দুর্গাপুরে করোনার ভ্য়াকসিন নিয়ে অসুস্থ ৩, আতঙ্ক গ্রাস করছে স্বাস্থ্য়কর্মীদের!

রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জী, পশ্চিম বর্ধমান : দুর্গাপুরে করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লেন তিন স্বাস্থ্যকর্মী। তিনজনকেই পর্যবেক্ষণ রাখার জন্য দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে এই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিল্পাঞ্চলে। জানা গিয়েছে, অন্যান্য দিনের মতোই এদিনও দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে করোনার টিকাকরণ কর্মসূচি চলছিল। এদিন দুর্গাপুরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও কুড়ুরিয়া ডাঙ্গা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী দীপা গড়াই ভ্যাকসিন নেওয়ার পরই অসুস্থ বোধ করেন।

সঙ্গে সঙ্গে শিবিরে উপস্থিত চিকিৎসকেরা তাকে পরীক্ষা করেন ও দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। চিকিৎসক সূত্রে জানা গিয়েছে দীপাদেবী ডায়াবেটিসের রোগী, তিনি ইনসুলিনও নিতেন। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী পূর্ণিমা হাজরা ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিধানপল্লী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী মল্লিকা দাসও ভ্যাকসিন নেওয়ার পর অসুস্থ বোধ করেন। দুজনেরই মাথা ঘোরাতে শুরু করে। জানা গিয়েছে দুজনেরই উচ্চরক্তচাপজনিত সমস্যা রয়েছে। তাদেরকেও পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই ঘটনার পর কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে টিকাকরণ। খবর পেয়ে শিবিরে হাজির হন জেলা স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিক থেকে দুর্গাপুর নগর নিগমের আধিকারিকেরাও। জেলা অতিরিক্ত স্বাস্থ্য আধিকারিক কেকা মুখোপাধ্যায় শিবিরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে বলেন, “প্যানিক অ্যাটাকের জেরেই তিন জন অসুস্থ হয়েছেন। শিবির চলবে।” প্রায় ঘণ্টাখানেক বন্ধ থাকার পর ফের চালু হয় শিবির। যদিও দুপুর দুটোর পর আতঙ্কে আর কেউ ভ্যাকসিন নিতে আসেননি। এদিন মোট ৩১ জন ভ্যাকসিন নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে অসুস্থতরা ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অশ্বিনী মাজি। তিনি বলেন “যে কোনও ভ্যাকসিন নেওয়ার পরই কিছু উপসর্গ দেখা দিতেই পারে।”

তবে পশ্চিম বর্ধমান জেলায় এমনিতেই ভ্যাক্সিন নিতে খুব একটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর। জেলাতে প্রতিদিন মোট ৬০০ জনকে ভ্যাক্সিন দেওয়ার কথা থাকলেও কোনও দিনই ৬০০ জন স্বাস্থ্য কর্মী ভ্যাক্সিন নিতে উপস্থিত থাকছেন না। জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর প্রথম দিন ভ্যাক্সিন নিয়েছেন ৩২৬ জন। পরেরবার ৩৯৪ জন ও ১৯ তারিখে ৩৭৩ জন ভ্যাক্সিন নিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে ভ্যাকসিন নিয়ে কোনও ভয় কাজ করছে জেলার স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে। এরইমধ্যে আবার তিনজন অসুস্থ হয়ে পড়ায় জেলার স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের কপালে দেখা দিয়েছে চিন্তার ভাঁজ।




%d bloggers like this: