বিষাক্ত মদপানে ১০ জনের মৃত্যু,গুরুতর অসুস্থ ৭

নিজস্ব প্রতিবেদন: মধ্যপ্রদেশের মোরেনা জেলায় বিষাক্ত মদ খেয়ে মৃত ১০, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ৭ জন। মদ খাওয়ার পরই ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়।

মঙ্গলবার স্থানীয় পুলিশ অনুরাগ সুজানিয়া জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সাত জনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।

তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা খুবই শোচনীয় হওয়ায় তাঁকে গোয়ালিয়র হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উক্ত ঘটনাটি ঘটে মোরেনার পৃথক দু’টি গ্রামে।

বিষাক্ত মদ খেয়ে পাহাওয়ালি গ্রামে ৩ জন এবং মনপুর গ্রামে ৭ জন মারা গিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে খবর, স্থানীয় ভাবে তৈরি ওই মদটির স্বাদ অম্ল। স্থানীয় বসিন্দারা মদ্যপানের পর গভীর রাত থেকে অসুস্থতা অনুভব করেন ও বমি শুরু করে।

সাথে সাথে তাদের একটি হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। যদিও জানা যায়, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই ১০ জন এবং মোরেনার হাসপাতালেও একজন মারা গিয়েছিলেন।

তারপরই এই ঘটনাকে ঘিরে গন্ডগোল বাধে। ময়না তদন্তের জন্য পুলিশ মৃতদেহ গুলি যেখানে পাঠায়, সেখানেও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা গিয়ে বিক্ষোভ সৃষ্টি করে।

অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি করেন। বেশকিছুক্ষন সেই বিক্ষোভ চলার পর পরিস্থিতি নযন্ত্রনে আসে।

মঙ্গলবার ভোরে মোরেনা জেলা হাসপাতালে কয়েকজন গ্রামবাসী ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেন। তারা জানান, স্থানীয় ভাবে তৈরি মদ এলাকায় সহজেই পাওয়া যেত এবং আবগারি দফতর ও পুলিশ কর্মকর্তাদের জানিয়েই এই মদ বিক্রি করা হত।

পুলিশ সব জানলে এই দুর্ঘটনা কীভাবে হল? এটাই তাদের প্রশ্ন। সেই বিষয় যদিও এখনই পুলিশ কিছু জানায়নি। জালিয়াতিযুক্ত মদের সঠিক উৎস খুঁজে পাওয়ার জন্য পুলিশ তদন্ত করছে।

অন্যদিকে, মোরেনা জেলার এক স্থানীয়ের দাবি, জালিয়াতি মদের সঙ্গে সক্রিয় ভাবে যুক্ত রয়েছে আবগারি ও পুলিশ বিভাগের আধিকারিকরা। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী পুলিশও।

বাগচিনি থানার অন্তর্গত দুটি গ্রামের বাসিন্দা সোমবার অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানান আইজি চাম্বল রেঞ্জ, মনোজ শর্মা।

বিষয়টি তদন্তের সময় ভুক্তভোগীদের একজন পুলিশকে জানিয়েছিল, মদ সরবরাহকারী এজেন্ট মুকেশ কিরার তাঁদের সাদা রঙের একটি তরল খাওয়ার জন্য দিয়েছিল। যেটা খাওয়ার পড়ি অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। যদিও স্থানীয় ভাবে কি এই মদ তৈরি করা হয়েছিল নাকি কোনও মদের দোকান থেকে কেনা হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনোও তদন্ত চলছে।

জানা গিয়েছে, যারা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তাদের মধ্যে অনেকের বমি বমি ভাব রয়েছে এবং শরীরে কম্পন দিতে দেখা গিয়েছে। পরিস্থিতি নাগালের বাইরে যেতে দেখলে তাদের দ্রুত জেলা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হাসপাতালে যখন আরও অনেককে আসতে দেখা গেল, তখন তাঁদের থেকে জানা যায় তাঁরা সকলেই ওই সাদা রঙের তরল পদার্থ পান করেছেন।




%d bloggers like this: