বড়দিনেই বড়সড় দুর্ঘটনা, অগ্নিদগ্ধ হিমাচল প্রদেশের আস্ত একটা গ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদন: বড়দিনের দিনই বড়সড় দুর্ঘটনার সম্মুখীন হিমাচল প্রদেশের আস্ত একটা গ্রাম। বড়দিনের বিকেলে হিমাচল প্রদেশের বগহি নামে একটি গ্রাম জ্বলেপুড়ে ছাই হয়ে গেল! হিমাচলের শিমলার অন্তর্গত রোহড়ু শহরের কাছেই বগহি নামে ওই গ্রামটি অবস্থিত। অগ্নিদগ্ধ হয়ে পুড়ে যায় ১৩ টির বেশি ঘর। কোনও ঘর রেহাই পায়নি এই আগুন থেকে। তবে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের সঠিক হিসেব এখনও পাওয়া যায়নি। আগুন চোখে পড়তেই খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও দমকল বাহিনীকে। কিন্তু দমকল আসার আগেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় সবকটি ঘর। গ্রাম পঞ্চায়েতের অফিসটিও আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। শিমলা শহর থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রামটি। যদিও সমস্ত ঘর পুড়ে গেলেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। আগুনে ছাই ঘর, গৃহহারা গ্রামবাসীদের এখন মাথার উপর ছাদ নেই। দুশ্চিন্তায় এখন সকল গ্রামবাসী।

গ্রামবাসীরা জানান, আগুন রোখা কোনওমতেই সম্ভব হয়নি। আগুন লাগার সাথে সাথেই সেই আগুন ছড়িয়ে পরে। তাই দমকল পৌঁছনোর আগেই গোটা গ্রামের ঘর ভস্মীভূত হয়ে যায়। দমকলের কর্মীরা ও পুলিশ মিলে অনেক চেষ্টা করেও আগুনের হাত থেকে ঘরগুলি রক্ষা করতে পারেনি। গ্রামের চারটি ঘরের কিছু অংশ আস্ত থাকলেও তা আর বাসযোগ্যের অবস্থা নেই। এখন মহাকুমা শাসকের হাতেই রয়েছে সমস্ত দায়িত্ব। অগ্নিদগ্ধ গ্রামের পুনরুজ্জীবনের দায়িত্ব এখন তারই হাতে। সূত্রের খবর তিনিই ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করে হিমাচল প্রদেশ সরকারকে সম্পূর্ণ রিপোর্ট পাঠাবেন। যদিও গৃহহারা মানুষগুলিকে রাজ্য সরকারের তরফে আশ্বস্ত দেওয়া হয়েছে। ত্রাণের টাকা সহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে বলে সূত্রের খবর।

এই ভয়াবহ ঘটনা নিয়ে দমকলের এক আধিকারিক জানান, কাঠের বাড়ি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লেগেছে জেনেই তৎক্ষণাৎ লোকজন ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসায় প্রাণে বেঁচে গেলেও ঘরের কোনও সামগ্রী তাঁরা আগুনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেননি। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে স্থানীয় কংগ্রেস বিধায়ক মোহনলাল ব্রাক্তা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে বিধায়ক মোহনলাল জানান, “১৩টিরও বেশি পরিবার ঘর হারিয়েছে। সবমিলিয়ে কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি ক্ষতি হয়েছে। কী কারণে আগুন লাগল, তা এখনও জানা যায়নি। পুলিশ ও দমকলের কর্তারা অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখছেন”। এর আগেও অনেকবার এরূপ ঘটনা ঘটেছে। বিগত একমাসের মধ্যে আরও অন্তত তিন বার আগুন লেগেছে শিমলার রোহড়, জুব্বল-কোটখাই ও চপল অঞ্চলে। এমনকি আগুনে পুড়ে ২ জনের মৃত্যুও হয়েছে। এদিন সন্ধ্যায় হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম ঠাকুর, শিমলার ডেপুটি কমিশনার আদিত্য নেগিকে ফোন করে অগ্নিকাণ্ডের বিশদ খোঁজখবর নেন। গ্রামবাসীদের অস্থায়ী থাকার ব্যবস্থা-সহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী দেওয়ার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।




%d bloggers like this: