রান্নায় আনুন টুইস্ট, তৈরি করুন “সর্ষে চিংড়ি ভাপে”

0 1

সুমনা বাগচী,কলকাতা:
রান্না মানেই সব সময় একটু অন্যরকম স্বাদ নিয়ে আসার ভাবনা আমাদের মনে আসে। প্রত্যহ এক সবজি, বাজার, মাছ মাংস যা যা আমরা খাই, তার মধ্যে একটু টুইস্ট আনতে আমাদের ইচ্ছা করে।

কাল ফেরার পথে বাজার থেকে চিংড়ি মাছ নিয়ে এলাম। মাছ গুলো খুব বড়ো সাইজের নয়, তাই রোজকার ওই মালাই কারি কিংবা লঙ্কা বাটা দিয়ে মাখো মাখো ঝোল না বানিয়ে ভাবলাম, মায়ের বানানো ভাপে বানানোর কথা। আর ঠিক সেই সময় সেই ছোট্ট বেলার স্মৃতিতে ফিরে গেলাম। একান্ন বর্তী পরিবারের সুবাদে আমাদের বাড়িতে একটা বিশাল ভাতের হাঁড়ি ছিল। আর তার মধ্যে দুবেলা ১৫ জনের ভাত বানানো হতো। আর ঠাকুমা কে দেখতাম সেই বিশাল হাঁড়িতে একটা গোল টিফিন কৌটো তে মাছ, আর নানান মসলা মাখিয়ে ভিতরে রাখতেন। সত্যি বলতে সেই ভাপে রান্নার স্বাদ ভোলার না। এক অদ্ভুত সর্ষে , পোস্ত আর কাঁচা সর্ষের তেলের ঝাঁজ সাথে গরম গরম ভাত। সাথে কাঁচা লঙ্কার কামড়ে নাকের জল চোখের জলের সাথে তৃপ্তির ছোঁয়া।

সময় বদলেছে আর আমাদের ভাতের হাঁড়ি আর সেই আগের মতো নেই। ছেলে বেলার স্মৃতি রোমন্থন করে আজ বানিয়ে ফেললাম–

সর্ষে চিংড়ি ভাপে

উপকরণ:তিনশো গ্রাম ছোটো চিংড়ি মাছ, সর্ষে, পোস্ত বাটা আর নারকেল নিয়েছি সামান্য পরিমাণ, সর্ষের তেল আর পরিমাণ মত কাঁচা লঙ্কা ও নুন স্বাদ অনুযায়ী। খুব সামান্য পরিমাণে হলুদ নিয়েছিলাম।

প্রণালী:চিংড়ি মাছ খুব ভালো করে কেটে ধুয়ে নিয়েছি। আর কাঁচা ভাব টা না রাখার জন্য আমি খুব সামান্য তেল দিয়ে তাওয়া তে অল্প নাড়িয়ে দিয়েছিলাম। এরপর একটা স্টিলের টিফিন বক্সে, চিংড়ি মাছ, সর্ষে, পোস্ত ও কাঁচা লঙ্কা বাটা, সাথে সামান্য নারকোল বাটা, সর্ষের তেল পরিমাণ মতো, গোটা কাঁচা লঙ্কা ও সামান্য হলুদ দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিয়েছি। ভাপে দু ভাবে করা যায়। একটা পাত্রে গরম জল করে তার মধ্যে টিফিন বক্স টি রেখে একটা ঢাকনা দিয়ে ভাপে করা যায়। অথবা ভাত হবার ঠিক শেষ মুহূর্তে যখন ফ্যান ঝরানো হয়ে গেছে ঠিক সেই সময়ে টিফিন বক্সটি হাঁড়ির ভিতর রেখে দিতে পারেন।

আমি হাঁড়ির মধ্যে রেখে ভাপে তৈরি করেছিলাম। ভাত রান্না করার সময়, আমি হাঁড়ির মুখে রুটি সেঁকার লোহার জালটি রেখে তার উপর প্রথমে টিফিন বক্সটি বেশ কিছুক্ষন রেখে ছিলাম। যার মাধ্যমে ভাতের ধোঁয়া তে বেশ কিছুক্ষন টিফিন বক্স রেখে স্টিম দিয়েছি। আর ভাত হবার পর, খুব সাবধানে উপরের ভাত তুলে নিয়ে মাঝখানে বক্স টি বসিয়ে ভাপে রান্না করেছি। আর কৌটার মুখ খুলে এক চামচ সর্ষের তেল ছড়িয়ে দিয়েছিলাম।

বেশ অন্যরকম খেতে লাগলো। গরম গরম ভাত আর ভাপে চিংড়ি, বেশ স্বাদ হয়েছিল। তাছাড়া রান্না আমাদের ছেলে বেলার স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। কোনো কোনো রান্নায় কিছু প্রিয় জনের হাতের স্বাদ আবার পিছিয়ে নিয়ে যায়, সেই একসাথে সবাই মিলে বসে খাওয়ার স্মৃতিতে।

ভালো থাকবেন। ভালো রাঁধবেন আর মন ভালো রাখবেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: