হাজরার সভামঞ্চে বিজেপিকে আক্রমণ অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিধানসভা নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে দু পক্ষের মধ্যে লড়াই তত বাড়ছে। বিজেপি-তৃণমূল সংঘাত বেড়ে যাচ্ছে ততধিক। এবার উপলক্ষ স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন।

মনীষীদের জন্মদিন নিয়েও নিজেদের মধ্যে শক্তি জাহির করার চেষ্টা চলছে। এদিন কলকাতার রাস্তায় হাজরার মিছিল শেষে সভামঞ্চে বিজেপিকে আক্রমণ করতে ভুললেন না তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

সেখানে ধর্মীয় বিভাজন থেকে মূর্তি স্থাপন বা এনআরসি, বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা তুললেন যুব তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি।

সকালে সিমলা স্ট্রিটে স্বামীজির বাসভবনের অনুষ্ঠানে গিয়ে বিবেকানন্দর বিশাল মূর্তি স্থাপনের দাবি জানিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। জানান যে এর আগে তিনি সংসদে, এমনকী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছেও একই দাবি করেছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রের তরফ থেকে কোনও পদক্ষেপ এখনও নেওয়া হয়নি।

বিকেলে ফের হাজরার সভামঞ্চে একই অভিযোগ তুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এদিন তিনি বলেন, ‘গুজরাটে যেখানে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা খরচ করে সর্দার বল্লভভাই পটেলের মূর্তি তৈরি করা হয়েছে।

সেটা অবশ্যই একটা ভালো ব্যাপার, এর কোনো প্রতিবাদ করছি না। কিন্তু, আমার প্রশ্ন এখানেই কলকাতার বুকে বা বাংলায় কেন তিন হাজার কোটি টাকা খরচ করে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস বা স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি তৈরি করা হবে না? আর এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্ন উঠে আসছে বারবার।’‌

এদিন যুব তৃণমূলের পক্ষ থেকে যুব দিবস উপলক্ষে দক্ষিণ কলকাতা জুড়ে মিছিল করে তৃণমূল। মিছিল শুরু হয় গোলপার্ক হয়ে গড়িয়াহাট, ট্র‌্যাঙ্গুলার পার্ক, রাসবিহারী মোড়ে। এরপর মিছিল শেষ হয় হাজরা মোড়ে।

সেখানেই এক ছোট সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেন, স্বামীজির ছবি সামনে রেখে ২০১৪ সালে ভোট প্রচার করেছিল বিজেপি। এরপর তারা বেলুড় মঠকে সম্মানও দেয়নি। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে সিএএ–র প্রচার করে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

এটা গুজরাট নয়। এটা বাংলা। আর ওদের এটা জানা দরকার বাংলায় ধর্মে ধর্মে বিভাজন করা যাবে না।’‌
দল থেকে নির্দেশ পাওয়ার পর মাত্র দু’‌দিনের মাথায় ঠিক হয় আজকের মিছিল।

তা সত্ত্বেও দেখা গেল স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মী যেভাবে এদিন স্বামীজির জন্মদিনের পদযাত্রাকে সফল করে তুলল তা সত্যিই প্রশংসনীয় বলে জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।এছাড়াও তিনি বলেন, ‘আমরা একদিনের নোটিশে মিছিল করেছি।

মানুষের বিশ্বাস এবং স্বতঃস্ফূর্ততার সঙ্গে তুলনা করলে এখানে অন্য রাজনৈতিক দলের মিছিল ১০–০ গোলে হেরে যাবে।’‌

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন আরও বলেন যে, ‘নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ মেনেই এগিয়ে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

স্বামীজির শিক্ষা, দীক্ষা নিয়ে মানুষের সেবার কাজ করেছেন তিনি। স্বামীজি নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলেছিলেন সবসময়।

মুখ্যমন্ত্রী সেই কাজই করেছেন কন্যাশ্রী, রূপশ্রীর মাধ্যমে। এমনকি বাড়ির বড়ো গৃহকর্ত্রীর হাতেই তুলে দেওয়া হচ্ছে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডও।’‌




%d bloggers like this: