ডিসেম্বরেই করোনা ভ্যাকসিনের ১০ কোটি ডোজ আসছে ভারতে

দিল্লি: চিন থেকে উৎপন্ন হয়ে করোনা আজ গোটা বিশ্বে রাজ্ করছে। লকডাউন, নানান বিধি-নিষেধ মানার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও আক্রান্তের সংখ্যা তেমন কম নয়। এখন শুধু মানুষ অপেক্ষা করে রয়েছে করোনা ভ্যাকসিনের। বিজ্ঞানীরা বহু ওষুধ আবিষ্কার হয়েছে ও তার প্রয়োগ শুরু হয়েছে। কিন্তু তারমধ্যে বেশ কিছু ওষুধ বাতিল হয়েগিয়েছে। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, করোনা টিকা পরের বছরের শুরুতে বা এ বছরের শেষে এসে পৌঁছবে। এবার বিশ্বের বৃহত্তম ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক অ্যাস্ট্রাজেনেকা কোভিড -১৯ ভ্যাকসিন উত্‍পাদন বৃদ্ধি করছে বলে জানা গেল। ডিসেম্বরের মধ্যেই ভারতে ১০ কোটি ডোজ উত্‍পাদনের লক্ষ্য নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে সংস্থা। সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া লিমিটেডের প্রধান আদর পুনাওয়ালা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত পর্যায়ে ট্রায়ালের তথ্য যদি দেখায় যে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভাইরাস থেকে কার্যকর সুরক্ষা দিতে পারছে সেক্ষেত্রে ডিসেম্বরের মধ্যেই নয়াদিল্লি থেকে জরুরি অনুমোদন নেমে সংস্থা।

একটি সাক্ষাত্‍কারে সংস্থা প্রধান জানান যে উত্‍পাদন করা হবে প্রাথমিকভাবে সেই পরিমাণ ভারতের জন্য বরাদ্দ থাকবে। ২০২১ সালে ৫০ শতাংশের ভিত্তিতে আরও গরীব দেশগুলিতে ভ্যাকসিন পাঠানো হবে। প্রসঙ্গত, ভ্যাকসিন ন্যাশনালিজম ঠেকাতে এমন নির্দেশই জারি করা আছে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস (WHO)-এর তরফে। কার্যকরী প্রমাণিত হলে ডিসেম্বরে ভারতে কমপক্ষে ১০০ কোটি ডোজ টিকা উৎপাদনের জন্য জরুরি ভিত্তিক সরকারি অনুমোদন পাবে। বৃহস্পতিবার সেরাম ইনস্টিটিউট-এর সিইও আদর পুনাওয়ালা এই কথা জানিয়েছেন।বিশ্বের বৃহত্তম ভ্যাকসিন উত্‍‌পাদনকারী সংস্থার সিইও জানান, ইতিমধ্যে তাঁরা অ্যাস্ট্রাজেনকার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের চার কোটি ডোজ তৈরি করে ফেলেছেন। তাঁরা নোভাভ্যাক্স (Novavax)-এর শট তৈরিও শুরু করে দেবেন খুব শিগগিরই।

জানা গিয়েছে, এই দুটো টিকাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পুনাওয়ালার কথায়, ‘এটা খুবই বড় ঝুঁকি। তবে অক্সফোর্ড ও নোভাভ্যাক্সের টিকা দু’টিই কার্যকরী হবে বলে মনে হচ্ছে।’ তবে, তৈরি হয়ে থাকা অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের চার কোটি ডোজ আন্তর্জাতিক বাজারে জোগান দেওয়ার জন্য নাকি শুধুমাত্র ভারতের জন্য এ বিষয়ে খোলসা করে কিছু বলতে অস্বীকার করেন সংস্থার সিইও।তবে আগামী বছরের গোড়ায় পুরোপুরি অনুমোদন পেয়ে গেলে মোট ভ্যাক্সিনের ৫০% ভারতের জন্য এবং ৫০% দরিদ্র দেশগুলির জন্য WHO-এর কোভ্যাক্স প্রকল্পের স্বার্থে উৎপাদন করা হবে। উৎপাদিত ভ্যাক্সিনের প্রাথমিক অংশ আপাতত ভারতে ব্যবহারের জন্যই তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন পুনাওয়ালা। সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর সেরামের সিইও জানিয়েছেন, প্রথম দিকে অপেক্ষাকৃত দুর্বল এবং সামনের সারির কর্মীদের উপর এই টিকা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হল ভারতের ১৩০ কোটি জনগণের কাছে টিকা পৌঁছে দেওয়া, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে, যেখানে স্বাস্থ্য নেটওয়ার্ক খুবই দুর্বল।

ভারতে ইতিমধ্যে ১,৬০০ জনের নাম নথিভুক্ত করেছে এই অ্যাস্ট্রাজেনকার চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়ালের জন্য। পাশাপাশি নোভাভ্যাক্স ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু করার জন্যও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন চেয়ে আবেদন করবে।টিকা উৎপাদনের জন্য ব্রিটেন জরুরি ভিত্তিক অনুমোদন দিলে সাথে সাথে ভারতেও সেই তথ্য জমা দেবে সেরাম। তবে শুধু অনুমোদন পেলেই হবে না, সারা বিশ্বে কত দ্রুত এই কোভিড ভ্যাক্সিন প্রস্তুত ও সরবরাহ করা সম্ভব হবে, তার দিকেও নজর রাখতে হবে। ওয়াকিবহাল সূত্রে খবর, ভারতে কোভিড টিকাকরণ প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যে ৫০,০০০ কোটি টাকা সংরক্ষিত রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার। যদিও গত সেপ্টেম্বর মাসে পুনাওয়ালা দাবি করেছিলেন, এর জন্য কমপক্ষে ৮০,০০০ কোটি টাকা প্রয়োজন পড়বে। পরে অবশ্য এই নিয়ে মুখ খুলতে তিনি রাজি হননি।




%d bloggers like this: