প্রধানমন্ত্রীর’মন কি বাত’ অনুষ্ঠান চলাকালীন থালা বাজিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন কৃষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদন: মোদির নয়া কৃষি আইনের বিরুদ্ধে গোটা দেশের কৃষকরা আন্দোলন মুখর হয়েছে। দিল্লির পথে নেমেছে দেশের ভিন্ন প্রান্তের কৃষক সংগঠন। বহু সপ্তাহ গড়িয়েছে। আন্দোলনকরি কৃষক মিছিল, বন্ধ এমনকি প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে বৈঠক পর্যন্ত করেছে, কিন্তু এখনও কোনও ফল মেলেনি। কৃষকরা তাদের দাবিতে অনড়। তাদের একটাই দাবি, নয়া কৃষি আইন প্রত্যাখ্যান করে নিতে হবে। সেই ক্ষোভ ফের আজ উগরে দিল কৃষকগণ। মোদির ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের সময় থালা বাজিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন দিল্লি সীমান্তে আন্দোলনরত কৃষকরা। কৃষকদের এই আন্দোলন একমাসেরও বেশি সময় গড়াতে চলল। ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের নেতা জগজিৎ সিংহ দালেওয়ালা জানান, তাঁরাই প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত অনুষ্ঠান’- এর সময় থালা বাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

তাঁর কথায়, এর আগে করোনা আবহে জনতা কার্ফুতে থালা বাজানোর আহ্বান জানান খোদ প্রধানমন্ত্রী। তাই এবার মোদির সেই চিন্তাধারা ফের মোদির বিরুদ্ধে ব্যবহার করল কৃষকরা। উল্লেখ্য কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন জানাতে আগেই এনডিএ জোট থেকে বেড়িয়ে গিয়েছে রাষ্ট্রীয় লোকতান্ত্রিক পার্টি তথা আরএলপি। আরএলপি নেতা তথা নাগপুরের সাংসদ হনুমান বেনিয়াল এই সিদ্ধান্তের কথা কৃষকদের মিছিলে জানিয়েছিলেন। এর আগে শিরোমনি আকালি দল এনডিএ ছাড়ে।

তবে এটি প্রথমবার নয়, এর আগেও থালা বাজিয়ে প্রতিবাদ করেন কৃষকরা। এর আগেও মোদী বলেন, এই নয়া কৃষি আইন কৃষকদের ভালোর জন্য করা হয়েছে কিন্তু কৃষকরা তার বিরুদ্ধে। ফের শুক্রবার কৃষকদের উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সেই ভাষণের সময়ই থালা বাজিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন দিল্লি সীমান্তে আন্দোলনরত কৃষকরা। নয়া ৩ কৃষি আইনের বিরুদ্ধে থালা বাজিয়ে প্রতিবাদ করেন আন্দোলনকারীরা। এর আগেও নরেন্দ্র মোদির ভাষণ চলাকালীন থালা, ঘণ্টা বাজিয়ে, স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ করেন কৃষকরা। রবিবারও ব্যতিক্রম কিছু ঘটল না। এদিন সীমান্তে আন্দোলনরত কৃষকদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদের এই ছবি সামনে এসেছে। এদিকে, আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে ফের বৈঠকে বসার কথা জানায় কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী মঙ্গলবার এই বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত কৃষকরা। তবে মঙ্গলবারের এই বৈঠক আজই হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা পরে স্থগিত করে দেওয়া হয় বলে জানান কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়ত।

কৃষকদের প্রথম থেকেই দাবি, ৩ আইন পুনর্বিবেচনা করতে হবে। পাশাপাশি ন্যূনতম সহায়ক মূল্য দেওয়ার কথা বলেন তাঁরা। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে কৃষক নেতা দর্শন পাল বলেন, আগামী বুধবার কুন্ডলি-মানেশ্বর-পালওয়ালে ট্রাক্টর নিয়ে ফের মিছিল করবেন কৃষকরা। তিনি আরও জানান, “দিল্লি এবং দেশের মানুষদের কাছে নতুন বছরে কৃষক আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি আমরা”। চলতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে পাশ হয় ৩ কৃষি আইন নাড়িয়ে দিল গোটা দেশকে। কৃষকদের পাশে রয়েছেন অনেকেই। নয়া কৃষি আইনের প্রতিবাদে গত ২৬ নভেম্বর থেকে লাগাতার আন্দোলন করে চলেন কৃষকরা। এর সাথে শুরু করেছেন রিলে অনশনও। আন্দোলন শুরুর প্রথম থেকেই একাধিকবার কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে কৃষকদের। কৃষকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কিন্তু কোনও সমাধান মেলেনি। কৃষকরা তাদের দাবিতে অনড়। এত কিছুর পরেও অনমনীয় কৃষকরা। অন্যদিকে কেন্দ্রও কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। এবার আগামী মঙ্গলবারের বৈঠকে কী হবে? সেই দিকেই তাকিয়ে দুপক্ষ। যাদু কি এর কোনও সমাধান মিলবে, সেটাই প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন।

কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন করার জন্য রাষ্ট্রীয় লোকতান্ত্রিক পার্টির প্রধান হনুমান বেনিওয়াল শনিবার নিজেই বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেন। একই দিনে লোকসভার প্রাক্তন সাংসদ হরিন্দর সিং খালসাও ইস্তফা দিয়ে বিজেপি’র সম্পর্ক ছিন্ন করেন। আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা যে ‘অসংবেদনশীল’ আচরণ করছেন, তা মন থেকে মেনে নিতে পারছেন না বলে জানান হরিন্দর সিং। তাই বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখতেই ইস্ততা দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, “কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে পরিবার-বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে কৃষকরা আজ রাস্তায় নেমে এসেছেন। এই ঠান্ডায় খোলা আকাশের নীচে রাত কাটাচ্ছেন। কেন্দ্র তবু নির্বিকার। কৃষকদের প্রতি কেন্দ্রের এই অসংবেদশীলতা তাঁকে ব্যথিত করেছে। তাই বিজেপি থেকে ইস্তফা দিলেন।” এরমধ্যে আরেক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল। ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন-এর মুখপাত্র, দিল্লির কৃষক বিক্ষোভের অন্যতম মুখ, কৃষক নেতা রাকেশ টিকৈত প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন বলে তিনি জানান। এ কথা জানান রাকেশ টিকৈতের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তিনি শনিবার থানায় লিখিত অভিযোগ করেন, জানান, ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের মুখপাত্র, প্রবীণ কৃষক নেতাকে ফোনে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে।অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি ফোন করে কৃষক নেতাকে খুনের হুমকি দিয়েছেন।




%d bloggers like this: