ফ্রান্সে নিলামে উঠছে আইফেল টাওয়ারের ব্যবহৃত সিঁড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদন: প্যারিস শহরে অবস্থিত সুউচ্চ একটি লৌহ কাঠামো যা ফ্রান্সের সর্বাধিক পরিচিত প্রতীক, বিশ্বের আর্কষনীয় স্থানগুলির মধ্যে একটি প্যারিসের আইফেল টাওয়ার। ১৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে পরবর্তী ৪০ বছর যাবৎ পৃথিবীর উচ্চতম টাওয়ার ছিল গুস্তাভো আইফেল নির্মিত ৩২০ মিটার তথা ১০৫০ ফুট উচ্চতার এই টাওয়ার। আইফেল টাওয়ার দেখার জন্য প্রতিবছর ভিড় জমে সেই স্থানে। করোনা পরিস্থিতিতে কিছুটা ফাঁকা থাকলেও, পরিস্থিতি কাটলেই যে ভিড় উপচে পড়বে সেখানে, তা নিশ্চিত। এই করোনা পরিস্থিতিতেই তাই নিলামে উঠতে চলছে আইফেল টাওয়ার।আপনি চাইলে আপনিও এই সুযোগে কিনতে পারবেন আইফেল টাওয়ারের একটি অংশ। আগামী ১ ডিসেম্বর নিলামে উঠতে চলছে পুরনো দিনে আইফেল টাওয়ারে ব্যবহৃত একটি সিঁড়ির একাংশ। যা নিয়ে ইতিমধ্যে নেটদুনিয়ায় আলোচনাও শুরু হয়ে গিয়েছে।গুস্তাভে আইফেল এবং তাঁর সহযোগীরা ১৮৮৯ সালে তৈরী করেছিলেন ২.‌৬ মিটারের পুরনো আমলের প্যাঁচানো সিঁড়িটি। বর্তমানে যদিও সেটি তেমন কাজে লাগে না। এখন সকলেই সেখানে লিফ্ট ব্যবহার করেন। ২০১৬ সালে আইফেল টাওয়ারের একটি সিঁড়ি ৫ কোটি টাকায় নিলাম হয়েছিল। এবার এই সিঁড়ির নিলাম শুরু ২৬ লক্ষ টাকা থেকে। আবার কিছু সিঁড়ি মিউজিয়ামেও স্থান পেয়েছে।

ইতিমধ্যে সংস্থার তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিলাম প্রসঙ্গে বহু প্রচার হয়েছে। প্রচুর মানুষ সেই নিলামে যোগ দেওয়ার ইচ্ছেপ্রকাশও করেন। নিলামে এই সিঁড়ির দর যে আকাশ ছোঁয়া উঠতে পারে, তার সন্দেহ নেই। আর্টকুরিয়াল (Artcurial) নামে একটি সংস্থা আইফেল টাওয়ারের ওই সিঁড়ির অংশটি নিলামে তুলছে।আগামী ১ ডিসেম্বর নিলামে উঠতে চলছে আইফেল টাওয়ারে ব্যবহৃত একটি সিঁড়ির একাংশ। যা নিয়ে ইতিমধ্যে নেটদুনিয়ায় আলোচনাও শুরু হয়ে গিয়েছে।১৯৮৩ সালের ডিসেম্বরেই আইফেল টাওয়ারের ২০টি সিঁড়ির অংশ নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল। এরপর থেকেই মাঝেমধ্যেই কোনও না কোনওটি নিলামে উঠছে। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর ১০৪ দিন বিরতির পর ২৬ জুন পুনরায় খুলেছে আইফেল টাওয়ার। তবে শহরের চোখধাঁধানো দৃশ্য দেখতে পরিশ্রম করতে হয়েছে দর্শনার্থীদের! অনলাইন বুকিং- এর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা দর্শন করতে পারেন এটির। তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে আইফেল টাওয়ারের লিফটগুলো বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। এ কারণে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হচ্ছে পর্যটকদের, তবে দোতলার বেশি ওপরে যাওয়ার অনুমতি নেই কারও।

জানা যায়, গুস্তাভো ইফেল রেলের জন্য সেতুর নকশা প্রণয়ন করতেন এবং টাওয়ারটি নির্মাণে তিনি সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছিলেন। ১৮,০৩৮ খণ্ড লোহার তৈরি বিভিন্ন আকৃতির ছোট-বড় কাঠামো জোড়া দিয়ে তৈরী হয় এই টাওয়ার। ৩০০ জন শ্রমিক এই টাওয়ারের নির্মাণ যজ্ঞে অংশ নিয়েছিল। টমাস এডিসন এই টাওয়ার পরিদর্শন করে তিনি বলেন, “শ্রদ্ধা জানাই সেই সাহসী প্রতিষ্ঠাতা ও প্রকৌশলী এম আইফেলের প্রতি আধুনিক প্রকৌশলের নিদর্শনস্বরূপ এই বিশাল ও মৌলিক সৃষ্টির জন্য। যাঁর সৃষ্টি টমাস এডিসন, বন ডিউ এর মত বিশ্ববিখ্যাত প্রকৌশলীসহ সকল প্রকৌশলীদের জন্য গর্বের এবং মর্যাদার”।এই আইফেল টাওয়ারের সিঁড়ির নিলামে আকর্ষণ দেখিয়েছেন বহুজন। অপেক্ষায় রয়েছেন ১ ডিসেম্বরের। কার ভাগ্যে আস্তে চলেছে সেই অপূর্ব টাওয়ারের একটি অংশ, তাই দেখার বিষয়। এ বার এর নিলামে ওঠা দর অনেক উপরে উঠতে পারে, বলে মনে করছেন অনেকেই। তাই যদি আপনার পকেটেরও জোর আছে, তাহলে আপনিও হতে পারেন এই নিলামের অংশীদার।




%d bloggers like this: