হাসিনাকে প্রতিশ্রুতি মত ভ্যাকসিন পাঠাচ্ছে ভারত, তালিকায় রয়েছে আরও ২১টি দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদন: করোনার প্রকোপে এক বছর থাকার পর শেষমেশ ভারতের বাজারে এল ভারতের তৈরী ভ্যাকসিন। যা নিয়ে আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা। এবার মোদির দেওয়া কথামতো সেই ভ্যাকসিন যাচ্ছে মঙ্গোলিয়া, ওমান, বাহরিনের মতো আরও ২১টি দেশে৷ আর এই ২১ টি দেশের তালিকার প্রথমে রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মতো সকল দেশের আগে প্রথম বাংলাদেশে যাচ্ছে করোনা প্রতিষেধক কো-ভ্যাকসিন। ভ্যাকসিন প্রদান তাই প্রথম হতে চলেছে ভারতের পদ্মাপারের প্রতিবেশীদের। দেশের বিভিন্ন রাজ্যেই ইতোমধ্যে এই ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। ট্রায়াল, ড্ৰাই রানের পরই এই ভ্যাকসিন বিতরণ শুরু হয়েছে। প্রথম ভারতে এই ভ্যাকসিন বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে করোনা আবহে যে সকল মানুষেরা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর এই ভ্যাকসিন দৌত্য আজ, বুধবার থেকেই শুরু হচ্ছে। যার প্রথম যাচ্ছে বাংলাদেশে, পাঠানো হচ্ছে ২০ লক্ষ ডোজ কোভিশিল্ড টিকা৷ ভারত থেকে এই ভ্যাকসিন বিশেষ বিমানে এই টিকা যাবে ঢাকায়৷ তারপরে সেই টিকা ভারতীয় হাইকমিশনের তরফে তুলে দেওয়া হবে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদের হাতে৷

বাংলাদেশের পর ধাপে ধাপে বাকি ২১টি দেশে পৌঁছবে কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিন দু’টি ভ্যাকসিনই৷ জানা গিয়েছে, পরবর্তীকালে আরও অনেক দেশে যাবে করোনা ভ্যাকসিন। বিদেশে টিকা পাঠানোর আগে একটি বৈঠক করা হয়, যাতে টিকা পাঠানোর সময় কোনও অসুবিধায় পড়তে না-হয়। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই সিরাম ইনস্টিটিউট এবং ভারত বায়োটেক সংস্থার শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বেশ কয়েক দফা আলোচনা সেরে ফেলছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আমলারা৷ এ ব্যাপারে দু’টি টিকা প্রস্তুতকারক সংস্থাই নয়াদিল্লিকে সব রকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে৷ স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর, ‘শুভেচ্ছা নিদর্শন’ হিসেবে ওমান, মঙ্গোলিয়া, মিয়ানমার, বাহরিন, মরিশাস, ফিলিপিন্স, মালদ্বীপের মতো দেশে বিনামূল্যে ৮ লক্ষ ১০ হাজার ডোজ করোনা টিকা পাঠাবে ভারত সরকার৷ এই টিকার মধ্যে মধ্যে বেশির ভাগটাই হল কোভ্যাক্সিন৷ সিরাম ইনস্টিটিউটের সহায়তায় সেসেলশ-এও কিছু কোভিশিল্ড পাঠানো হবে৷ পাশাপাশি আফগানিস্তান, ভুটান, নেপালেও ভ্যাকসিন পাঠাবে ভারত৷ আগেই বিদেশে এই টিকা রপ্তানীর কথা ভেবেছিল দেশ। তাই কেন্দ্রের নির্দেশে বিদেশে রপ্তানি করার জন্য সিরাম ইনস্টিটিউটের তরফে আলাদা করে রাখা হচ্ছে কোভিশিল্ডের ২৫ লক্ষ ডোজ৷ ভারত বায়োটেকও টিকা আলাদা করে রাখছে৷ সরকারি সূত্রের দাবি, ২৬ জানুয়ারি, প্রজাতন্ত্র দিবসের আগেই প্রথম পর্যায়ের টিকা রপ্তানির কাজ শেষ করা হবে৷

জানা যাচ্ছে, টিকা কেনার জন্য সিরাম ইনস্টিটিউট ও ভারত বায়োটেকের থেকে যোগাযোগ করেছে ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকাও৷ সে দেশের সরকারের সঙ্গে এই নিয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে সিরাম ইনস্টিটিউট-এর। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম পর্যায়ে ১৫ লক্ষ ডোজ কোভিশিল্ড পাঠানো হবে বলে সূত্রের খবর৷ ব্রাজিলেও টিকা পাঠানোর ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে ভারত বায়োটেক৷তবে নয়াদিল্লির কাছ থেকে টিকা কেনা নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করেনি ইসলামাবাদ। এবং পাকিস্তানকে টিকা ‘উপহার’ পাঠানো নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি ভারতও। এখনও কোনও সঠিক জানা যাচ্ছে না। সবটাই সময় ও পরিস্থিতির উপর নির্ভর করছে। এর আগে করোনার প্রথম পর্যায়ে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ট্যাবলেট বিদেশে রপ্তানি করে নজির গড়েছিল মোদী সরকার৷ সেসময় ভারতে এই ট্যাবলেট ব্যবহার শুরু হয়েছিল, আর গোটা বিশ্ব যখন হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ট্যাবলেটের জন্য হন্যে হয়ে গিয়েছিল। ঠিক সেই সময়েই বিশ্বের ১৪০টি দেশকে এই ট্যাবলেট দিয়ে পরিত্রাতার ভূমিকায় উঠে এসেছিল ভারত৷ করোনা টিকার ক্ষেত্রে যদিও তা নয়৷ কারণ এখন দেশের ১৩৫ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে মাত্র ৩০ কোটিকেই কষ্টেসৃষ্টে টিকার প্রথম ডোজ দিতে পারবে কেন্দ্র৷ তারপরে সবটাই নির্ভর করছে টিকা প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির উপরেই৷ পরের পর্যায়ে সংস্থাগুলি টিকার ডোজ তৈরি করলে তবেই দেশবাসীরা টিকা পাবেন৷ এরূপ অবস্থায় দেশের এই টিকা বিদেশে রপ্তানি করে ভ্যাকসিন কূটনীতি করা কতখানি যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠতে পারে৷

উল্লেখ্য, ভারতে এসে পৌঁছেছে করোনার নয়া স্ট্রেন, যা কিনা আগের থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং যার সংক্রামক ক্ষমতাও অনেক বেশি। করোনার নতুন স্ট্রেনের আতঙ্কের মাঝেই রাজ্যে শুরু হয়েছে ভ্যাকসিনের মহড়া।এদিকে এই নয়া স্ট্রেন ছড়িয়ে পড়তে চলেছে কিনা, চিকিৎসক-গবেষকদের উদ্বেগ সেদিকেই। পাশাপাশি এখন করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ এলেও তা যথার্থ কিনা সাধারণ মানুষের এই চিন্তা বা উদ্বেগ দূর হচ্ছে না সহজে। করোনার মোকাবিলায় ভ্যাকসিন বিতরণ প্রসঙ্গে উঠে আসছে আরও নতুন নতুন প্রশ্ন। কেন্দ্রের ছাড়পত্র পাওয়া ভ্যাকসিনটি শেষপর্যন্ত আদৌ কাজ করবে তো? এই ভ্যাকসিন নেওয়ার পর শরীরে কিছু প্রতিক্রিয়া হবে না তো? সাধারণ মানুষের মনে এখন এসব প্রশ্নই দেখা যাচ্ছে। ভ্যাকসিন প্রক্রিয়া কতদূর সুষ্ঠুভাবে কার্যকর করা যাবে তা জানতে মহড়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে রাজ্যের ৩ জায়গায়।করোনার দ্বিতীয় স্ট্রেনে এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে কত মানুষ আক্রান্ত তার কোনও সঠিক হিসেব পরিসংখ্যান যদিও নেই রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের হাতে। তবে রাজ্যেও ঢুকে গিয়েছে এই নয়া স্ট্রেন, তার সন্দেহ নেই।




%d bloggers like this: