যু ১০৭ জনের হয়েছে। গতকাল অর্থাৎ বুধবার একদিনে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১১০ এবং দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৩৯।




%d bloggers like this: