ফের সিঙ্ঘু সীমান্তে আত্মঘাতী এক আন্দোলনরত কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদন: নয়া কৃষি আইনের বিরুদ্ধে গোটা দেশের কৃষকরা প্রতিবাদ মিছিলে সামিল হয়েছে। দিল্লিতে টানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে কৃষকগণ। বহু মানুষ তাদের পক্ষে সরব হয়েছেন।

বহুবার বহু বৈঠক হয়েছে, কিন্তু তাতে কোনও ফল মেলেনি। এরমধ্যে সিঙ্ঘু সীমান্তে ক্রমেই বেড়েছে কৃষক আত্মহত্যার সংখ্যা। আন্দোলনের সময় প্রায় ৫০ জন কৃষক প্রাণ হারিয়েছেন। ফের আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন সিঙ্ঘু সীমান্তে আন্দোলনকারী এক কৃষক।জানা গিয়েছে, আত্মঘাতী কৃষকদের নাম অমরিন্দর সিংহ। পুলিশ সূত্রে খবর, বিষ খেয়ে ৫০ বছর বয়সী ওই কৃষক আত্মহত্যা করেন।

কৃষকদের আত্মহত্যার সংখ্যা এতো বাড়ছিল যে তাদের জন্য কাউন্সিলিং-এর ব্যবস্থা করা হয়। কাউন্সিলিং করতে নামেন মার্কিন এনজিও ইউনাইটেড শিখ। শনিবার সন্ধে নাগাদ অমরিন্দর সিংহ আত্মহত্যা করেন। সাথে সাথেই তাঁকে সোনপথ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালেই মৃত্যু হয় তাঁর। কৃষক আত্মহত্যা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে হরিয়ানা পুলিশ। কেন আত্মহত্যা করল? ঘটনার নেপথ্যে কী আছে? তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আদৌ এই ঘটনার সঙ্গে আন্দোলনের যোগ আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

এর আগেও একাধিক কৃষক আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। অনেক কৃষক মারা গিয়েছেন। কৃষকদের জন্য কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। এই কাউন্সেলিং করতে ময়দানে নেমেছে মার্কিন এনজিও ইউনাইটেড শিখ। চলতি মাসেই গাজিপুর সীমান্তে আত্মহত্যা করেন আরও এক কৃষক। আত্মঘাতী সেই কৃষকের নাম কাশ্মীর সিংহ। উত্তরপ্রদেশের রামপুরের বাসিন্দা কাশ্মীর সিংহ, বয়স ৭৫ বছর। এছাড়াও আন্দোলনরত আবহে পঞ্জাবের জালালাবাদের এক আইনজীবী টিকরি সীমান্তে আত্মহত্যা করেন। পুলিশ তাঁর দেহের সামনে থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করে।

যেখানে লেখা ছিল ‘কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে জীবন ত্যাগ করলাম’। এরপর গত বছর ডিসেম্বরে গুর্লাব সিং নামে ২২ বছর বয়সি এক কৃষক আত্মহত্যা করেন। নয়া কৃষি আইনের বিরুদ্ধে কৃষকদের আন্দোলন ১ মাস ১৪ দিনে পা রেখেছে। গত বছর ২৬ নভেম্বর থেকে কেন্দ্রের ৩ কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে দিল্লি সীমান্তে আন্দোলনে বসেন কৃষকরা। আন্দোলন চলাকালীন কেন্দ্রের সঙ্গে আট দফায় বৈঠক হয়েছে কৃষকদের। কিন্তু বৈঠকে কোনও সমাধান পাওয়া যায়নি। কৃষকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আগামী ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসে ট্র্যাক্টর নিয়ে দিল্লিতে প্যারেড করবেন কৃষকরা। পাশাপাশি ওই দিন রাজভবনের সামনে হবে পিকেটিং।

নয়া কৃষি আইন নিয়ে কেন্দ্র ও আন্দোলনকারী কৃষকদের মধ্যে বেশ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। গত শুক্রবার দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক হয়। আন্দোলনকারী কৃষকরা জানিয়েছে, যতক্ষণ না নয়া এই আইন তুলে নেওয়া হবে, ততক্ষন কৃষকরা বাতিলের দাবিতে অনড় থাকবেন। যদি কৃষি আইন ফিরিয়ে নিলে তবেই তাঁরা বাড়ি ফিরবেন। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ওই আইনে কিছু সংশোধন করার কথা বলা হয়েছিল। সেদিনও সেই বিষয়টির উপর সরকারি তরফে জোর দেওয়া হয় বলে খবর। যদিও কেন্দ্র বরাবর বলে এসেছে, নয়া তিনটি কৃষি আইন সারা দেশের জন্য তৈরি করা হয়েছে। শুধুমাত্র পাঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষকদের জন্য তৈরি করা হয়নি।

আন্দোলনকারীরা জানান, আগামী ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসে ট্র্যাক্টর নিয়ে দিল্লিতে প্যারেড করবেন বিক্ষোভকারীরা। আন্দোলন বন্ধ না হলেও নতুন বছরেও মিলল না কৃষকদের সমস্যার সমাধান সূত্র। ৬ জানুয়ারি থেকে আগামী ১৫ দিনের জন্য নতুন দাবি নিয়ে কৃষকরা আন্দোলনে সরব হবে। সেই অনুযায়ী ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে মহড়াও। দিল্লির ৬ সীমান্তে রাস্তা আটকে হচ্ছে মহড়া।




%d bloggers like this: