দ্রুতই চালু হচ্ছে ভারত-ব্রিটেন উড়ান, থাকছে নয়া বিধিনিষেধ

নিজস্ব প্রতিবেদন: করোনা আবহে ফের উদ্বেগ বাড়ালো করোনার নয়া স্ট্রেন। ব্রিটেনে করোনার নয়া স্ট্রেনের দেখা মিলতেই সেদেশের প্রধানমন্ত্রী সকলকে সতর্ক করে দেন। সেদেশের প্রধানমন্ত্রী এও জানান, নয়া করোনার সংক্রমণ ক্ষমতা অনেক বেশি। আগের থেকেও এই করোনা আরও বেশি শক্তিশালী। নয়া স্ট্রিমের খবর সামনে আসতেই বিভিন্ন দেশ সাবধানতা অবলম্বন করতে শুরু করে দেয়। পাশাপাশি ব্রিটেনের বিমান প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা জারি করে বহু দেশের সরকার। এরমধ্যে রয়েছে ভারতও। ব্রিটেনের নয়া স্ট্রিমের কথা প্রকাশ্যে আসতেই ভারত – ব্রিটেনের সমস্ত বিমান প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সাথে বহু নিয়ম-রীতি আরোপ করা হয় এয়ারপোর্টগুলিতে।

কিন্তু এবার কেন্দ্র সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল। জানা যাচ্ছে, আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে ফের ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে বিমান পরিষেবা শুরু হতে চলেছে। গোটা দেশে নতুন স্ট্রেন নিয়ে আতঙ্কের আবহেই শুরু হচ্ছে এই পরিষেবা। নয়া করোনা পরিস্থিতিতে যাত্রীদের জন্য নানান বিধি আরোপ করেছে সরকার। প্রতিটি বিমান সংস্থাগুলিকে প্রতিটি নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত একাধিক বিধি জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। উক্ত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে-

১. ভারতের প্রতিটি বিমান পরিষেবাকে নিশ্চিত করতে হবে যাত্রীরা করোনা নেগেটিভ কি না প্রতিটি যাত্রীকে করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট দেখাতে হবে।

২. ভারতে বিমান পৌঁছনোর পরই প্রতিটি যাত্রীকে আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করাতে হবে।

৩. এমনকি সরকার এও নির্দেশ দিয়েছে, যদি যাত্রীর করোনা রিপোর্টে নেগেটিভ আসেও, তবুও সকলকে বাধ্যতামূলক ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

৪. পাশাপাশি প্রত্যেক যাত্রীকে আগের ১৪ দিনের ভ্রমণ ইতিহাস জানাতে হবে।

৫. ভিন্ন দেশ থেকে ৮ থেকে ৩০ জানুয়ারির মধ্যে যারা ভারতে ফিরবেন, তাঁদের সেলফ ডিক্লারেশন ফর্ম পূরণ করতে হবে। বিমানে ওঠার ৭২ ঘণ্টা আগে এই ফর্ম পূরণ করে বিমানবন্দরের অনলাইন পোর্টালে জমা দিতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতিটি বিমান সংস্থাকে।

৬. সরকারের এই নয়া নির্দেশিকা ৩০ জানুয়ারি রাত পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

৭ যদিও কারোর রিপোর্ট পজেটিভ মেলে তবে তাঁদের স্পাইক জিন-বেসড আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করানো হবে।

নয়া স্ট্রেনের খোঁজ পেতেই ভারত সরকারের তৎপরতার মধ্যেই ভারতে হদিশ মেলে নয়া স্ট্রেনের। ধীরে ধীরে করোনার নয়া স্ট্রেনে আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। আজ শনিবার কলকাতায় ব্রিটেন ফেরত আরও একজনের শরীরেও মেলে কোরোনার নয়া স্ট্রেন। সূত্রের খবর তাঁকে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। এরসাথে কলকাতার কানাডা ফেরত এক যুবতি নতুন স্ট্রেনে আক্রান্ত কি না তা খতিয়ে দেখছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর৷ জানা গিয়েছে, দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা ওই করোনা আক্রান্ত যুবতির অবস্থা খুবই সংকটজনক। এবার থেকে সকল বিমান যাত্রীদের আগত অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করাতে হবে। যাঁদের শরীরে করোনার নতুন স্ট্রেনের হদিস মিলবে, তাঁদের সাথেসাথেই পৃথক আইসোলেশনে পাঠানো হবে। এবং আক্রান্ত যাত্রীর সাথে তাঁর সহযাত্রীদেরও প্রত্যেককে বাধ্যতামূলকভাবে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে থাকতে হবে। পাশাপাশি জানা যাচ্ছে, করোনার নয়া স্ট্রেন ছুঁয়ে ফেলেছে চিনকেও।

উল্লেখ্য, গত বছর অর্থাৎ ২০২০-এর ডিসেম্বর মাসে করোনার নতুন স্ট্রেনের হদিশ পাওয়া যায় ব্রিটেনে। এই নয়া স্ট্রেন করোনা ভাইরাসের অন্য স্ট্রেনের তুলনায় ৭০ শতাংশ বেশি সংক্রামক। ব্রিটেনে কোভিড-১৯ এর নতুন স্ট্রেনের হদিশ পাওয়া যাওয়ার পর গত ২৩ ডিসেম্বর কেন্দ্র নির্দেশ দেন ভারত ব্রিটেনগামী ও ব্রিটেন থেকে উড়ান সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার। গতকাল ফের বিমান পরিষেবা চালু করার কথা ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী। আগামী ৮ জানুযারি থেকে ফের বিমান পরিষেবা শুরু হবে ভারত এবং ব্রিটেনের মধ্যে। এদিন কেন্দ্র জানিয়েছে, এক সপ্তাহে উড়ানের সংখ্যা হবে প্রতিটি বিমান পরিবহণ সংস্থার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫। ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত দিল্লি, মুম্বই, ব্যাঙ্গালোর ও হায়দরাবাদ থেকে ব্রিটেনে বিমান ওঠানামা করবে। তবে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত উড়ানের সংখ্যা প্রতি সপ্তাহে হবে ১৫।




%d bloggers like this: