করোনার নয়া স্ট্রেনের আতঙ্কের জের, সাতদিনের সম্পূর্ণ লকডাউন অমরাবতীতে

নিজস্ব প্রতিবেদন, করোনার প্রকোপে গোটা দেশ জর্জরিত। করোনার প্রভাব দেশে কিছুটা কমতে দেশবাসী ফের স্বস্তিতে ফেরে। চলমান জীবনের চাকা কিছু মাসের জন্য থমকে গেলেও নতুন করে তা আবার চলতে শুরু করে। জানুয়ারিতে শুরু হয়ে গিয়েছে করোনা প্রতিরোধক টিকাকরণ (Vaccination)। পাশাপাশি এও জানা যায়, দেশজুড়ে কমতে শুরু করেছে দৈনিক সংক্রমণের হার। এদিক ফের নতুন করে করোনা আতঙ্কে কাঁপতে শুরু করেছে মহারাষ্ট্র। মুম্বই-সহ রাজ্যের পাঁচটি শহরে বর্তমানে যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে, তারফলেই উদ্বিগ্ন বাড়ছে উদ্ধব ঠাকরের সরকার। আর এই করোনা পরিস্থিতি রুখতে কাল থেকে সাতদিনের সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করেছে অমরাবতীতে। মহারাষ্ট্রে ইতিমধ্যেই সপ্তাহান্তের লকডাউন ডাকা হয়।

করোনার নয়া স্ট্রেনের আতঙ্ক ছড়াতেই মহারাষ্ট্রে জারি হয় লকডাউন। আর তার এক সপ্তাহ পেরোতেই দেশের করোনা সংক্রমণ সামান্য নিম্নমুখীর দিকে। তবে বেড়েছে অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সাম্প্রতিকতম রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ হাজার ১৯৯ জন। রবিবার যে সংখ্যাটা ছিল ১৪,২৬৪। গত ২৪ ঘণ্টায় করণাতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৮৩ জন। পাশাপাশি দৈনিক মৃত্যুর হারও কমেছে। এবং একদিনে সুস্থ হয়েছেন ৯৬৯৫ জন। যদিও এই সংখ্যা রবিবারের তুলনায় অবশ্য বেশ কম। তবে এর জেরে অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। এই মুহূর্তে দেশে করোনা আক্রান্ত অ্যাকটিভ রোগী দেড় লক্ষ।

পরিস্থিতি না শুধরোলে লকডাউনের মেয়াদ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। অমরাবতীতে শনিবার রাত আটটা থেকে সোমবার সকাল সাতটা পর্যন্ত লকডাউন রয়েছে। সোমবার সন্ধে থেকে সপ্তাহব্যাপী লকডাউন শুরু হচ্ছে। সেখানে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পরবর্তী সাতদিন জরুরি কারণ ছাড়া যাতে কেউ বাড়ি থেকে না বেরোয়। তবে বিধায়ক ও মন্ত্রী যশোমতী ঠাকুর জানিয়েছেন, এই লকডাউনের আওতা থেকে বাদ রাখা হয়েছে অচলপুরকে। এদিন মহারাষ্ট্রের সমাজকল্যাণমন্ত্রী বিজয় ওয়াদেত্তিয়ার উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ”নাগপুর, আকোলা, অমরাবতী, ইয়াভাতমাল, মুম্বই ও পুণেতে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। আমরা জেলা প্রশানকে সতর্ক হতে বলেছি। প্রয়োজনমতো লকডাউন ডেকে কিংবা এলাকাভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

তবে জানা যাচ্ছে, এই মুহূর্তে বিভিন্ন রাজ্যে দৈনিক সংক্রমণ ফের ঊর্ধ্বমুখী। আর এর পিছনে করোনার নতুন স্ট্রেনকেই দায়ী করছেন টাস্ক ফোর্সের সদস্যরা। মহারাষ্ট্রের কোভিড টাস্ক ফোর্সের সদস্য শশাঙ্ক যোশী জানাচ্ছে, এই মুহূর্তে টিকাকরণ হলেও, সুস্থ থাকতে সতর্কতার কোনও বিকল্প নেই। কারণ, টাস্ক ফোর্সের সদস্যদের মতে, এখনও হার্ড ইমিউনিটি বা অনাক্রম্যতা তৈরি হয়নি। মহারাষ্ট্রে যে নতুন ভারতীয় কোভি়ড-১৯ স্ট্রেনের হদিশ মিলেছে, যা নিয়ে দিল্লির এইমসের ডিরেক্টর রণদীপ গুলারিয়া। তাঁর কথায়, “কোভিডের নতুন স্বদেশি স্ট্রেন আরও ভয়ানক। এই স্ট্রেনটি করোনাজয়ীদেরও ফের সংক্রমিত করতে পারে।” গতকালই স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও অন্যান্যদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে একটি বৈঠক হয়। সেখানে তিনি বলেন, “মানুষ যতই গাছাড়া মনোভাব দেখাক জেলা প্রশাসনকে কিন্তু ঢিলে দিলে চলবে না। এবার জনতাই বিচার করুক তারা নিয়ম মেনে চলবে নাকি আবারও লকডাউনের দিনে ফিরে যাবে।” পাশাপাশি পুণেতে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সমস্ত স্কুল ও কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




%d bloggers like this: