চলুন যাই ঘুরে দেখি তিলোত্তমা কলকাতা

0 1


অনুপ কুমার পাল ,এসপ্লাস নিউজঃ কলকাতার কথা ভাবলেই মনের ক্যানভাসে ভেসে ওঠে টানা রিক্সা, হলদে ট্যাক্সি কিংবা ট্রামের শব্দ। ঐতিহ্যে ঠাসা শহর এই কলকাতা। মহিনের ঘোড়াগুলি যেমন সুরের রথ টেনেছে, তেমনি চলচ্চিত্রে উত্তম সুচিত্রার সুনিপুণ অভিনয় । কলকাতার বুকে বসে কবিগুরু তাঁর অনবদ্য সৃষ্টি করে গেছেন যা অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে আজীবন।

কি আছে কলকাতার ইতিহাসেঃ
ঐতিহাসিক শহরের তালিকায় কলকাতা বেশ পুরোনো ৷ বলা যায় এটি তৎকালীন বন্দর গুলোর মধ্যে অন্যতম ৷ ১৬৯০ সালে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর এজেন্ট জন চার্নক ব্যাবসার স্বার্থে এই জায়গাটা নির্বাচন করেন কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে। তার জন্য সুতানুটি, গোবিন্দপুর আর কলিকাতা নামে তিনটি গ্রাম কিনে নেন তৎকালীন জমিদারদের কাছ থেকে বাৎসরিক ৩০০০ টাকার বিনিময়ে। ১৭৭২ সালে কলকাতাকে করা হয় ভারতের রাজধানী। সব অফিস মুর্শিদাবাদ থেকে স্থানান্তরিত হয় কলকাতায়। সমগ্র ভারতবর্ষে কলকাতার গুরুত্ব বেড়ে যায়।

এবার দেখে নেয়া যাক কলকাতার বিশেষ দর্শনীয় স্থান ৷

ভিক্টোরিয়া

এ বিশ্ব বিশ্বাসে আছে টিকে
ভালোবাসা ছাড়া বাকি সব ফিকে।
হ্যাঁ , এটি কলকাতার প্রেম উদ্যান। যেখানে আপনি আপনার প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন ।
এখানে রয়েছে পুকুর ও সারি সারি গাছ, তার ঠিক মধ্যেই রয়েছে ব্রিটিশ স্থাপত্য – ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। ২৫ টি গ্যালারি সমৃদ্ধ এই অট্টালিকায় আরও রয়েছে হস্তশিল্পের ও বিভিন্ন এন্টিক নিদর্শনাবলী।

কফি হাউস

মান্না দের সেই বিখ্যাত গান , ‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’ । ঐতিহ্য মন্ডিত এই কফি হাউজ। প্রায় সব বয়সী মানুষের দেখা মিলবে এখানে। ভেতরের নিয়ন আলোর ছটায় যেন মনে করিয়ে দেয় প্রাচীনতা। কফি কাটলেটের স্বাদের মাত্রা ভিন্ন। সকাল সন্ধে যখন খুশি আড্ডায় মজে যেতে পারেন। আর যদি আড্ডার সঙ্গী বা সঙ্গিনী থাকে তাহলে তো কথাই নেই।

জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি

আপনি হয়তো আধুনিকতায় সুর মেলাতে পারছেন না। মনে বাজছে প্রেমের প্রাচীন সুর । বিরহ , সুখ আর ভালোবাসায় মন বেবাগী। চলে আসুন জোড়াসাঁকো। রবীন্দ্রনাথের জন্ম ,বাল্যকাল, যৌবন কৈশোর এর স্মৃতি জড়িয়ে আছে । জাদুঘরের মতই পুরো বাড়িতে সংরক্ষিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথের সমগ্র সৃষ্টিকর্ম।

হাওড়া ব্রিজ

কলকাতায় শুনেছি নদী আছে । শুনেছি একটা কি যে বড় ব্রিজ আছে । কিন্তু কই? চিন্তার কোন কারন নেই । চলে আসুন হাওড়া। হুগলি নদীর উপর ব্রিটিশ রা সেই আমলে তৈরি করে ক্যান্টিলিভার ব্রিজ। যা বিশ্বের দরবারে ষষ্ট দীর্ঘতম। লঞ্চঘাটে নেমে এসে নৌকা ভাড়া করে কিছুটা সময় সমস্ত ঝঞ্জাট ঝেড়ে ফেলে প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যেতে পারেন।

মার্বেল প্যালেস

কারূকাজ ও স্থাপত্য শৈলি দেখতে চাইলে চলে আসুন মার্বেল প্যালেস। নিখুঁত কাজে ভরে উঠেছে সবটা। উনিশ শতকের স্থাপত্য এর মধ্যে এটি অন্যতম । কলকাতার গর্ব।
পরবর্তী পর্বে আসছে কলকাতা নিয়ে বিশেষ চমক ৷ চোখ রাখুন ৷

Leave A Reply

Your email address will not be published.

%d bloggers like this: