চিনা এ্যাপ নিষিদ্ধ করায় বেজিং এর তোপ, উত্তেজনার পারদ বাড়ল

নিজস্ব প্রতিবেদক: দিন দিন ভারত – চিন সম্পর্ক অবনতির দিকে এগোচ্ছে। ভারত – চিন সংঘর্ষে লাদাখ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এরূপ পরিস্থিতিতে চিনকে শায়েস্তা করতে একের পর এক চিনা অ্যাপের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করছে ভারত। চিনের উপর ডিজিটাল স্ট্রাইক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকার চিনের ৪৩ টি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনকে ব্যান করেছে। জানা গিয়েছে, চিনের বেশ কিছু অ্যাপ ভারতের পক্ষে অসুরক্ষিত হয়ে উঠেছিল। পাশাপাশি নিরাপত্তাবিহীন অ্যাপ হয়ে উঠছিল। তথ্য প্রযুক্তি আইনের ধারা ৬৯এ এর আওতায় ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক “ভারতের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, প্রতিরক্ষা, সুরক্ষা এবং জনগণের শৃঙ্খলা” রক্ষার কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।এদিকের ভারতের এই বারংবার অ্যাপের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করাকে কেন্দ্র করে চিনের সংবাদমাধ্যমে কড়া বিবৃতিও দিয়েছেন চিনের মুখপাত্র জি রং। তিনি জানান, দেশের নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে ভারতের বারংবার একই পদক্ষেপ মোটেই ভালভাবে নেয়নি বেজিং।

চিনা সাংবাদিকের এক এক সাক্ষাৎকারে চিনের মুখপাত্র বলেন, ‘‌‘‌বারংবার জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে ভারত যেভাবে চিনা অ্যাপগুলোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করছে, তার তীব্র বিরোধিতা করছে বেজিং। আশা করি, ভারত নিজের ভুল শুধরে নেবে এবং সেদেশে ব্যবসার ক্ষেত্রে সবাইকে সমান সুযোগ দেবে। বেজিং কোনও সময় চায় না, চিনের কোনও সংস্থাই ব্যবসার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন ভাঙুক। এব্যাপারে সবসময় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে চিন। আলোচনার মাধ্যমেই নিজেদের বানিজ্যিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ককে সঠিক পথে চালিত করতে পারে দুই দেশ। এতে ভারত–চিন দু’‌দেশই লাভবান হবে।’‌’

প্রসঙ্গত, এই নিয়ে চতুর্থ বার চিনা অ্যাপ ব্যান করল ভারত সরকার। এর আগে জুন মাসে ৫৭ টি চীনা অ্যাপ্লিকেশন পরিচালনা করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তারপর জুলাই মাসে ওই অ্যাপেরই ৪৭ টি ক্লোন অ্যাপ্লিকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২রা সেপ্টেম্বর ভারত সরকার জাতীয় সুরক্ষা উদ্বেগ সম্পর্কিত ১১৮ টি অ্যাপ বন্ধ করে দেয়। যার মধ্যে ছিল জনপ্রিয় ‘পাবজি’ও।এই ব্যপারে সরকারের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল যে, “সরকারী সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা, ভারতের প্রতিরক্ষা, রাষ্ট্রের সুরক্ষা এবং গণ-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী, এমন কার্যকলাপে জড়িত হওয়ার জন্য এই অ্যাপ্লিকেশন সম্পর্কিত ইনপুটগুলির ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” এই পরিপ্রেক্ষিতেই মঙ্গলবারই ৪৩টি চিনা অ্যাপকে নিষিদ্ধ করেছে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক।এই অ্যাপগুলির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে এগুলি দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার জন্য ক্ষতিকর।

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯এ ধারা মেনে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগেও এই একই কারণে গত ২৯ জুন ও ২ সেপ্টেম্বরও বেশ কিছু অ্যাপকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। মন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার জন্য ক্ষতিকর এমন কার্যকলাপে যুক্ত থাকার বিষয়ে খবর মিলেছিল। এবং তারপরই দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা, নিরাপত্তার জন্য এই অ্যাপগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এদিন যে ৪৩টি অ্যাপ নিষিদ্ধ হল, তার মধ্যে রয়েছে আলি এক্সপ্রেস, স্ন্যাক ভিডিও, ক্যাশিয়ার ওয়ালেট, উই ডেট, ম্যাঙ্গো টিভি, হ্যাপি ফিশ ইত্যাদি। গত ২৯ জুন ১১৮টি অ্যাপ নিষিদ্ধ হয়েছিল। ২ সেপ্টেম্বর নিষিদ্ধ হয় আরও ৫৯টি অ্যাপ, এবং এগুলির বিরুদ্ধেও ভারতের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, প্রতিরক্ষা ও নাগরিকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিপজ্জনক হয়ে ওঠার অভিযোগ ছিল।




%d bloggers like this: