স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প নিয়ে ফের দিলীপ ঘোষ এর নিশানায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই ভাবেন নিজেকে। তাই এদিন সাধারণ মানুষের সঙ্গে লাইন দিয়েই মঙ্গলবার স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নিয়েছেন৷ আর এই ঘটনার পর মমতাকে কটাক্ষ করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷ এদিন প্রশ্ন তুললেন দিলীপ ঘোষ ‘মুখ্যমন্ত্রী সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের কার্ড নেওয়ার যোগ্য কি না৷’

বিজেপির মুখ দিলীপ ঘোষ বলেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব জায়গাতেই নাটক করেন৷ কারণ উনি নাটক করতে পছন্দ করেন৷ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কি স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের যোগ্য? নোটবাতিলের সময় রাহুল গান্ধিও এরকম লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যাংক থেকে ১০ হাজার টাকা তুলেছিলেন। যে নিজে ৫০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত! ওঁরা কি বুঝতে পারেন না যে, মানুষ এই নাটক বুঝে গিয়েছে৷ বাংলায় এখন এই নাটক আর কাজে আসবে না৷”

প্রসঙ্গত, এদিন সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ হরিশ মুখার্জি রোডে কলকাতা পুরসভার অডিটোরিয়ামের জয় হিন্দ ভবনে লাইনে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা পুরসভার এই ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হলেন রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী৷ মুখ্যমন্ত্রীর স্বাস্থ্য সাথী কার্ড নেওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা, পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়।

কার্ড নেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মমতা বলেছেন, “আমি বেতন বাবদ ১ টাকাও নিই না৷ কিন্তু এই কার্ড সকলের জন্য৷ তাই যখন সকলে এই কার্ড নিচ্ছেন, তাহলে আমি সাধারণ মানুষ হিসেবে কার্ড নিয়ে আমি গর্বিত৷ এটা আমি সংরক্ষণ করে রাখব৷”
এবারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড একটি বড়ো হাতিয়ার৷ মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পকে এড়িয়ে স্বাস্থ্য সাথীকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন৷

এমনকি ভোটের আগে সরকারি প্রকল্পকে মানুষের দরজায় দরজায় পৌঁছে দিতে রাজ্য সরকার এনেছে ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্পও৷
মূলত সরকারের এই স্বাস্থ্য বিমার আওতায় থাকলে রাজ্যের এবং রাজ্যের বাইরের যে কোনও সরকারি হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়া যাবে।এমনকি গোটা দেশের ১৫০০এর বেশি হসপিটাল থেকে এই সুবিধা পাওয়া যাবে৷ আগে সকলেই স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা পেতেন না। এই স্বাস্থ্য বিমায় পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা হয়।

সম্প্রতি রাজ্যের প্রতিটি নাগরিককে এই বিমার আওতায় আনার প্রকল্প হাতে নিয়েছে রাজ্য সরকার৷ তাই স্বাস্থ্য সাথী পরিষেবা এখন সকলের জন্য। আজ তাই দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রীকে লাইনে দাঁড়িয়ে কার্ড তুলতে।




%d bloggers like this: