রাজ্যে বাড়তি আধাসেনা মোতায়েন, আসছেন শাহ-নাড্ডা

নিজস্ব প্রতিবেদন: পশ্চিমবঙ্গে এলো বাড়তি আধাসেনা, ফের সভা করতে রাজ্যে আসছেন অমিত শাহ এবং নাড্ডা ৷ সবদিক ঠিক থাকলে আগামী এপ্রিল-মে মাসেই হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন। কারণ চলতি বিধানসভা ভোটের মেয়াদ ৩০ মে পর্যন্ত। তার মধ্যেই নতুন সরকার গঠিত হয়ে যাওয়া চাই। এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন এই রাজ্যে ভোটের দিনক্ষন ঘোষণা করেনি। সূত্রের খবর অনুযায়ী ৫ থেকে ৬ দফায় হতে চলেছে নির্বাচন। আর ফলাফল ঘোষিত হতে পারে ১৮ মে নাগাদ।

কিন্তু এখন বাংলায় ভোটের দিনক্ষন ঘোষণা করার আগেই কার্যত রাজনীতির পারা হু হু করে বাড়তে শুরু করে দিয়েছে। তৃণমূল ও বিজেপি এখন থেকেই বড় বড় কর্মসূচি নিতে শুরু করে দিয়েছে। তবে সব থেকে বেশি যা বাড়তে চলেছে তা হল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই রাজ্যে ঘন ঘন আসা। এমাসেই ফের বাংলায় আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁদের এই জোড়া সফরের আগেই বাংলায় চলে এল দুই কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী।

তথ্যসূত্রে খবর, এই মাসের ৯ তারিখ আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। তিনি থাকবেন ২-৩দিন। বীরভূমে নাড্ডা একটি রোড-শো এর পাশাপাশি রাজ্যের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে এখনও পর্যন্ত সেই রোড-শোয়ের জায়গা চূড়ান্ত না হলেও অনুমান করা হচ্ছে জেলার কোনও এক ধর্মীয় পীঠস্থানেই সেই রোড-শো হতে চলেছে। তারাপীঠেই তা হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। একই সঙ্গে রাজ্যে আরও ২-১টি সভা করতে পারেন নাড্ডা। তবে সেই সভা কবে আর কোথায় হবে সে নিয়ে এখনও কোনও ঘোষণা করা হয়নি।

আবার অন্যদিকে এই মাসেরই ৩০ তারিখ আসতে চলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।তারও ২-৩ দিনের কর্মসূচি রয়েছে এই রাজ্যে। তবে তাঁরও সফরসূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। রাজ্য বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে বনগাঁতে তাঁর একটি সভা থাকছে ও একটি রোড-শো হাওড়াতে হতে পারে। এছাড়া কলকাতাতেও থাকছে তাঁর বেশ কিছু কর্মসূচি। এখনও সব পরিকল্পনার স্তরেই রয়েছে। মনে করা হচ্ছে মতুয়া ভোট ব্যাঙ্কের কথা মাথায় রেখেই বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরকে নিয়ে এবার বনগাঁতে সভা করতে পারেন অমিত শাহ। সেই সম্ভাবনাই সবথেকে বেশি।

প্রসঙ্গত আগেরবার নাড্ডার সফর ঘিরে এই রাজ্যে যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিল তার পুনঃরাবৃত্তি যাতে আর না হয় তার জন্য এখন থেকেই কোমর বাঁধতে শুরু করে দিয়েছে অমিত শাহের হাতে থাকা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। যেহেতু আগামী দিনে রাজ্যে জেপি নাড্ডা ও অমিত শাহের আসা যাওয়ার পরিমাণ যেমন বাড়তে চলেছে তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দিয়ে এই রাজ্যে খুব কম করেও ২১টি জনসভা করার পরিকল্পনা নিচ্ছে বিজেপি।

এই কারণেই এখন থেকেই রাজ্যে আসা ভিভিআইপিদের নিরাপত্তার দিকে নজর দিতে শুরু করে দিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। এবার রাজ্যে ২ কোম্পানির সিআরপিএফ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে যা রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গেই থাকবে। প্রসঙ্গত ভিভিআইপিদের নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টিই তাঁরা দেখবেন বলে তথ্যসূত্রে জানা গিয়েছে। দুর্গাপুর ও খড়গপুরের বেস ক্যাম্পে থাকবে এই দি কোম্পানী আধা সেনা। যখন যেখানে প্রয়োজন পড়বে ওই বেস ক্যাম্প থেকে বাহিনীকে সেখানে পাঠানো হবে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যকে বার্তা দিতেই ভোটের এতটা আগে থেকে রাজ্যে বাহিনী পাঠানো হচ্ছে। গত সভায় নাড্ডার কনভয় হামলার পরই আইপিএস বদলি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়েছে রাজ্য। এর ফলেই বাহিনী পাঠিয়ে এবার রাজ্যকে বার্তা দিতে চেয়েছে তারা। কিন্তু ভোটের আগে রাজ্যে বাহিনী আসা নতুন কিছু নয়। প্রত্যেক নির্বাচনেই আসে বাহিনী। এ বারও তাই ব্যতিক্রম কিছু নয়।




%d bloggers like this: