ইন্ডিয়া এয়ারফোর্সে যুক্ত হচ্ছে ৮৩টি ‘তেজস মার্ক-১এ’ যুদ্ধবিমান, পাক-চিনা ঘাঁটিতে আতংক

নিজস্ব প্রতিবেদন: আরও শক্তিশালী হতে চলেছে বায়ুসেনা। সম্প্রতি দেশের বিমানবাহিনীতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ৮৩টি ‘তেজস মার্ক-১এ’ লাইট কমব্যাট এয়ারক্র্যাফট(এলসিএ) অন্তর্ভুক্ত করার অনুমতি দিল কেন্দ্র। দেশের বিমানবাহিনীতে সম্পূর্ণভাবে ‘তেজস মার্ক-১এ’ লাইট কমব্যাট এয়ারক্র্যাফট (এলসিএ) অন্যর্ভুক্ত হওয়ার প্রয়োজনীয় অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রের নিরাপত্তা কমিটি।

বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে একটি বৈঠক বসেছিল। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, শীর্ষ সামরিক কর্তারা। বৈঠকেই ১০টি প্রশিক্ষণ বিমান সহ ৮৩টি তেজস মার্ক-১এ ফাইটার জেট কেনার বিষয়ে সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হয় বলে সূত্রের খবর।

জানা গিয়েছে, এর জন্য খরচ হবে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা। বৈঠকের পর ট্যুইটারে রাজনাথ আরও স্পষ্ট করে দেন। তিনি লেখেন, ভারতে প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রে দিগন্ত-সৃষ্টিকারী হতে চলেছে তেজস যুদ্ধবিমান।

তিনি আরও জানান, বায়ুসেনার যুদ্ধবিমানের মেরুদণ্ড হতে চলেছে অদূর ভবিষ্য়তে দেশীয় তেজস। এই বিমানের নৌ-সংস্করণ সম্প্রতি একটি ল্যান্ডিং সম্পন্ন করেছে, যেটি ভারতীয় রণতরী আইএনএস বিক্রমাদিত্যর ওপর সফল অ্যারেস্টেড ল্যান্ডিং।

এই তেজস ফাইটার জেট মোট ৫,৩০০ কেজির অস্ত্র বহনে সক্ষম। ডানায় রয়েছে এর সাতটি হার্ডপয়েন্ট (অস্ত্র লাগানোর জায়গা)। হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (হ্যাল) নির্মিত চতুর্থ-প্রজন্মের ফাইটার জেট এই তেজস। এটি হল নিজ শ্রেণিতে বিশ্বের সবচেয়ে ছোট ও হাল্কা বিমান।

যার ম্যানুভারাবিলিটি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে ডেলটা উইংয়ের দৌলতে। এছাড়া, এরমধ্যে পৃথক রেকি (নজরদারি) পড, টার্গেট ডেজিগনেশন (লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা) পড লাগানোর ব্যবস্থা রয়েছে। এই বিমান অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ট্যাঙ্কের পাশাপাশি, অধিক জ্বালানি বহনের জন্য তিনটে এক্সটার্নাল ফুয়েল পড বহনেও সক্ষম। শুধু তাই নয়, জানা গিয়েছে এই বিমান মাঝ-আকাশেও জ্বালানি ভরতেপারে।

পাশাপাশি, তেজসের ৯৫ শতাংশ কম্পোসিট দিয়ে তৈরি। এরফলে, এর রেডার সিগনেচার অত্যন্ত কম। এছাড়া, এর শরীরে যে পেইন্ট লাগানো, তাও রেডার-অ্যাবসরবেন্ট। অর্থাৎ, এতে রেডার সিগনেচার প্রতিফলিত খুব কম হয়।

এই তেজস মার্ক-১এ বিমানে রয়েছে ১৫০ কিলোমিটার পাল্লা বিশিষ্ট ইজরায়েলি এলটা ২০৫২ AESA রেডার। এর রেডারের মূল কার্যকারিতা হল, এয়ার সুপিরিয়রিটি, ভূমি ও নৌসেনার অত্যাধুনিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বিমানের এই নকশার ফলে, মাঝ-আকাশের লড়াইয়ে (ডগফাইট) দুরন্ত প্রমাণিত হয়েছে তেজস। তেজস এয়ার সুপিরিয়রিটি ফাইটার (অনেকটা সুখোই-৩০ এমকেআই বিমানের ধাঁচে) হলেও, ভূমি ও জাহাজ-বিধ্বংসী ভূমিকাও পালন করতে সক্ষম।

পাশাপাশি এই বিমানে রয়েছে অত্যাধুনিক ফ্লাই-বাই-ওয়ার কন্ট্রোল সিস্টেম। যার ফলে, বিমান ম্যানুভারিংয়ে পাইলটের বেশি মনোনিবেশ করতে হয় না। বিমান নিজেই তা অনেকটাই নিজের মতো করে নেয়। এরফলে শত্রুতার ওপর বেশি মনোনিবেশ করতে সক্ষম হবেন এর পাইলট। এই বিমানে একাধিক স্টেল্থ বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

এর আকারটা অনেকটা ছোট হওয়ায় তা শত্রুর রেডারে কম ধরা পড়ে। বর্তমানে উড়ানের প্রাথমিক অনুমতি পাওয়া ১৬টি তেজস মার্ক-১ বিমান অপারেট করছে ভারতীয় বায়ুসেনার ৪৫ নম্বর স্কোয়াড্রন (ফ্লাইং ড্যাগার্স)। এছাড়া, তিনটি তেজস-মার্ক ১এস বিমান বাহিনীতে নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া ১৮ নম্বর স্কোয়াড্রন (ফ্লাইং বুলেটস) অপারেট করছে।

তেজস মার্ক-১এ ভেরিয়েন্ট তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। উড়ানের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া তেজস মার্ক-১ ও অত্যাধুনিক মার্ক-২ সংস্করণের মধ্যবর্তী জায়গাকে ভরাট করতে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সূত্রের খবর, ২০২৬ সালের মধ্যেই এসে যাবে এই তেজস মার্ক-২ সংস্করণটি।

এই রেডারটি বর্তমানে চিনা ও পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের তুলনায় কয়েক কদম এগিয়ে। কারণ এটি একসঙ্গে ৬৪টি লক্ষ্যবস্তুকে ট্র্যাক করতে সক্ষম। তেজস মার্ক-১এ যুদ্ধবিমান একাধিক অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত। নৌসেনার বিভিন্ন অভিযানে ব্যবহার করা যেতে পারে, ২৯০ কিমি পাল্লা বিশিষ্ট ব্রহ্মোস জাহাজ-বিধ্বংসী ক্রুজ মিসাইল। বিশেষ করে, বর্তমান ও ভবিষ্যতের বিভিন্ন ধরনের অভিযানকে মাথায় রেখে এই ফাইটারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে হরেক রকমের অস্ত্র।

যেমন এয়ার সুপেরিয়রিটি মিশন (মাঝ-আকাশে বিমানের লড়াই)। এই বিমানে রয়েছে সর্বাধুনিক রুশ নির্মিত আর-৭৭ বিভিআর (বিয়ন্ড ভিজুয়াল রেঞ্জ) ক্ষেপণাস্ত্র। মিসাইলটি পাল্লা দিতে পারবে ১১০ কিমি। এছাড়া এই যুদ্ধ বিমানে রয়েছে ১০০ কিমি পাল্লার ইজরায়েলি ডার্বি ইআর মিসাইল, যা ৮০ কিমি পাল্লার স্বদেশীয় অস্ত্র মিসাইল।

এই অস্ত্র মিসাইলই বালাকোট অভিযানে ব্যবহার করেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। আকাশ থেকে ভূমি অভিযানের জন্য এই বিমানে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে যেকোনও ইউরোপীয়, রুশ ও ভারতীয় লেজার-গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র। যে তালিকায় রয়েছে ডিআরডিও নির্মিত এয়ারফিল্ড-বিধ্বংসী স(SAAW) ক্ষেপণাস্ত্র। বর্তমানে বিশ্বে এটিই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জাহাজ-বিধ্বংসী মিসাইল।




%d bloggers like this: