স্বামীকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ স্ত্রী বিরুদ্ধে

0 1


পবিত্র সরকার, চাপড়া: শ্বশুরবাড়ি থেকে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে শুক্রবার ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিল নদীয়ার চাপড়া থানার হাতিশালা গ্রামে। ওই ব্যক্তিকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মৃতের আত্মীয়রা। তাদের অভিযোগের আঙুল ওই ব্যক্তির দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই ওই ব্যক্তির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ওই ব্যক্তির নাম ইজারুল শেখ (৩৭)। সাত বছর আগে ইজারুল শেখের প্রথম পক্ষের স্ত্রী মারা যান। ইজারুল শেখের প্রথম পক্ষের তিনটি মেয়ে রয়েছে। যদিও নিজের বাড়িতে তিন মেয়েকে তাদের ঠাকুমার কাছে রেখে দেওয়ার পর ইজারুল শেখ হাতিশালা গ্রামের বিউটি বিবিকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় পক্ষেরও একটি সন্তান রয়েছে ইজারুল শেখের। তবে প্রথম পক্ষের তিন সন্তানের সঙ্গে ইদানিং কোনো সম্পর্ক ছিল না ইজারুল শেখের।

কান্নায় ভেঙে পরেছে ইজারুলের মেয়েরা
দ্বিতীয় পক্ষে বিয়ে করার পর ইজারুল থাকতেন তার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর বাড়িতেই। কর্মসূত্রে অবশ্য মাঝে মধ্যে বাইরে যেতেন ইজারুল। তার প্রথম পক্ষের বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছিল আগেই। শুক্রবার রাতে চাপড়ার ছোট আন্দুলিয়ায় ছোট মেয়ে সীমার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। অথচ শুক্রবারই ইজারুল শেখের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয় তার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর বাপের বাড়ি থেকে।

প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, কোন কারণে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে ইজারুল শেখ। যদিও ইজহারুলের নিকটাত্মীয়দের অভিযোগ, “ইজারুলের চোখে মুখে অনেক কাটা দাগ রয়েছে। ইজারুল শেখকে খুন করা হয়েছে। খুনের ঘটনায় সম্পূর্ণভাবে দায়ী তার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী” পুলিশের কাছে এমনই অভিযোগ করেছেন ইজারুলের ভাইপো।

সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইজারুলের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী বিউটি বিবিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু করেছে। যদিও বিয়ের দিনই বাবার মৃত্যুর কারণে আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে ইজারুল শেখের ছোট মেয়ের বিয়ে। চাপড়া থানার পুলিশ অবশ্য ইজারুলের মৃত্যু কিভাবে হয়েছে, তা জানার জন্য ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে

Leave A Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: