আসানসোলে গান্ধীজির প্রয়াণ দিবস পালন

রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জী, পশ্চিম বর্ধমান ব্যুরো: আসানসোলে গান্ধীজির প্রয়াণ দিবস পালন৷ ৩০ জানুয়ারি মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আসানসোলের কল্যাণপুরে আসানসোল- দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ (এডিডিএ)এর কনফারেন্স হলে একটি প্রার্থনা সভার মধ্য দিয়ে পালিত হল শহীদ দিবস।

অনুষ্ঠানে মহাত্মা গান্ধীর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক পূর্ণেন্দু কুমার মাজি, অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) ডাক্তার অভিজিৎ সেভালে, অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) হ্নমায়ুন কবীর সহ অন্যান্য আধিকারিকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলাশাসক বলেন, ভারতবর্ষ সবচেয়ে বড় ডেমোক্রেটিক কান্ট্রি। এই দেশ গান্ধীজির মতো একজন মহাপ্রাণকে পেয়েছে। সমস্ত জাতি ধর্ম বর্ণ ভাষাভাষী মানুষকে একসূত্রে গেঁথে ছিলেন এই মহামানব। গান্ধীজির নীতি আদর্শ ত্যাগ নিষ্ঠাকে স্বয়ং ইংরেজরাও শ্রদ্ধা জানাতেন। তাই স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ইংরেজরা নিজেদের দেশের পার্লামেন্টের বাইরে নিজেদের মনিষীদের সঙ্গে মহাত্মা গান্ধীরও মূর্তি স্থাপন করেছেন।

জেলাশাসক আরও বলেন, মহাত্মা গান্ধীর দেশপ্রেম এক কথায় বলে শেষ করা যাবে না। স্বাধীনতাকালে একেকটা দেশ যখন ভাগ হয়ে যাচ্ছে, গান্ধীজি তখন বলেছিলেন, – আমার শরীর থেকে একেকটা অঙ্গ যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। এমনই ছিল তাঁর দেশপ্রেম। জাতির জনক খেতাব তিনি পেয়েছিলেন। এতবড় খেতাব আগেও কেউ পাননি, ভবিষ্যতেও কেউ পাবেন বলে মনে হয় না। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বলতেন বুলেটের বদলা বুলেট দিয়েই নিতে হবে। কিন্তু গান্ধীজি ছিলেন অহিংসার পুজারী। তিনি অহিংস নীতি ও আদর্শ নিয়ে চলতেন। অহিংস নীতি সহিংসতার চেয়েও য কতটা প্রভাব ফেলেছিল ইংরেজদের মনে যা দেশবাসী দেখেছে।

এদিন সর্ব ধর্ম প্রার্থনার আয়োজন করা হয় অনুষ্ঠানে। খৃষ্ট ধর্ম থেকে ফাদার মাইকেল, ইসলাম ধর্ম থেকে মহম্মদ মাকসুদ খান, মুফতি নইমুদ্দিন হিন্দু ধর্ম থেকে স্বামী সিদ্ধানন্দ এবং শিখ ধর্ম থেকে সতনাম সিং অংশ নেন।




%d bloggers like this: