করোনার বছর পার , প্রথমবার সংক্রমণ নামল ৩০ হাজারের নিচে

নিজস্ব প্রতিবেদন : আজকের এ দিনেই আমাদের কানে এসেছিল করোনা ভাইরাসের নাম। কিন্তু নামটা শুনেও কেউ প্রথমে অনুমান করা যায়নি, এই ভাইরাস মানুষের জীবনে এতটা প্রভাব ফেলবে। ভাইরাসের নামটা ছিল পুরোপুরি অজানা। এই ভাইরাসের জেরে ১৭ নভেম্বর চিনের উহান প্রদেশে আক্রান্ত হয়েছিল প্রথম একজন। আজ সেই সংখ্যাটা পেরিয়েছে ৫ কোটি। গোটা বিশ্বে আজ করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫ কোটিরও বেশি। করোনার জেরে বিশ্বের বহু মানুষ তাঁদের আপনজনকে হারিয়েছে। বহু দেশে করোনাতে মৃত্যু মিছিল বয়ে গিয়েছে। ভারতেও সংক্রমণের হার ছিল আকাশ ছোঁয়া। গত কয়েকমাসে সেই হার অনেকটা কমেছে। ঠিক একবছর পার করেই গত চারমাসে এই প্রথমবার দেশে ৩০ হাজারের নীচে নামল দৈনিক সংক্রমণ। তবে দেশে মৃত্যুর হার বেড়েছে, অন্যদিকে বেড়েছে দৈনিক সুস্থতার সংখ্যাও।

দৈনিক মৃত্যুতে ভারতে তৃতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। গত ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৫২ জনের। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মহারাষ্ট্র, ২৪ ঘন্টায় সেখানে মৃতের সংখ্যা ৬৮ এবং সবার উপরে রয়েছে দিল্লি, মৃত্যু হয়েছে একদিনে ৯৯ জনের। এখনও পর্যন্ত ভারতে করোনায় এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১ লক্ষ ৩০ হাজার ৯৯৩ জনের। আক্রান্তের সংখ্যা ৮৯ লক্ষ ১২ হাজার ৯০৮। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, গত ২৪ ঘন্টায় দেশে মৃত্যু হয়েছে ৪৭৪ জনের ও দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ৪৪৯ জন। দৈনিক সংক্রমিতের সংখ্যা ছিল ২৯ হাজার ১৬৪ ও গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমিত ৩৮ হাজার ৬১৭। ICMR সূত্রে খবর, ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১২ কোটি ৭৪ লক্ষ ৮০ হাজার ১৮৬টি। এরমধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৯ লক্ষ ৩৭ হাজার ২৭৯টি।

তবে দেশের বহু মানুষ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। সুস্থের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। করোনাকে জয় করে দেশে মোট সুস্থ হয়েছেন ৮৩ লক্ষ ৩৫ হাজার ১১০ জন। ৯৩.৫২ শতাংশ বেড়েছে সুস্থতার হার। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থতার সংখ্যা ৪৪ হাজার ৭৩৯। পাশাপাশি দেশে মৃত্যুর হার ১.৪৭ শতাংশ। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক সূত্রে খবর, বুধবার সকালে প্রকাশিত মেডিক্যাল বুলেটিন অনুযায়ী দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৮,৬১৭ জনের শরীরে মিলেছে করোনাভাইরাস। নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৮৯,১২,৯০৮ জন। চিকিত্‍‌সাধীনে রয়েছেন ৪,৪৬,৮০৫ জন। পাশাপাশি সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৮৩,৩৫,১১০ জন করোনা আক্রান্ত। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থের সংখ্যা ৪৪,৭৩৯ জন। সুস্থতার হার এখন দেশে ৯৩.৫২%। পাশাপাশি মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১,৩০,৯৯৩।

করোনাকে রুখতে বিশ্বের তাবড় তাবড় বিজ্ঞানীরা কাজ করে চলেছে। বহু ভ্যাকসিনের ইতিমধ্যে প্রয়োগ শুরু হয়ে গিয়েছে। বেশকিছু ভ্যাকসিন আসার এল দেখাচ্ছে আবার কিছু বাতিল হয়ে গিয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ব জুড়ে করোনা-প্রতিরোধী হিসেবে ফাইজার ও মডার্নার টিকার সাফল্য নিয়ে বিপুল মাতামাতি শুরু হয়েছে। কিন্তু দু’টি টিকারই রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে জটিলতা রয়েছে, প্রয়োজন হিমশীতল কোল্ড চেন। পাশাপাশি ভ্যাক্সিনগুলোর দামও বেশি। সিরাম ভারতে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি টিকা এখন সফলতার পথ দেখিয়েছে। তৃতীয় দফার ট্রায়ালও প্রায় শেষের পথে। দেওয়ালির জন্য দেশ জুড়ে কমে গিয়েছিল টেস্টের সংখ্যা। উৎসবের মরশুম কাটার পর ফের বাড়ল টেস্টের সংখ্যা। টেস্ট বাড়তে ফের ৪০ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গেল দেশের নতুন সংক্রমণ। তবে স্বস্তির খবর এই যে, ভারতে সংক্রমণের হার ৭ শতাংশেরও নীচে নেমে গিয়েছে।




%d bloggers like this: