লাদাখে শীত থেকে ভারতীয় জওয়ানদের রক্ষা করবে স্মার্ট তাবু, কি রয়েছে দেখে নিন

নিজস্ব প্রতিবেদন: শীতের মরশুম শুরু। আম নাগরিকের কাছে এটি পছন্দের ঋতু হলেও যাঁরা বর্ডারে দাঁড়িয়ে দেশের জন্য লড়াই করে চলেছেন, তাঁদের কাছে এই ঋতু সত্যি কষ্টদায়ক। হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় হিমশিম খেতে হয় সেনাদের। এরূপ অবস্থায় পূর্ব লাদাখে জওয়ানদের থাকার জন্য অত্যাধুনিক তাঁবুর বন্দোবস্ত করল ভারতীয় সেনা। এই শীতে যাতে কাউকে কোনও সমস্যায় পড়তে না হয়, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করলেন ভারতীয় সেনা। জানা গিয়েছে, বিশেষ এই তাঁবুতে ২৪ ঘণ্টা গরম জল, বিদ্যুৎ-সহ সব ধরনের সুযোগ সুবিধে রয়েছে। জওয়ানদের কর্মদক্ষতা নিশ্চিত করতে এই বিশেষ বন্দোবস্ত। বুধবার সেনার তরফে জানানো হয়েছে, ‘শীতের লাদাখে মোতায়েন জওয়ানদের কর্মদক্ষতা নিশ্চিত করতে, ভারতীয় সেনার তরফে পর্যাপ্ত বন্দোবস্ত করা হয়েছে।’ স্মার্ট তাঁবু তৈরি করা হয়েছে লাদাখে মোতায়েন সকল জওয়ানদের জন্য। তাঁবুর ভিতরে বিদ্যুৎ ও জলের ব্যবস্থা রয়েছে। সাথে তাবু সর্বদা গরম রাখার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তাঁবুগুলিতে জওয়ানদের স্বাস্থ্য ও স্বচ্ছতার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে ৷

প্রায় প্রতি বছর লাদাখ নভেম্বর মাসে মোটা বরফের চাদরে ঢেকে যায়। লাদাখের সৌন্দর্য বরফে ঢেকে যায়। এই ‘শীতল মরুভূমি’ জুড়ে ৪০ ফুট পর্যন্ত বরফ পড়ে। মাইনাস ৩০-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে তাপমাত্রার পারদ নেমে যায়। এরূপ অবস্থায় জোয়ানদের সেখানে থেকে দেশকে সুরক্ষিত রাখার কাজ খুব কঠিন হয়ে পরে। এরূপ অবস্থায় লাদাখ বসবাসের জন্য পুরোপুরি অযোগ্য হয়ে ওঠে। দেখা যায়, সাধারণত শীতে সেভাবে সেনা মোতায়েন করে না ভারত বা চিন, কোনও পক্ষই। কিন্তু বর্তমানে লাদাখে সীমান্তে যেরূপ অশান্তির সৃষ্টি হয়েছে, এমন অবস্থায় সেই স্থানে সেনাদের থাকা খুবই জরুরি। তাই সেনারা যাতে সেখানে থেকে দেশ রক্ষা করতে পারে তার জন্য বিশেষ এই সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সম্প্রতি কিছু ঘটনা থেকে স্পষ্ট ‘সম্প্রসারণবাদী’ বেজিং-এর বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে সেনা সরানোর মনোভাব নেই। তাই নয়াদিল্লিও নিজের অবস্থান থেকে সরতে নারাজ।

এই শীতে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (LAC) চিনা আগ্রাসনের জেরে লাদাখেও উত্তেজনার পারদ চড়ছে। যেকোনও মুহূর্তে চীন আক্রমণ করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। কারণ প্রতিবার বৈঠক শেষে নিয়ম লঙ্ঘন করতে দেখা গিয়েছে চিনকে। চিন ক্রমশ তার সীমা লঙ্ঘন করেছে। পাল্টা জবাব দিয়েছে ভারতও। পূর্ব লাদাখের প্যাংগং লেক, দেপসাং উপত্যকার মতো স্পর্শকাতর জায়গাগুলি থেকে এখনও সরতে রাজি নয় চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA)। তাই চিনকে জবাব দিতে প্রস্তুত ভারতীয় সেনারাও। চিনের চোখে চোখ রেখে লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর বাড়তি সেনা মোতায়েন করেছে ভারত।তাই এই শীতে লাদাখ থেকে সেনা সরানোর কথা ভাবছে না ভারতও।

করোনা আবহের মধ্যেও চলতি বছর মে মাস থেকেই পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় ‘সম্মুখ সমরে’ ভারত ও চিন। প্রতিদিন সংঘাত লেগেই থাকত। সেই সংঘাত জুন মাসে চরমে পৌঁছয়। ১৫ই জুন গলওয়ান উপত্যকায় বিনা প্ররোচনায় ভারতীয় সেনার উপর চড়াও হয় পিএলএ। ভারত – চীন সংঘর্ষে এক কর্নেল-সহ ২০ জন জওয়ান শহিদ হন। ভারতও তার মোক্ষ জবাব দেয়। ভারতের পাল্টা গুলিতে চিনের প্রচুর জওয়ান প্রাণ হারান। যদিও বাজিং সেই সংঘাতে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা জানায়নি। উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরে দফায় দফায় বৈঠক চালাচ্ছে দু’দেশ। কিন্তু চিনের অনড় মনোভাবে সমাধানসূত্র এখনও অধরা। বৈঠকে রাজি হওয়ার পরই নিয়ম লঙ্ঘন করেছে বারংবার চিন। এই পরিস্থিতিতে চিনা সেনার পাশাপাশি লাদাখে ‘শীত-যুদ্ধ’-র জন্যেও প্রস্তুত বিশেষ সুরক্ষার সঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

অন্যদিকে শীতের শুরুতেই মর্মান্তরিক ঘটনা ঘটলো কাশ্মীরে। এদিন কাশ্মীরের কুপওয়াড়াতে নিয়ন্ত্রণরেখায় অবস্থিত সেনা পোস্টে হিমবাহ ভেঙে পড়ায় মারা গেলেন এক সেনা। এর সাথে সাথে আহত হন ২ জন সেনা। এই দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে ওই ৩ জনকে সেখানকার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়ে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে জানা যায়, তাঁদের মধ্য ১ জনের মৃত্যু হয়েছে ও বাকি ২ জন গুরুত্বর জখম অবস্থায় এখন চিকিৎসাধীনে রয়েছেন।




%d bloggers like this: