বিজেপি থেকে রাতারাতি তৃণমূলে যোগ, বর্ধমানে তুমুল উত্তেজনা

বর্ধমান: বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল যুব কংগ্রেসে যোগ দিল বেশ কয়েকজন। তৃণমূল যুব কংগ্রেস থেকে দাবি করছেন, এদিন তাঁদের দলে যারা যোগ দিয়েছেন সাতজন, যারা বিজেপির বিভিন্ন পদে ছিলেন। আর তাঁদের অনুগামীরাও এক এক করে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। এদিন বর্ধমান শহরের বেড় মোড় এলাকায় এক অনুষ্ঠানে বিজেপি ছেড়ে আসা কর্মীদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের পূর্ব বর্ধমান জেলার সভাপতি রাসবিহারী হালদার। তবে এই দলবদলের ঘটনাকে প্রকাশ্যে গুরুত্ব দিতে চাইছে না বিজেপি নেতৃত্ব।

২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এখন সব রাজনৈতিক দলগুলোর চলছে ঘর গোছানোর পালা। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অন্য দল থেকে আসা মানুষেরা উল্লাসের সঙ্গে বরণ করে নিচ্ছে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস দুপক্ষেই। এদিকে দল ভাঙানোর খেলায় একে অপরকে টেক্কা দিতে মরিয়া হয়ে ছুটছে রাজ্য রাজনীতির দুই প্রতিপক্ষ। এদিন শনিবার সেরকমই এক কর্মসূচিতে বিজেপি ছেড়ে আসা কর্মীদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিলেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের পূর্ব বর্ধমান জেলার সভাপতি রাসবিহারী হালদার। রাসবিহারী হালদার জানান, এদিন যাঁরা যোগ দিলেন তাদের মধ্যে এমন সাতজন রয়েছেন যাঁরা বিজেপি যুব শাখার গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। এছাড়াও ওই দলের মন্ডল কমিটি ও বুথ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীও রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গেই তাঁদের অনুগামীরাও এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের কাজে যোগ দেওয়ার জন্য তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেন বলে তিনি জানান।

বিজেপির যুব মোর্চার জেলা সভাপতি শুভম নিয়োগী জানান, আমাদের কিছু কর্মীকে চাপ দিয়ে দলে যোগ দিতে বাধ্য করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কারণ তৃণমূল পায়ের তলায় মাটি সরে যাওয়ায় ভয় পেয়ে গেছে। তারা বিভিন্ন এলাকায় আমাদের কর্মীদের নানা রকম ভীতি প্রদর্শন করছে। আর প্রাণভয়ে তাদের চাপের কাছে আমাদের কিছু কর্মী সমর্থক মাথা নত করতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু এই ঘটনায় আমরা একটুও বিচলিত নই। অন্যদিকে এখন বিজেপিতে যোগদানের জোয়ার চলছে রাজ্যজুড়ে। বিজেপির লোকেরা জানাচ্ছেন, তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে অনেকেই আমাদের দলে যোগ দেওয়ার জন্য পা বাড়িয়ে রয়েছেন। নতুন বছরের শুরুর দিকে তৃণমূল যুব কংগ্রেস থেকে অনেকেই আমাদের দলে যোগ দেবেন। এদিন অনুষ্ঠান করে তাদের দলে নেওয়ার প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে বিজেপিতে।




%d bloggers like this: