কত রাত আধপেটাই শুতে হত ছোট্ট মান্যকে, বাসন মেজে, আধপেটা খেয়েই ‘মিস ইন্ডিয়া রানার্স আপ’

নিজস্ব প্রতিবেদন: ইচ্ছে, জেদ, মনোবল থাকলেই সমস্ত স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব, তা আরও একবার প্রমান করে দিলেন উত্তরপ্রদেশের মেয়ে মান্য সিং। মিস ইন্ডিয়া রানার আপ ২০২০ (Miss India runner-up 2020)। ভারতকে বিশ্বের দরবারে আরও উজ্জ্বল করলেন এই মান্য সিং। কিন্তু তাঁর এই সাফল্যের পথটা নিতান্তই সহজ ছিল না। তাঁর জীবনি অন্যের চোখ যেমন ভেজাতে পারে, তেমন অন্যকে অনুপ্রেরিত করতেও পারে। ২৩ বছরের মিস ইন্ডিয়া মান্য সিং নিজের জীবনের চোখ ভিজিয়ে দেওয়া কাহিনি নিজেই ইন্টারনেটে শেয়ার করেছেন। অত্যন্ত গরিবের সংসারে জন্ম তাঁর। ঠিকমতো দু’বেলা খাবার জুটত না। কখনও আবার আধপেটাই তাঁকে শুতে হত। আবার খিদের জ্বালায় কখনও কখনও ঘুমও আসত না ছোট্ট মান্যর। অভাব-অনটনের জেরে কিছুদিনের মধ্যে স্কুলে পড়াও বন্ধ হয়ে যায়।

মান্যর বাবা অটোচালক, রোজগার সামান্য ছিল। এভাবে বেশিদিন চলার ছিল না। অভাবের সংসারে স্বপ্নগুলো হারিয়ে যেতে থাকে মান্যর। আর অভাবের সংসারে দমবন্ধ হয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় মান্য। মান্যর বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, তুমি যদি মন থেকে কিছু চাও, তা পাবেই। তাই মিস ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলাম।” ২০১৭ সালের বিশ্বসুন্দরী মানুসী ছিল্লার ইনস্টাগ্রামে মান্যকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। মিস ইন্ডিয়া ২০২০ রানার-আপ মান্য। হরিয়ানার মেয়ে মনিকা শিওকন্দ মিস গ্র্যান্ড ইন্ডিয়া ২০২০-র শিরোপা জিতেছেন।

সেই ছোট্ট মেয়েটিই আজকের ভারত সুন্দরী মান্যা সিং। উত্তরপ্রদেশের এই কন্যা বিচারকদের প্রশ্নের উত্তরে মুগ্ধ করেন। পেয়েছেন রানার্স আপ -এর শিরোপা। এবার মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় তিনি ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করবেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবন সম্পর্কে ব্যক্ত করেন তিনি। মান্যা জানান, “আমার রক্ত, ঘাম এবং চোখের জলই আমাকে স্বপ্ন দেখতে সাহস জুগিয়েছে’। অটো চালকের মেয়ে হওয়ার দরুন স্কুলে বেশিদিন পড়ার সুযোগ হয়নি। ১৪ বছর বয়স থেকেই কাজ শুরু করি।”

কিশোরী মান্য কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবন অতিবাহিত করেছেন। দিনে পড়াশোনা, সন্ধ্যায় বাসন মেজে উপার্জন করতেন। শেষে টাকার প্রয়োজনে রাতে কল সেন্টারে কাজ করতে শুরু করেন তিনি। আর এভাবে কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমেই পড়াশোনা শেষ করেন তিনি। টাকার অভাব মেটাতে ও সামান্য কিছু টাকা বাঁচাতে গাড়িতে না উঠে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেঁটে যাতায়াত করতেন মান্য। পাশাপাশি তিনি এ-ও জানান, মান্য তাঁর পরীক্ষার ফি জমা দেওয়ার জন্য মা-র কিছু গয়না বন্ধক রাখতে হয়। এ ভাবেই পরিস্থিতির সঙ্গে কঠিন লড়াই করে তাঁর বড় হওয়া। আর তারপর শেষমেশ সেই পরিশ্রম সফলের রূপ নিল। মিস ইন্ডিয়ার মঞ্চে পৌঁছে রূপকথার মতো হয়ে উঠেছে মান্যের জীবন-গল্প। মান্য জানান, পুরস্কারের টাকা বাবা, মা এবং ভাইয়ের হাতে তুলে দিতে চান তিনি।




%d bloggers like this: