করোনার ভ্যাকসিনে জল্পনার শুরু, কালোবাজারি রুখতে কি করবে সরকার

বিশেষ প্রতিনিধি : দেশে চলছে করোনা ভ্যাকসিনের ট্রায়াল। দ্রুত ভ্যাকসিন যাতে সকলের কাছে পৌঁছে যায়, এখন তাই লক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে কেন্দ্রের। তবে এখনও কেউ নিশ্চিত ভাবে বলতে পারছে না, ভ্যাকসিন কবে আসবে। গোটা দেশ ভ্যাকসিনের অপেক্ষায়, সুতরাং ভ্যাকসিন বাজারে এলেই তার চাহিদা হবে আকাশ ছোঁয়া।

আমরা দেখেছি, যখনই কোনও জিনিসের চাহিদা বেশি হয় তখনই তা নিয়ে কালোবাজারি শুরু হয়ে যায়। যেমন করোনা কালে স্যানিটাইজার, মাস্ক নিয়ে কালোবাজারি শুরু হয়েগিয়েছিল। ফের মোটা মুনাফার লোভে, এই ভ্যাকসিন নিয়েও কালোবাজারি শুরু হবে না তো? বিশেষজ্ঞদের মনে উঠেছে আশঙ্কা। আর এই কালোবাজারি রুখতে পারে একমাত্র সরকার। সরকারের সঠিক নজরদারি ও তৎপরতায় সেই কালোবাজারি থেকে রক্ষা পাবে এই ভ্যাকসিন। আর কালোবাজারি শুরু হলেই ভ্যাকসিনের খামতি ঘটবে, মূল্য বেড়ে যাবে, যা বিপদ ডেকে আনতে পারে।

দেশে ইতিমধ্যে করোনা ভ্যাকসিন ‘কোভ্যাক্সিন’-এর ট্রায়ালের প্রস্তুতি শুরু হয়েচিয়েছে। এর আগে রেমডেসিভির যখন বাজারে এসেছিল, সেই ওষুধ নিয়ে শুরু হয়ে যায় কালোবাজারি। মে মাসে করোনা চিকিৎসায় রেমডেসিভির প্রয়োগে ছাড়পত্র দেয় আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। আর তারপরই বাড়তে থাকে এই ওষুধের চাহিদা। এই ওষুধ বাজারে আসার আগেই বিপুল কালোবাজারির অভিযোগ ওঠে। কোথাও কোথাও ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় রেমডেসিভির বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ।

পরে ওষুধটির দাম দেখা যায় ২ হাজার টাকা।বিশেষজ্ঞদের দাবি, করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে যাতে কালোবাজারি না হয়, তাঁর জন্য সরকারের তরফে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হোক। সব ঠিকঠাক থাকলে ডিসেম্বরের শেষেই চলে আসতে পারে করোনা প্রতিষেধক। আর এই ভ্যাকসিন নিয়ে কালোবাজারির আশঙ্কা করছেন অনেকেই। তাই গোটা দেশে এই ভ্যাকসিন বন্টনের দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। সমস্ত মানুষ যাতে আসল ভ্যাকসিন হাতে পায়, সেদিকে নজর রাখতে হবে। চিকিৎসকদের মতে, ভ্যাকসিনটা সরকার সব কিনে নিয়ে বণ্টন করলে কালোবাজারির সুযোগ নেই। তবে যদি সরকার আংশিক নেয়, সেক্ষেত্রে নজরদারি না থাকলে কালোবাজারির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ভ্যাকসিন নিয়ে জালিয়াতির আশঙ্কা ভ্রান্ত নয়, কারণ কোরান আবহে বাজারের পরিস্থিতি তাঁর প্রমান দিচ্ছে। সাধারণ মানুষ করোনা জেরে জঞ্জরিত, এই পরিস্থিতিতে তাদের একমাত্র লক্ষই হচ্ছে ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দিকে। এই পরিস্থিতিতে তাদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অনেকেই ভ্যাকসিনের কালোবাজারি করার লক্ষে রয়েছে। এরমধ্যে সোশাল মিডিয়ায় একটি পর্যটন সংস্থার হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ ভাইরাল হয়েছে।

যেখানে জেম ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস নামে মুম্বইয়ের একটি সংস্থার তরফে দাবি, ১ লক্ষ ৭৪ হাজার ৯৯৯ টাকার বিনিময়ে আগামী ডিসেম্বরে তারা মুম্বই থেকে নিউইয়র্কের একটি বিশেষ ট্যুর আয়োজন করেছে। তিন রাত, চার দিনের সেই ট্যুরে যেমন থাকা, ঘোরা হবে, সাথে দেওয়া হবে একটি করে করোনা ভ্যাকসিনের ডোজ। সংস্থাটির দাবি, এই বিজ্ঞাপন দেওয়ার পর ট্যুর সম্পর্কে জানতে চেয়ে ২ হাজারের বেশি ফোন, ৭০০-র বেশি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ এবং এক হাজারের বেশি ইমেল এসেছে।এরপরই বোঝা যাচ্ছে, মানুষের চাহিদার টপে এখন ভ্যাকসিন। বাজারে আসলেই মানুষ তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে।

মানুষের এই ভ্যাকসিনের প্রতি দুর্বলতাকেই হাতিয়ার করে ব্যবসা বাড়ানোর এই ভাবনার নিন্দায় সরব বিভিন্ন মহল। যদিও, পর্যটন সংস্থার ডাইরেক্টর এনিয়ে সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।অনেকেই মনে করেছে, যদি বিদেশে কোথাও এরূপ সুযোগ থাকে, তাহলে অনেকেই ভ্যাকসিনের লোভে ট্যুর করবেন। এরমধ্যে কিছু মানুষ রয়েছে, যাদের উপর এই ভ্যাকসিনের কোনও প্রভাব নেই। অনেকসময় তাদের কাছে সঠিক জিনিস সঠিক সময়ে পৌঁছোয় না। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার কাছে যে সমানভাবে ‘ভ্যাকসিন’ পৌঁছয় না, তার প্রমাণ মিলেছিল ২০০৯ সালেই। চিকিৎসক অভিজিৎ চৌধুরীর দাবি, যাদের অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ, তাদের কাছে আগে পৌঁছতে হবে। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার কাছে যে সমানভাবে ‘ভ্যাকসিন’ পৌঁছয় না, তার প্রমাণ মিলেছিল ২০০৯ সালেই।

যখন সোয়াইন ফ্লু-তে ভরে গিয়েছিল বিশ্ব। তখন দেখা গিয়েছিল, বিশ্বের ধনী দেশগুলি ভ্যাকসিনের অগ্রিম বুকিং করে রেখেছিল। অর্থাৎ ভ্যাকসিন কার্যকর প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী সংস্থা তা ওই দেশগুলিকে দিতে বাধ্য থাকবে। এরফলে আফ্রিকার বহু গরীব দেশ প্রথম দিকে ভ্যাকসিন পায়নি। কারণ তাদের কাছে আগাম বুকিং করার মতো অর্থ ছিল না। এবারও করোনা মহামারীর ক্ষেত্রেও ভ্যাকসিন বন্টনে সেই ধনী-গরীবের বৈষম্য না হয়, সেদিকে সরকারের নজর দেওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।




%d bloggers like this: