বিষাক্ত পার্থেনিয়ামে ঢেকেছে রাস্তা, উপায় নির্মূলে নেই কোনো সরকারি পদক্ষেপ

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : জলপাইগুড়ি জেলার ধুপগুড়ি ব্লকের বানারহাটের তোতাপাড়ার রাস্তার দু’ ধারেই ছেয়ে গেছে বিষাক্ত পার্থেনিয়ামের আগাছায় ।
তোতাপাড়া চা বাগানের রাস্তা একটি জনবহুল রাস্তার তালিকার মধ্যে পরে । এই রাস্তা দিয়েই মঙ্গলকাটা, কলাবাড়ি, শিকারিপাড়া এবং নাথুয়া থেকেও বেশ কিছু সংখ্যক মানুষ প্রতিদিন বিভিন্ন কাজের সূত্রে যাতায়াত করেন । এই গাছের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এক বিশাল এলাকার হাজার হাজার মানুষ ।
তবে পার্থেনিয়াম গাছের বিষয়ে অনেকেরই সেরকম কোনো ধারণা না থাকায় এলাকার মানুষ গাছটিকে নির্মূল করার জন্য কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি ।
ধনে পাতার গাছের মতো দেখতে ছোট ছোট সাদা ফুলে ভর্তি সুন্দর এই গাছটি মানুষের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর ।
এটি মূলত একটি বর্ষজীবী বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ । এই গাছের বিজ্ঞানসম্মত নাম পার্থেনিয়াম হিস্টেরোফেরাস ।
পার্থেনিয়াম গাছে রয়েছে পার্থেনিন নামক ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান এবং এক ধরনের টক্সিন বা বিষ বলা যেতে পারে । যা মানুষের শরীরের পক্ষে ভীষণ ক্ষতিকারক ।
তবে আগাছাটি জন্মসূত্রে সূর্যমুখী পরিবারের অন্তর্ভুক্ত বলে জানা যায় ।
শুধু বানারহাটেই নয় ধুপগুড়ি ব্লকের প্রায় বিভিন্ন এলাকায় এই পার্থেনিয়াম গাছের দেখা মেলে । তবে নিঃশব্দেই ভীষণ ভাবে মানুষের ক্ষতি করে চলে এই গাছটি তা অনেকেই বুঝতে পারছেন না ।
পার্থেনিয়াম এমনই একটি উদ্ভিদ যেটি মানুষের শরীরের কোনো অংশে অথবা হাতে, পায়ে লাগলে প্রাথমিক অবস্থায় সেই অংশ বা হাত, পা চুলকোতে শুরু করে পরে ত্বকে ক্যানসার পর্যন্তও সৃষ্টি করতে পারে ।
শুধু তাই নয়, পার্থেনিয়াম গাছটি এতোটাই ক্ষতিকারক, যে এর প্রভাবে মানুষের মধ্যে অ্যাজমা অথবা হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস, অত্যন্ত জ্বর, এবং নানা ধরনের অ্যালার্জির মতো বিভিন্ন উপসর্গ সৃষ্টি হতে পারে ।
কলাবাড়ি থেকে বানারহাটগার্মী রাস্তায় এই সাইলেন্ট কিলার গাছটিকে নিয়ে যেভাবে মানুষ দৈনন্দিন কাজকর্ম করছে ।
তাতে বিশাল একটি এলাকার মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ।




%d bloggers like this: